
লাওস ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা অনেকদিনের। এক বন্ধুর উপহার দেয়া ছয় লক্ষ লাওশিয়ান কিপ পাওয়ার পর থেকেই ইচ্ছাটা মনে জাগে। কমদামে প্লেন টিকিটের অপেক্ষায় ছিলাম। বছরের শুরুর দিকে এয়ার এশিয়ার প্রমোশনাল অফার পেয়ে গিয়ে ষোলকলা পূর্ণ হল। নেট ঘেটে দেখলাম ভিয়েন্তিয়েন, মানে লাওসের রাজধানীকে বোলা হয় বিশ্বের সবচাইতে ধীরগতির শহর। এখানকার মানুষের তেমন একটা তাড়াহুড়া নেই বল্লেই চলে। সকাল ৯-১০ টার আগে কেউ বাইরে বের হয় না, সবকিছুতেই ধীরস্থিরতা। ভাবলাম আমার মত অলস মানুষের জন্য এর চেয়ে আনন্দের জায়গা আর কি হতে পারে?
যাই হোক, ভিসা টিকিট কোরা হয়ে গেলে যথারিতী উড়াল দিলাম। এয়ার এশিয়ার 'কাবালি বিরিয়ানি' আগেই বুকিংএর সময় কিনে নিয়েছিলাম, খেয়েদেয়ে ২ ঘন্টা ৫০ মিনিটেই ভিয়েন্তিয়েন এয়ারপোর্টে পৌছে গেলাম। যথারীতি বাংলাদেশী পাসপোর্টের জন্য ইমিগ্রেশানে হাল্কা ঝামেলা পোহাতে হল, ইমিগ্রেশানের যাবতীয় ফর্মালিটি শেষ করে বাইরে এসে অবাক হোয়ে দেখলাম, এতো ছোট এয়ারপোর্টও হয়?

যাহোক, যেহেতু আগেই প্ল্যান করেছিলাম কোনরকম ট্যাক্সি বা প্রাইভেট ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করব না, তাই পাব্লিক ট্রান্সপোর্টের খোজে মূল রাস্তার দিকে এগুতে লাগলাম।
প্ল্যানমাফিক প্রথম কাজটি ছিলো ঐতিহাসিক মেখং নদীর ধারে যেকোন একটা হোটেলে উঠব, তাই বড় রাস্তায় গিয়ে টুকটুকে উঠে বসলাম। যারা থাইল্যান্ডে গিয়েছহেন তারা এই যানবাহনটার সাথে পরিচিত হয়েছেন। ট্যাম্পোর মত অনেকটা। এদের বেশীরভাগই ইংরেজী জানেনা, তাই হাতের ইশারায় কাজ করতে হয়।

এখানকার রাস্তাঘাটে তেমন ট্র্যাফিক জ্যাম নেই, যদিও বাংলাদেশের মত সবখানেই ধুলোবালি ।

যে গেস্ঠাউজে উঠছহিলাম, তার মালিক মনে হয় আগের জন্মে স্কুলের শিক্ষক ছিলো, সব কিছুতেই জরিমানার বিধান।


শেষ বিকেলে মেখং নদীর ধারে, নদীর ইপাড়ে লাওস, ওপাড়ে থাইল্যান্ড।



খুব অল্পদামে এরা রাস্তার উপ্রেই বডি ম্যাসাজ শুরু করে, সাথে ম্যানিকিউর,

এখানকার জাতীয় বিয়ার মনে হয় বিয়ার লাও। এরা বলে বেরলাও। দামে সস্তা, সবাই পানির মত খায়

ঘুরতে ঘুরতে একটা বাংলা এবং একটা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট পেয়ে গেলাম।

অচেনা শহরে সমুসা আর লাচ্ছি খাওয়ার মজাই আলাদা

পরেরদিন বুদ্ধা পার্ক, ঠাত লুআং সহ আরো গোটা কয়েক মন্দির দেখতে দেখতে চোখে খিল ধরে গেল। যেদিকে তাকাবেন মন্দির আর মন্দির






এখানে কেনাকাটার তেমন কোন ব্যাবস্থা নাই বল্লেই চলে। স্থানীয় লোকজন বড় কোন শপিং মলের ঠিকানাই জানেনা, ওরা স্থানীয় বাজার থেকেই সব কেনেকাটা করে। প্রচুর দরদাম করতে হয় সব জিনিসে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


