আমার প্রিয় পোস্ট
- পাহাড়ি নিপীড়িত জনগোষ্ঠির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বায়ত্তশাসন দাবীর প্রশ্নে শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন অংশের রঙ বে রঙের জোড়াতালি তত্ত্বের বিপরীতে একটি বিশ্লেষণ। - মনজুরুল হক
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ১ম পর্ব - রাগ ইমন
- সমূদ্র বক্ষে তেল/গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ব্যয় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কে স্বচ্ছ করার প্রয়াস। - ভিন্ন চিন্তা
- সভ্য বিশ্বের নতুন ডাম্পিং গ্রেভইয়ার্ড-চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি > জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ে মানুষ আর প্রকৃতির নিদারুন বিপর্যয়!! - মনজুরুল হক
- সাগর বক্ষে গ্যাস ব্লক ইজারার উদ্দেশ্য গ্যাস সংকট মোকাবেল না রফতানি? - ভিন্ন চিন্তা
- বাংলাদেশে তেল/গ্যাস অনুসন্দ্ধানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিত। - মনোয়ার আহমদ
- বিদেশিদের কাছে বঙ্গোপসাগরে ব্লক ইজারার প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের চিত্র - অণৃণ্য
- পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্থানে অন্তর্ভুক্ত হলো যেভাবে : ইতিহাসের পথ ধরে একটি বিশ্লেষণের চেষ্টা - পড়ুয়া_পড়ুয়া
- টিপাইবাঁধ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ ও ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র বিচার - ৫/শেষ পর্ব - আবু নাঈম
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- বাংলাদেশের জনশক্তি ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার আইন - ফকির ইলিয়াস
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়/ প্রতি শ্রদ্ধেয় দিন মজুর - বিহংগ
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ৪ - অনিশ্চিত
- পুঁজিবাদের থাবা,সমাজতন্ত্রের বাঁধা আর ভাষা দিবসে পুতুলের ধাঁধাঁ! - পুতুল
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ১ - অনিশ্চিত
- দিনমজুরের পোস্ট ধরে সন্ধ্যাপ্রদীপের পোস্ট ,সেখানেই আমার উপলব্ধি,উপলক্ষ সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়। - বিহংগ
- বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্রই একমাত্র পথ ?? - সন্ধ্যাপ্রদীপ
- মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মাল্টি ডাইমেনশনাল প্রফিট ও আমাদের হতভাগা দেশের লাভ (একটি সহজ-সরল হিসাব) - বহুরূপী মহাজন
- ছাত্ররাজনীতি বা লেজুরবৃত্তির রাজনীতি বন্ধ করিলে কি হইবে??? - অেমাঘ অনল
- টপরেটেড পোস্ট লেখার বুদ্ধি পাইছি-- গ্রামীণ আর সব মোবাইল কোম্পনীগো গালি দিমু - কেএসআমীন
টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ
২০ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৫:০৫
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিশাল হিমালয় এবং বরাক অববাহিকা অঞ্চলের প্রকৃতির উপর পরাশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে উদগ্রীব ভারতীয় পুজি এবং আন্তর্জাতিক পুজির মুনাফা-নজর পড়েছে। লোভাতুর পুজি কখনো প্রকৃতি বোঝেনা, দীর্ঘ মেয়াদী বিবেচনা বোঝেনা, ঐতিহ্য সংস্কৃতি বোঝেনা। পুজি কখনো জীব বৈচিত্র-পরিবেশ-প্রতিবেশকে মূল্য দিতে শেখেনি, টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব অনুধাবন করতে চায়নি। এই পুজি সাধারণ গণমানুষের জীবন-জীবিকার মৌল স্বার্থকে প্রধান বিবেচনায় ঠাই দিতে শেখেনি। পুজি হচ্ছে একচক্ষু দানব, পুজি বোঝে শুধু মুনাফা। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে প্রকৃতিক সুবিধা ব্যবহার করে জলবিদ্যুত প্রকল্পের মাধ্যমে ষাট হাজার মেগাওয়াটেরও বেশী বিদ্যুত নির্মাণ করে তা দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এনার্জি গ্রিড তৈরীর মধ্যদিয়ে বিশাল এক মুনাফা বাণিজ্যের আয়োজন করে চলেছে উদগ্র ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক পুজি। বিশেষত: বরাক নদীকে ব্যবহার করে উত্তর-পূর্ব ভারতের মণীপুর রাজ্যে টিপাইমুখ অঞ্চলে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উতপাদনের প্রকল্পটি হচ্ছে ঐ বিশদ পরিকল্পনারই একাংশ মাত্র১ যার খেসারত দিতে হবে আসাম-মণিপুর-মিজোরাম রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং বাংলাদেশের জনগণকে।
বুঝে শুনে যদি কেউ বিষ না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পুজি কি করে - হয় মধু কিংবা চিনি মিশিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে তা গিলিয়ে দেয় কিংবা তার মতামতের কোন তোয়াক্কা না করে তার সামনে দিয়ে কিংবা পেছন দিয়ে যেভাবেই হোক সেটা ঢুকিয়ে দেয়। টিপাইমুখ বাধের ক্ষেত্রে ভারতীয় পুজি উভয় উপায়ই অবলম্বন করছে মণিপুরের বেলায় আর দ্বিতীয় পদ্ধতি প্রয়োগ করছে বাংলাদেশের উপর। অথচ টিপাইমুখ বাধ একই সাথে কাপ্তাই আর ফারাক্কার ভূত;মণীপুর বাসীর কাছে যা কাপ্তাইয়ের মত,বাংলাদেশের কাছে তা আরেক ফারক্কা।
