সাধ আছে কবি হব।নিপীড়িত,বঞ্চিতদের অভিমান কলমের ডগা থেকে বের হয়ে ধ্রুবতারার মত দৃশ্যমান হবে, দেখবে সবাই।
একরাশ সাদা কাগজ উড়ে আসে, বলে- বারবার কবিতার নামে কলমের কালিতে কলঙ্ক আঁকা হয়েছে আমাদের শরীরে,আর না।কবি হতে চাও? আঙুল কাট তবে, লাল রক্তে লিখে দাও অবিনাশী কবিতা।আমরা জরির কাজ করা জামার মত গায়ে পরে শোভাযাত্রায় বেরুব,প্রদক্ষিন করব পুরোটা পৃথিবী,দেখুক সবাই ।ধমনীতে যেদিন ঝড় উঠবে তোমার খবর দিও।অপেক্ষায় থাকলাম।
কবি হওয়া সে বড্ড কঠিন, আমি বরং প্রেমিক হই।
হৃদয় দলিল করে লিখিত দিতে হবে তবে। আমি ভাংচুর করব সেখানে, যখন ইচ্ছে যেমন ইচ্ছে।হৃদয় ভেঙে টুকরো করে হাতের তালুতে কড়ি খেলব। হৃদয় নিংড়ানো টকটকে লালা কখনো পায়ের আলতা, কখনোবা সিঁথির সিঁদুর হবে।চিঠি দিও যদি কখনো খুঁজে পাও সেই দুঃসাহসী হৃদয়টাকে- প্রেমিকা বলে।
তবে প্রেম নয় আমি ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধে যাব, আনব শান্তি।
ইতিহাস বুক খুলে বলে, দেখতে পাও? যুগে যুগে শান্তির নামে অবিরাম যুদ্ধ হয়ে মৃতের পাহাড় গড়েছে শুধু। একদল বলে এভাবেই শান্তি অন্যদল বলে, না ওভাবে অনিয়ম। অন্যদল বলে এভাবে শান্তি একদল বলে মানিনা, আক্রমন..................,ফায়ার……………।যুদ্ধক্ষেত্রে ধূলো মেখে পড়ে থাকে তোমার মত অযুত সৈন্যের গলিত শব, ওড়ে মাছি, ওড়ে শকুন আর আমাদের কাগুজে শরীর থেকে ওঠে মাংসপঁচা গন্ধ, শুঁকে দেখ।
মানুষ হই তবে।
তাবৎ মহাদেশের সাড়ে ছয়শ কোটি উন্নত প্রাণ ভেংচি কাটে একসাথে।তাদের সম্মিলিত অট্টহাসির শব্দোত্তর তরঙ্গ কানের পর্দা ফাটিয়ে দিয়ে মগজে গিয়ে বিঁধে যায় সূক্ষ্ম সূঁচ ফলার মত, নাকে মুখে ফিনকিধারায় রক্ত ওঠে।
কেউ তখন ফিসফিস করে কানে কানে বলে, কেন অযথা ভাবছ? চিরকাল এভাবেই চলেছে, এভাবেই নিয়ম।খাও-দাও, ঘুমাও,বংশবৃদ্ধি কর বংশধরদের শিখিয়ে দাও ভাল থাকার এই একমাত্র সরল সূত্র।তারপর বিছানায় শুয়ে মরে যাও।এভাবেই যে সুখ, এভাবেই জীবন।
তাই হোক।তবে তাই হবে।প্রতিজ্ঞা করলাম আজ থেকে সুখে বেঁচে থাকব নশ্বর যাপিত জীবন নিয়ে ফার্স্ট ব্রাকেটে বন্দী নির্ভুল সূত্র হয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



