1.
আমার প্রোফাইলে পরিচিতি দিছি ূ"অনলাইন বুদ্ধিজীবী"। সেইটারে ধইরা মাননীয় হরিপদ কেরানী (নামটা পছন্দ হইছে আমার) বলছেন, ব্রাত্য ভাই, আপনার "অনলাইন বুদ্ধিজীবী" আইডিয়াটা মন্দ না। তবে বুদ্ধিজীবী শব্দটার সঙ্গে কেমন যেন একটা নাদান নাদান ভাব আছে।
2.
হরিপদ ভাই, (আমারে ভাই না বললেও অসুবিধা নাই) বুদ্ধিজীবীর নিজের বুদ্ধিজীবীত্ব সম্পর্কে যে নিরবতা ওইটার মইধ্যে নাদানত্ব আরো বেশি। দেখবেন অনেকেই আছেন যারা বুদ্ধিজীবীত্ব ধারণ করেন কিন্তু মুখে বলেন না। অন্যে বড় বলবেন সেই আশা। এখন আমার মত নাদাইন্যা যদি বুদ্ধিজীবী নামের লেঙ্গুর ও লেঙ্গট (ধন্যবাদ রাসেল ডট ডট) ধারণ করে তখন যারা সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী ওনারা ওনাগো মর্যদা বাঁচানের জন্য এই উপাধি বা পরিচিতি বর্জন শুরু করবেন এমন একটা ছোট আশা আমার আছে।
আমার ধারণা ভণ্ড বা হাফ বুদ্ধিজীবী ক্ষতি করতে পারে না তেমন। আসল বা ধাড়ি বুদ্ধিজীবীরা সেইটা পারে।
যে কোনো সমাজে বুদ্ধিজীবীরা সাধারণত অন্য শ্রেণীগুলিরে চাপা দিয়া মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কালচার ও শিক্ষারে উপরে তুইলা ধরতে তৎপর থাকে। মধ্যবিত্তের পয়সা কম বইলা এনাগো বুদ্ধিজীবীরা বুদ্ধি খরচা কইরা মর্যাদা কায়েম করতে চায়। দেখবেন প্রধানমন্ত্রী দাওয়াতে গিয়া ব্যবসায়ীগো থিকা যে হেগো মান সম্মান বেশি এই রকম একটা ভাব কইরা বইয়া থাকে। সাংবাদিকরাও আইজকাল বুদ্ধিজীবী হইয়া উঠতেছেন।
3.
ওনাদের নিয়া (মানে আমাদের নিয়াই) বুদ্ধিজীবীদের কথা খুব শুনতে ইচ্ছা করতেছে বইলা আমার একটা কবিতা আছে। সেইটা এই অবসরে কায়েম করতে চাই :
মিডিয়াম বুদ্ধিজীবীদের কথা আমি অনেক শুনেছি
ভারি বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কিছু বলুন এবার
ভারি বুদ্ধিজীবীরা খুবই বুদ্ধিজীবী, রাশভারি -
কথা বলে কম
হাসিতে অক্ষম
তৃণভোজী। মুলা খায়। শাকসব্জি খায়।
রাতেই ঘুমায়।
জাগে ভোরবেলা। সকলে যা জাগে।
কোথাও কিচ্ছুটি হলে
আগে আগে ভাগে। রাগে -
যেখানে সম্ভব রাগ। তা না হলে
ঝামেলা এড়িয়ে চলে। নিরাপদ দূরত্ব থেকে
সঠিক বিবৃতি ছাড়ে - লক্ষ্যবস্তু বাদ দিয়ে আশেপাশে লাগে
অথচ তাতেও তৃপ্ত, রাশভারি, কথা বলে কম
হাসিতে অক্ষম
তৃণভোজী, শান্তি চায়, শাকসব্জি চায়
দিলে খায়, না দিলে ঘুমায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