মণিপুরবাসীর নাকের ডগায় বিদ্যুত উতপাদনের মূলা:
আসামের কাছার অঞ্চলের মৌসুমি বন্যা প্রতিরোধের নামে মনিপুরের ২৭৫.৫০ বর্গকি.মি এলাকার ১৬টি গ্রাম পুরোপুরি ডুবিয়ে এবং আরও ৫১টি গ্র্রামকে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ করে ৪০ হাজারেরও বেশী মানুষের জীবন জীবকা ও ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ধ্বংস করার পরিকল্পনা মনিপুরবাসী কখনই মেনে নেয়নি। ফলে মনিপুরের বরাক নদীর উপর বাধ নির্মানের স্থান ক্রমশই পরিবর্তিত হতে থাকে- ১৯৫৫ সালে ময়নাধর, ১৯৬৪ সালে নারায়নধর এবং তার পর ভুবন্দর এবং সবশেষে ১৯৮০’র দশকে তুইভাই এবং বরাকনদীর সংগম স্থলের ৫০০ মিটার ভাটিতে টিপাইমুখে বাধ নির্মানের পরিকল্পনা করা হয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো প্রথমে বাধটি ব্রম্মপুত্র ফ্লাড কনট্রোল বোর্ড বা বিএফসিবি’র আওতায় থাকলেও ১৯৮৫ সালে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ১৯৯৯ সালে বাধটিকে নর্থ ইষ্টার্ণ ইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন বা নেপকো’র হাতে দিয়ে দেয়া হয়২ এবং তখন বাধটির নাম টিপাইমুখ হাই ড্যাম থেকে পরিবর্তিত হয়ে টিপাইমুখ পাওয়ার প্রজেক্ট এ পরিবর্তিত হয় যদিও বিদ্যুত উতপাদনকে মুখ্য উদ্দেশ্যে পরিণত করার লক্ষে বাধের ডিজাইনে কোন পরিবর্তনই করা হয়নি যেকারণে আগে বাধের যে উচ্চতা(১৬৮.২ মিটার) ও লোড ফ্যাক্টর (২৬.৭৫%) আছে এখনও তাই আছে। এর মানে হলো বছরের কোন এক সময়ের সর্বচ্চো বিদ্যূত উতপাদন ক্ষমতার অর্থাত ১৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মাত্র ২৬.৭৫% অর্থাত ৪০১.২৫ মেগাওয়াট বিদ্যূত সারাবছর ধরে পাওয়া যাবে। এটা নাকি মনিপুরবাসীর জন্য বিদ্যুত প্রকল্প (বর্তমানে যুগে তো ৬০% এর নীচে কোন হাইড্রোইলেক্ট্রিক প্লান্ট এর ডিজাইন-ই করা হয়না!) যার মাত্র ১২% বিদ্যূত অর্থাত ৪৮ মেগাওয়াট পাওয়া যাবে বিনামূল্যে।৩ ফলে যতই ঘরে ঘরে বিদ্যূতের মূলা ঝোলানো হউক না কেন, সারা বছর ধরে ৪৮ মেগাওয়াট মাগনা বিদ্যুতের বিনিময়ে জল-জীবন-জীবিকা-পরিবেশ-সংস্কৃতি ধ্বংসের প্রকল্পের বিরুদ্ধে তামেলং ও চারুচাদপুরের হামার এবং জেলিয়াংরং নাগা আদিবাসী গোষ্ঠী সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ মণিপুরবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
জলবিদ্যুত, বন্যা নিয়ন্ত্রণ কিংবা সেচ প্রদান ইত্যাদি ঘোষিত উদ্দেশ্যের বাইরে রয়েছে বিশাল ও সম্পদশালী কিন্তু স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে অস্থিতিশীল উত্তরাঞ্চলের জলজ শক্তি, গ্যাস, ইউরোনিয়াম ইত্যাদির উপরে দেরী হয়ে যাওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একই সাথে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বাসনা। টিপাইমুখ বাধ সেই পরিকল্পনারই অংশ। মনিপুর বাসীর জন্য বিদ্যুত উতপাদনের সুফলের কথা বলে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারী টিপাইমুখ বাধের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার এবং মনিপুর রাজ্য সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও খোদ মণিপুরবাসী সহ বাধের উজান এবং ভাটির উভয় অঞ্চলের জনগণের তীব্র বিরোধীতার মুখে এখনও নির্মাণ কাজ শুরুকরতে পারেনি। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অধিনস্ত আধাসামরিক বাহিনী আসাম রাইফেলস বাধ রক্ষণাবেক্ষণের ঘোষণা দিলেও কাজ হয়নি। সবশেষ, ২০০৮ সালের ২৮ জুলাই রাজ্য সরকার আইন পাশ করে টিপাইমুখ বাধের নির্মান কাজের প্রয়োজনে নির্মাণ সামগ্রী আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহ্রত মনবাহাদুর রোডের ৯৯ কিমি দূরত্বের প্রতি ৭ কিমি অন্তর সামরিক পোষ্ট স্থাপন করেছে।৪
বাংলাদেশের জলপ্রবাহের উপর প্রতিক্রিয়া:
বহুমুখী টিপাইমুখ বাধ প্রকল্পের কাজ হবে মূলত তিন ধরনের- আসামের কাছার অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ প্রদান এবং বিদ্যুত উতপাদন। বরাক নদীর উজানে এ তিনটি কাজের জন্য বাধ নির্মাণ মানেই হলো ভাটির পানি প্রবাহের পরিমাণের পরিবর্তন ঘটা: জলসেচের জন্য নদীথেকে পানি প্রত্যাহার করে নালা বা খালের মাধ্যমে আসামের কৃষি জমিতে সেচ প্রদান, জলবিদ্যুত উতপাদনের জন্য নূন্যতম একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার পানি নীচের দিকে প্রবাহিত করে তার গতিশক্তি ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরানোর প্রয়োজন হয় বলে অতিরিক্ত পানি জমিয়ে রাখা- ফলে শুকনো মৌসুমে ভাটির দিকে পানি প্রবাহের হ্রাস এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্ষা মৌসুমে সময়ে সময়ে জলাধারের পানি ছেড়ে দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলে পানির উচ্চতা স্বাভাবিক রাখা ইত্যাদি প্রকৃয়া চলবেই। ফলে প্রয়োজনের সময়ে ভাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কম পানি পাবে আর যখন প্রয়োজন থাকবেনা তখন ভারতের ছেড়ে দেয়া পানিতে জলমগ্ন হবে মেঘনা অববাহিকা!
ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং এর গবেষণায় এই পানির পরিমাণ বাড়া-কমার একটা হিসাব পাওয়া গেছে: টিপাইমুখ বাধ যখন পূর্ণ কার্যক্ষম থাকবে তখন বরাক নদী থেকে অমলসিধ পয়েন্টে সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনা নদীর দিকে পানি প্রবাহ জুন মাসে ১০%, জুলাই মাসে ২৩%, আগষ্ট মাসে ১৬% এবং সেপ্টম্বর মাসে ১৫% কমে যাবে। কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা অমলসিধ স্টেশনে কমবে জুলাই মাসের দিকে গড়ে ১ মিটারেরও বেশী আর ফেঞ্চুগঞ্জ, শেরপুর ও মারকুলি স্টেশনে কমবে যথাক্রমে ০.২৫ মিটার, ০.১৫ মিটার এবং ০.১ মিটার করে। অন্যদিকে একই সময়ে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা সিলেট এবং কানাইয়ের ঘাট স্টেশনে কমবে যথাক্রমে ০.২৫ মিটার এবং ০.৭৫ মিটার করে। এ তো গেল ভরা মৌসুমের চিত্র। শুকনো মৌসুমে বরাক-সুরমা-কুশিয়ারা থেকে পানি প্রত্যাহারের হার আগষ্ট মাসে ১৮% এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১৭% ।৫
প্লাবন পদ্ধতি এবং প্লাবন-ভূমির উপর প্রভাব:
বরাক নদী অমলশিদ নামক স্থানে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর নদীগুলো ৫টি প্লাবন ভূমি অতিক্রম করে মেঘনায় গিয়ে মিশেছে। প্লাবন ভূমিগুলো হলো: পুরোনো মেঘনা সংলগ্ন প্লাবন ভূমি, পূর্বাঞ্চলীয় সুরমা-কুশিয়ারা প্লাবনভূমি, সিলেট প্লাবনভূমি, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাইডমন্ট অববাহিকা এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ী এলাকা। উজানে বাধ নির্মানের ফলে এসব প্লাবনভূমির প্লাবনের ধরণ, মৌসুম এবং পরিমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুরমা ও কুশিয়ারার প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ শুস্ক করার ফলে কমপক্ষে ৭ টি জেলা- সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাম্মনবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার ধান উতপাদন ব্যহত হবে- যে জেলাগুলোতে দেশের উল্ল্যেখযোগ্য পরিমাণ ধান উতপাদন হয়।৬
এর মধ্যে সিলেট ও মৌলভীবাজার এলাকাতেই প্লাবনভূমির পরিমাণ কমে যাবে যথাক্রমে ৩০,১২৩ হেক্টর(২৬%) এবং ৫,২২০ হেক্টর( ১১%)। বাধ নির্মাণের পর থেকে সুরমা-কুশিয়ারার উজানের ৭১% এলাকাই আর স্বাভাবিক মৌসুমে জলমগ্ন হবে না। কুশিয়ারা নদী প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তার ডান পাশের প্লাবনভূমি হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। শুকনো মৌসুমে কুশিয়ার বাম তীরে কুশিয়ারা-বরদাল হাওর পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে। কাউয়ার দিঘী হাওর এর ২,৯৭৯ হেক্টর( ২৬%) জলাভূমি হারাবে।৭ ফলে সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনা অববাহিকার বিশাল অঞ্চল জুড়ে চাষাবাদের জমি, জমির উর্বরতা, মাটির উপরের ও মাটির নীচের পানির স্তর, পুকুর-হাওর-বাওড়, মাছ, জলজ উদ্ভিদ, গোচারণ ভূমি ও পশুখাদ্যের প্রাপ্যতা সবমিলিয়ে সমস্ত জলবায়ু, বাস্তসংস্থান এবং জীবন জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধন হবে।
ভূমিক্ষয় এবং ভূ-প্রকৃতির উপর প্রভাব:
টিপাইমুখ বাধের ঠিক নীচ থেকেই ভূমিক্ষয়ের পরিমাণ মারত্মক রকম বেড়ে যাবে এবং এই ক্ষয়ের এলাকা বাধ থেকে ১০০/১৫০ কিলোমিটারের ও ভাটি অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।৮ ফলে নদীর এই বিশাল মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক ভূমিক্ষয়ের ফলাফলস্বরুপ ভাটি অঞ্চলের নদীরবুক পলিতে ভরাট হয়ে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর গতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হবে। বর্ষার আগে পরে নদীর বুকে এই পলিজমাটের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বেশ কিছু শাখা নদীর মুখ বন্ধ করে দেবে। ফলে একদিকে কিছু অঞ্চলে যেমন একেবারেই পলিজমাট পড়বে না অন্যদিকে কিছু অঞ্চলে নদীরবুক ভরাট হয়ে বর্ষাকালে পানি ধরে রাখতে না পারে অস্বাভাবিক বন্যার কবলে পড়বে।
আবার নদীর পানির স্তর নীচে নেমে গেলে মেঘনা অববাহিকা এলাকার লবণাক্ততা বেড়ে যাবে। লবণের উপস্থিতির কারণে সমুদ্রের পানির চাপ নদীর স্বাদু পানির তুলনায় বেশী হয়। ফলে সমউচ্চতার সমুদ্রের পানির স্তর থেকে সমউচ্চতার নদীর পানির স্তরের দিকে লবণাক্ত পাণির প্রবাহ হয়। তার উপর যদি নদীর স্বাভাবিক পানির পরিমাণ আরো কমে যায় তাহলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি আরো বেশী করে আরো বেশী এলাকাকে লবণাক্ত করে ফেলে। টিপাইমুখ বাধের ফলে নদীর পানির স্তর নীচে নেমে গেলে এবং মাটির নীচের ওয়াটার টেবিলের উচ্চতা কমে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাবে।
বাধের জলাধারের প্রভাবে ভূমিকম্প প্রবণতার বৃদ্ধি:
বাধের জলাধারে যে বিপুল পরিমাণে পানি জমা করা হয়, বাধের ভিত্তি ভূমি এবং এর আশপাশের শিলাস্তরের উপর তার চাপের পরিমাণও হয় ব্যাপক। অল্প একটু অঞ্চলে এই বিপুল চাপ পড়ার কারণে ইতোমধ্যেই ঐ অঞ্চলে থাকা শিলাস্তরের ফাটলকে সক্রিয় করে তুলতে পারে। এই ঘটনাটি কখনও তাতক্ষণিক ভাবে বাধ চালু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে কিংবা শুকনো ও ভরা মৌসুমে চাপের কম বেশী হতে হতে বাধ চালুর অনেক পরেও হতে পারে। এ প্রকৃয়ায় মাটির নীচের সচ্ছিদ্র শিলাস্তরের ফাকে ফাকে জমে থাকা পানির যে স্বাভাবিক চাপ(porous pressure) থাকে তা বাধের পানির ভারে এবং শিলাস্তরে চুইয়ে যাওয়া বাড়তি পানির প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এ porous pressure বেড়ে যাওয়া ছাড়াও বাড়তি পানির রাসায়নিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কারণেও ফাটলের দুদিকের শিলাস্তর যা এমনিতেই টেকটোনিক ক্রিয়া-প্রতিকৃয়ার কারণে পরস্পর থেকে দুরে সরে যেতে চায় কিন্তু পরস্পরের মধ্যকার ঘর্ষনের শক্তির কারণে একত্রিতই থাকে, সেটা এবার আর বাড়তি চাপ সহ্যকরতে না পেরে চ্যূতি বা স্লিপ-স্ট্রাইকের সৃষ্টি করে- ফলে ভূমিকম্পের হাইপোসেন্টার সৃষ্টি হয়ে সেখান থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ছড়িয়ে পরে। জলাধারের প্রভাবে এভাবে কোন অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বলা হয় River Induced Seismicity( RIS)৯। এভাবে ভূমিকম্প বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম নজড়ে আসে ১৯৩২ সালে আলজেরিয়ার কুয়েড ফড্ডা বাধের ক্ষেত্রে। পরবর্তিতে এ পযন্ত বিশ্বের বিভিন্ন ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে এধরনের বাধের সাথে ভূমিকম্প বেড়ে যাওয়ার নজির পাওয়া গেছে কমপক্ষে ৭০টি।
ভারতের কাছে বিষয়টি অজনা থাকার কথা নয় কেননা এ যাবত কালে বিশ্বের সবচেয়ে তীব্র মাত্রার জলাধার প্রভাবিত ভূমিকম্প হয়েছে খোদ ভারতের মহারাষ্ট্রের কয়না বাধের কারণে। ১৯৬৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ঘটা ৬.৩ মাত্রার এই ভূমি কম্পটি এমনকি তার কেন্দ্র থেকে ২৩০ কিমি দূরেও তীব্র আঘাত হেনেছিল ।১০
এতসব জেনেশুনেও ভারত যে জায়গায় টিপাইমুখ বাধ নির্মাণ করছে সেটা হলো সারা দুনিয়ার মধ্যে ছয়টা ভয়ংকর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার মধ্যে একটা- উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলগুলো হলো হলো ক্যালিফর্নিয়া,জাপান, মেক্সিকো, তুরস্ক ও তাইওয়ান। টিপাইমুখ বাধের ১০০-২০০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে গত ১০০-২০০ বছরে পাচমাত্রা বা তারও বেশী মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ১০০’রও বেশী। দেখা গেছে ১৫০ বছরের মধ্যে টিপাইমুখের ১০০ কি.মি ব্যাসার্ধের মধ্যে ৭+ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ২টি এবং এর মধ্যে একটি তো হয়েছে ১৯৫৭ সালে টিপাইমুখ থেকে মাত্র ৭৫ কি.মি দুরে।১১ এ অঞ্চলটিতে এত বেশী ভূমিকম্পের কারণ হলো অঞ্চলটি যে সুরমা-গ্রুপ শিলাস্তর দ্বারা গঠিত তার বৈশিষ্টই হলো অসংখ্য ফাটল আর চ্যুতি। পুরো বরাক অববাহিকা এলাকাটিতেই রয়েছে অসংখ্য ফল্ট লাইন যা ঐ এলাকার নদী এবং শাখানদীগুলোর গতি প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাধের একেবারে অক্ষ বা axis টিই অবস্থিত হলো বহুল পরিচিত তাইথু(Taithu) ফল্টের উপর অবস্থিত যা সম্ভাব্য ক্রিয়াশীল একটি ফল্ট এবং ভবিষ্যতের যে কোন ভূমিকম্পের এপি সেন্টার হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া ভারত এবং বার্মার টেকটোনিক প্লেট এর সংঘর্ষের জন্য এলাকাটি দুনিয়ার অন্যতম একটি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। কাজেই এরকম একটি এলাকায় ১৬৮.২ মিটার উচ্চতার একটি জলাধার নির্মাণ করা মানে( জলাধারের উচ্চতা ১০০ মিটারের বেশী হলে River Induced Seismicity এর সম্ভাবনা বেশী থাকে) বাংলাদেশ ও ভারতের পুরো এলাকার জন্য সেধে ঘন ঘন ভূমিকম্প ডেকে আনা ছাড়া আর কি?
বাধ ভাঙার আশংকা এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া:
বাধের যে জলাধার ভূমিকম্পের প্রভাবক হিসাবে কাজ করে, সে ভূমিকম্পের ফলে আবার সেই বাধেরই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা ভেঙে যাওয়ার(Dam Break) সম্ভাবনা থাকে বেশী- আর বাধ ভেঙে যাওয়া মানে এর বাধের ভাটি অঞ্চলের জন্য সমূহ সর্বনাশ। ধরা যাক সমউচ্চতার দুটো ভবন পাশাপাশি অবস্থান করছে যার একটির ছাদে সুইমিং পুল আছে এবং অন্যাটির ছাদ ফাকা। এখন ভূমিকম্প হলে কোনটি বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে? যেবাড়ির ছাদে সুইমিং পুলভর্তি পানি আছে সেটা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা স্বাভাবিক অবস্থায় যে মধ্যাকর্ষন শক্তির কেবল লম্ব উপাংশটি বাড়ির ছাদের উপর বলপ্রয়োগ করে, ভূমি কম্পের ফলে পানির চলমানতার কারণে তার একটি সমান্তরাল উপাংশ তৈরী হবে যার পরিমাণ নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রানুসারে পানির ভর এবং ত্বরণের গুণফলের সমান। এই চলমানতা বা লাইভ লোড হওয়ার কারনে একই পরিমাণ পানি স্থির অবস্থার চেয়ে ভূমিকম্পের সময় অনেক বেশী পরিমাণ লোডে পরিণত হতে পারে।১২ বাড়ির ছাদের সুইমিং পুলের বিষয়টি বাধের বিশাল জলাধারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য- আর বাধ এলাকাটি যদি হয় টিপাইমুখের মতো ভয়ংকর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় তাহলে তো কথাই নেই!
কাজেই টিপাইমুখ এলাকায় একটি বাধ হলে ভূমিকম্পের ফলে তা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা যে প্রবল সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এখন প্রশ্ন হলো যদি বাধ ভাঙে তাহলে বাধের ভাটিতে ১০০ কি.মি দূরে অবস্থিত বাংলাদেশের কি হবে? এ প্রশ্নটি মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত ফ্লাড একশান প্লান ৬ (FAP6) এর আওতায় ১৯৯২-৯৪ সালে একটা গবেষণা চালানো হয়। সাধারণত বন্যার পানি ঘন্টায় ১০ কি.মি গতিবেগে প্রবাহিত হয়, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ঘন্টায় ৩০ কিমি বেগেও প্রবাহিত হতে দেখা যায়। গবেষণায় ১০ কি.মি গতিবেগের হিসাবে বাধ থেকে ৮০ কি.মি দূরের পার্বত্য উপত্যকা, ১৪০ কি.মি দূরের শিলচর এবং ২০০ কি.মি দূরের অমলশিধ এলাকায় পানি পৌছার সময়ের একটা হিসেব কষা হয়। ফলে দেখা যায়, বাধ থেকে অমলশিধ পৌছতে পৌছতে স্রোতের বেগ কমে এলেও ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে বাধের পানি মোটামুটি ৫ মিটার উচ্চতা নিয়ে হাজির হবে এবং ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে পানি তার সর্বোচ্চ উচ্চতা ২৫ মিটারের পৌছাবে যা প্লাবনভূমির উচ্চতারচেয়ে ৮ মিটার বেশী উচু ফলে প্লাবনভূমিকে ৮ মিটার পানির নীচে তলিয়ে রাখবে ১০ দিন বা তারচেয়েও বেশী সময় ধরে!১৩
আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির লংঘন:
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বন্টন যে চুক্তি হয় সে চুক্তির শুরুতেই ভারত- “উভয় দেশের সীমানার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত আন্তর্জাতিক নদ-নদীর পানির অংশীদ্বারিত্ব পারস্পরিক সমোঝতার মাধ্যমে করা এবং নিজ নিজ দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, নদী-অববাহিকার উন্নয়ন এবং জল-বিদ্যুত উতপাদনের ক্ষেত্রে উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক মঙ্গলের স্বার্থে জলসম্পদের সর্বোতকৃষ্ট ব্যাবহারের সদিচ্ছা”১৪ পোষণ করলেও বাস্তবে সব আন্তর্জাতিক নদ-নদীতো দূরের কথা ঐ চুক্তিতে উল্লেখিত হিসাব মতে বাংলাদেশেকে তার প্রাপ্য গঙ্গা নদীর পানিটুকু পর্যন্ত দিচ্ছে না। দুই দেশের মধ্যকার এই যৌথ চুক্তি তো ছাড় ভারত দুই দেশের মধ্যকার যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত হেলসেংকি রুল(লন্ডন, আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা,১৯৬৭) কিংবা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নদী ব্যাবহারের কনভেনশন(১৯৯৭) ইত্যাদি কোনটিরই তোয়াক্কা করছেনা- করলে বাংলাদেশকে না জানিয়ে, বাংলাদেশের জনগণের মতামত না নিয়েই টিপাইমুখ বাধ তৈরীর উদ্যোগ নিতে পারত না।
হেলসিংকি রুলের আর্টিক্যাল ২৯(২) অনুসারে:
একটি রাষ্ট্র নদী অববাহিকার যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, তার যে কোন প্রস্তাবিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং ইনষ্টলেশানের ব্যপারে নদী অববাহিকায় অবস্থিত অপর যে কোন রাষ্ট্র, এই কাজের ফলে অববাহিকায় ঘটা পরিবর্তনের কারণে যার স্বার্থহানী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ফলে আর্টিক্যাল ২৬ এ সংজ্ঞায়িত আইনি অধিকার বিষয়ক বিরোধ দেখা দিতে পারে, তাকে এ ব্যাপারে নোটিশ দিতে হবে। নোটিশে গ্রহীতা দেশটি যেন প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সম্ভাব্য ফলাফলের বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী থাকতে হবে।১৫
এবং জাতিসংঘের নদী কনভেশনের আর্টিক্যাল ১২ অনুসারে:
নদী অববাহিকায় অবস্থিত কোন রাষ্ট্র যখন অববাহিকায় অবস্থিত অপর কোন রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কোন পরিকল্পনার অনুমোদন দেয় কিংবা বাস্তবায়ন শুরু করে, তখন সেই রাষ্ট্রকে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ রাষ্ট্রগুলোকে আগাম নোটিশ প্রদান করতে হবে। এই নোটিশের সাথে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এর ফলাফল সহ ঐ দেশের হাতে থাকা সমস্ত ডাটা এবং তথ্যাবলী সর্বরাহ করতে পারে যেন গ্রহীতা দেশটি পরিকল্পিত কাজটির সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যাচাই-বাছাই করতে পারে।১৬
ভারত বহুবছর ধরে টিপাইমুখ বাধের পরিকল্পনা করছে এবং এমনকি ২০০৬ সালে বাধের ভিত্তি প্রস্তরও স্থাপন করেছে কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশকে এসব কিছুই জানায়নি। সম্প্রতি( ১৪ এপ্রিল,২০০৯) ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশংকর মেনন হুট করে ঢাকায় এসে বাংলাদেশকে আহবান জানিয়েগেছেন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করতে-কোন টেকনিক্যাল ডাটা নাই, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এর কাগজপত্র নাই- যেন টিপাইমুখ একটি পর্যটন প্রকল্প, গিয়ে পরিদর্শন করে এলেই হলো! ফলে উপরে উল্লেখিত আইনগুলোর আওতায় বাংলাদেশ ভারতকে বাধ্য করতে পারে প্রয়োজনীয় যাচাই বাছাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী দিতে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি হতে। অথচ বাংলাদেশের নতজানু শাসক শ্রেণীর সেদিকে কোন নজর তো নেই-ই বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথ ব্যবহারের চুক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক দ্বাসত্ব মূলক বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন এমনকি একের পর এক নতুন নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে!
প্রয়োজন সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ:
টিপাইমুখ বাধ ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদী পুজির নগ্ন আগ্রাসন যা প্রতিরোধের আন্দোলন ভারতের ভেতরে ও বাইরে উভয় দিক থেকেই চলছে। Citizen’s Concern for Dams and Development(CCDD), Hmar Students Association(HAS), All Tribal Students’ Association of Manipur(ATSUM), Action Committee of Tipaimukh(ACT)সহ আরো অনেকগুলো সংগঠন ভারতের ভেতরেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সংগঠন কখনও সিলেট কেন্দ্রীক কখনও রাজধানী কেন্দ্রিক আন্দোলন তৈরী করার চেষ্টা করছে। মুশকিল হলো বাংলাদেশের সংগঠনগুলোর একটা বড় অংশই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ কিংবা ধর্মীয় সাম্প্রাদায়িকতার সুরসুরি ব্যাবহার করে যার যার স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে যার ফলে ভারত এবং বাংলাদেশের ভেতরের আন্দোলনকে একসূত্রে গেথে জাতীয় পর্যায়ে নিজ নিজ শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার যে সম্ভাবনা সেটা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ প্রসংগে ভারতীয় অ্যাক্টিভিষ্ট নর্মদা বাধ আন্দোলনের নেত্রী মেধা পাটেকারের মতামতাটিকে আমরা সঠিক ও কার্যকর বলে মনে করছি:
“ – আমরা খুব ভালো ভাবেই অবগত আছি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে ফারাক্কা বাধ(১৯৭৪) কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে এবং বর্তমানে টিপাইমুখ বাধ কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। যখন শক্তিশালী দেশগুলো প্রচলিত কনভেনশনস মেনে চলতে অস্বীকার করে তখন এরকম সমস্যা হতে বাধ্য। জীবনের সাধারণ ইস্যুগুলোকে ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় সীমানা অতিক্রমকারী একটা আন্ত:সংগ্রাম গড়ে তোলার জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে।.... যেহেতু নদী কিংবা জলপ্রপাতের মতো ইকোসিস্টেমকে রাষ্ট্রীয় সীমানা দিয়ে ভাগাভাগি করা যায়না, তাই আমাদেরকে টেকসই উন্নয়নের নতুন পলিসি তৈরী করতে হবে। কিন্তু তার আগে প্রয়োজন ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলোর মধ্যে আন্ত:যোগাযোগ তৈরী করা যেন পরস্পরের মতামত এবং অভিজ্ঞাতার মিশেলে যৌথ শক্তি গড়ে উঠে।“ ১৭
পুনশ্চ:টিপাইমুখ বাধ নিয়ে ব্লগের আরও কিছু লেখা
এই ব্লগে টিপাইমুখ বাধ নিয়ে অনেকেই লিখেছেন, সেগুলোর সংকলনের প্রয়োজনীয়তার কথা এসেছে, কিরিটি রায়ের সৌজন্যে সেগুলোর কয়েকটির লিংক এখানে দেওয়া হলো। তবে এগুলোই শেষ নয় নিশ্চই। প্রয়োজনে আরও আপডেট করা যাবে। আর লেখাগুলো নেয়া হয়েছে কোন রকম বাছবিচার ছাড়াই অর্থাত লেখাগুলোর সবকথার সাথে একমত কি একমত নই এই বিচারের মধ্যে না গিয়েই লেখাগুলো দেয়া হলো:
এস এ মেহেদীর পোষ্ট: টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ নিয়ে পিনাক রঞ্জনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাই
Click This Link
পরিবর্তনবাংলা’র পোষ্ট: টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে সোচ্চার সিলেটবাসী
Click This Link
রাজনীতিক এর পোষ্ট: টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে পানিসম্পদ মন্ত্রীর ভারত তোষণ নীতি
Click This Link
রাজীব মিত্রের পোষ্ট: 'টিপাইমুখ বাঁধ' এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব
Click This Link
ইমন১৯২৪ এর পোষ্ট: টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ।
Click This Link
ভিন্ন চিন্তার পোষ্ট: প্রসঙ্গ : টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ।
Click This Link
ক্ষণজীবীর কবিতা পোষ্ট: টিপাইমুখ অতঃপর
Click This Link
কিরিটি রায়ের লেখা: টিপাইমুখ বাধ, পিনাক বাবুর আব্দার, আমাদের মান্যর মহোদয়ের বক্তব্য....হায় আইজদ্দিন!!! কি বিচিত্র এই সোনার ডিজিটাল স্বদেশ!!!!!
Click This Link
আগামী লিখেছেন: আমরা টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে
Click This Link
নীল সাগরের পোষ্ট: ভারতের কান্ড..
Click This Link
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ এর পোষ্ট: যত বড় বাঁধ, তত বেশি ক্ষতি
Click This Link
প্রপদ এর পোষ্ট: ভারতের সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসণ থেকে আমাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন!!! টিপাই মুখে বাঁধ নির্মানের প্রতিবাদে সংগঠিত হোন!
Click This Link
বাবু>বাবুয়া>বাবুই এর পোষ্ট: "তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি" .... প্রমাণ করতে হবে।
Click This Link
বাবু>বাবুয়া>বাবুই এর পোষ্ট: এক মূমূর্ষ মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন
Click This Link
ধীবরের লেখা: আমাদের মুখে তালা, হাতে পায়ে শেকল কেন?
Click This Link
তথ্যসূত্র:
১) বিতর্কিত টিপাইমুখ বাধ: সামগ্রিকতার নিরিখে- প্রাককথন, প্রকৌশলী হিলালউদ্দিন, পৃষ্ঠা-৭(২০০৬)
২) Hydropolitics of Tipaimukh Dam- Dr. R.K Ranjan
Click This Link
৩) Tipaimukh Dam is a Geo-techtonic Blunder of International Dimensions- part 2-Dr. Soibam Ibotombi
http://www.epao.net
৪) North East watch
Click This Link
siphro-npmhr-to-pm-of-india/
৫) “Gaining Public Acceptance (GPA)” for Large Dams on International Rivers: The Case of Tipaimukh Dam in India and Concerns in Lower Riparian Bangladesh
Click This Link Dam.doc
৬) বিতর্কিত টিপাইমুখ বাধ: সামগ্রিকতার নিরিখে- এম আনোয়ার হোসেন (২০০৬)- পৃষ্ঠা ১২, ১৬
৭) “Gaining Public Acceptance (GPA)” for Large Dams on International Rivers: The Case of Tipaimukh Dam in India and Concerns in Lower Riparian Bangladesh
৮) ঐ
৯) রমেশ চন্দ্র
Can Dams and Reservoirs Cause Earthquakes?
Click This Link
১০) Silenced Rivers: The Ecology and Politics of Large Dams,
by Patrick McCully, Zed Books, London, 1996
১১) Tipaimukh Dam is Geo-techtonic Blunder of International Dimensions- part 1-Dr. Soibam Ibotombi
http://www.epao.net
১২) Tipaimukh Dam site Highly Vulneable to Earthquakes- ড.মো.আলি আকবর মল্লিক
No to Tipaimukh Dam(২০০৭) পৃ:৯৬
১৩) Tipaimukh Dam is Geo-techtonic Blunder of International Dimensions- part 2-Dr. Soibam Ibotombi
http://www.epao.net
১৪) Ganga Water Treaty-Water Resources Management in Bangladesh- M. Inamul Haque- page 369
১৫) Helsinki Rules- Water Resources Management in Bangladesh- M. Inamul Haque- page 403
১৬) Water Course Convention- Water Resources Management in Bangladesh- M. Inamul Haque- page 411
১৭) Praxis Journal- Vol 1 No 1 Oct-Dec, 2003, No to Tipaimukh Dam(২০০৭) পুস্তকে উদ্ধৃত, পৃ:১০৫
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): টিপাইমুখ বাধ, Tipaimukh Dam ;
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৯ রাত ১১:২০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রপদ বলেছেন:
ধন্যবাদ, লেখাটি দেয়ার জন্য।
সহমত। এবং প্রিয়তে।
চাই আন্তসংযোগ। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু হবে না।
পোষ্ট টি ষ্টিকি করা হোক।
বাবু>বাবুয়া>বাবুই বলেছেন:
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ বিশদ বিবরনের জন্য। আগেও কেউ কেউ এরকম তথ্য বহুল পোষ্ট দিয়েছেন আমরা জেনেছি অনেক কিছুই, কিন্তু দুঃজনক হলো আমাদের মন্ত্রি মহোদয়েরা এ বিষয়ে এখনও না জানার ভান করছেন। আমতা আমতা করে বলেন এতে দেশের তেমন ক্ষতি হবে না। প্রচন্ড জোরে ঝাঁকুনি না দিলে জেগে ঘুমানো এইসব বাটপার মন্ত্রিদের জাগানো যাবে না। তাই ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে প্রতিবাদ করতে হবে সমস্বরে যাতে ঝাকুনিটা জোরে দেওয়া যায়।কর্তৃপক্ষকে পোষ্টটি ষ্টিকি করার দাবী জানায়।
আগামি বলেছেন:
এমন একটা তথ্যবহুল পোস্টের অপেক্ষায় ছিলাম । ধন্যবাদ আপনাকে ।এটা আশা করি আমাদের সচেতনতা আরো বাড়াবে ।
পোষ্টটি ষ্টিকি করার দাবী জানাচ্ছি ।
অমলকান্তি বলেছেন:
পোস্ট টা স্টিকি করা হোক, রাজপথে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে।শুধু ব্লগিং করে পুজি'র আগ্রাসন থামানো যাবে না, আসুন রাস্তায় নামি।
দিনমজুর ভাই, কোন কর্মসূচী থাকলে জানাবেন, এখানে দয়া করে।
দিনমজুর ভাই, কোন কর্মসূচী থাকলে জানাবেন, এখানে দয়া করে।
শয়তান বলেছেন:
রেটিং দেয়া হয়ে গেছে আগেই । দুঃখিত ।আমাটা এক্সট্রা ধরে নিয়েন ।
দিনমজুর বলেছেন:
@অমলকান্তি, কিরিটি রায়আমি খবর পেলে আমি জানাবো আর আপনারা পাইলে দয়া করে আপনারা জানাবেন...
@দিনমজুর ভাই.... এ পযন্র্ত সামুতে প্রকাশিত টিপাইমুখ বাধের উপর লেখাগুলোর লিংক কি আপনার লেখার শেষে যোগ করা যায়? ভেবে দেখবেন।
তাতে আন্ত সংযোগ এবং সমস্তটার এক বিশাল আর্কাইভ হিসেবে কাজটা চমৎকার হবে বলেই মনে হয়। যদিও বেশ খাটুনি যাবে। ..
বিডি আইডল বলেছেন:
ধন্যবাদ কর্তৃপক্ষের বিলম্বিত শুভ বোধদয়ের জন্যঅসাধারণ তথ্য সমৃদ্ধ লেখা, লেখাটির কপিরাইট লেখককে উন্মুক্ত করে দেবার অনুরোধ করছি..যাতে সবাই নানা জায়গায় শেয়ার করতে পারেন...কেউ কি কষ্ট করে ইংরেজীতে অনুবাদের কাজটা করবেন...বিশ্ব মিডিয়ায় তুলে ধরার একটা চেষ্টা করা যেত..
"বাংলাদেশের জলপ্রবাহের উপর প্রতিক্রিয়া:" এই অংশটাতে ফারাক্কার বর্তমান প্রতিক্রিয়ার সাথে আরো কিছু তথ্য আসা উচিৎ ছিল
লেখক বলেছেন: নীতিগত ভাবে কপিরাইট বা অন্য কোন ইন্টলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটসের সাথ একমত নই। কাজেই এ লেখার কোন অংশ কিংবা সম্পূর্ণটুকুই কেউ যদি অবিকৃত ভাবে ব্যবহার করেন তাহলে সাদর আমণ্ত্রণ । এই লেখাটিও কিন্তু তেমন অর্থে 'মৌলিক' কোন কিছু নয়- তথ্যসূত্র ব্যবহার দেখলেই দেখতে পাবেন। সুতরাং নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে থাকুন। যত বেশী লোকে পড়বে ততই কাজের কাজ হবে।
আর ফারাক্কার বিষয়টা আরো কিছু তথ্য দিলে হয়তো আরো ভালো হতো কিন্তু বিষয়গুলো ইতিমধ্যেই সুবিদিত বলেই আর সে দিকে যাই নি।
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ একটি পোষ্ট। ভবিষ্যতের জলকেন্দ্রীক আন্দোলনে প্রেরণা যোগাবে। লেখককে সংগ্রামী অভিনন্দন।
আশরাফ রহমান বলেছেন:
টিপাইমুখ বাঁধ সংক্রান্ত সকল পোস্টের লিংক এ পোস্টের শেষের দিকে দেয়ার প্রস্তাব করছি।
ত্রিভুজ বলেছেন:
চমৎকার একটা লেখার জন্য ধন্যবাদ।
সাজিদস্টার বলেছেন:
সকলের সম্মিলিত অবস্থান চাই, সামহোয়ারের ইদ্যোগে বিরাট আকারের র্র্যালী চাই ।
সময় খুব বেশী নাই।
সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ।
সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন বলেছেন:
আমার কয়েক বন্ধু একটি উদ্যোগ নিতে চেয়েছিলা। তার মধ্যে এহসান শুরু করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক। আর আপনাদের উদ্যোগের পাশাপাশি থাকব।
@দিনমজুর ভাই সামুর কনটেন্টে টিপাইমুখ সার্চ দিয়ে অনেক লিংক পেয়েছি..
কিছূ তুলে দিলাম। আপনি এক লিংকে সব গুলোকে গ্রন্থিত করলে আমরা সকলে যারপরনাই আনন্দিত হই....
পরে এই মন্তব্য খানা/ লিংক লিষ্ট মুছে দিতে পারেন।
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz
Click This Link
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/page/70
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/28949471
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajibmitra
Click This Link
Click This Link/page/60
Click This Link
এ জাতি অপেক্ষায়....
লেখক বলেছেন: @কিরিটি রায়
আমি খুবই দু:খিত অপেক্ষায় রাখার জন্য। আসলে আমার নেট একসেস নিয়ে সমস্যা ছিল।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে অনেক খাটা খাটনি করে লিংক গুলো জোগাড় করে দেয়ার জন্য। আমি অবশ্যই আমার লেখার শেষে লিংক গুলো যুক্ত করে দেব। তবে ভালো হয় যদি যাচাই বাছাই করে প্রতিটা সম্পর্কে কিছু মতামত রাখা যায়--- দেখি, আপাতত তো লিংক গুলা দেই--
সোজা কথা বলেছেন:
নিরপেক্ষ তথ্যসমৃদ্ধ পোষ্টটি দেশের কর্ণধারদের দৃষ্টিগোচর হোক। জলবিদ্যুতের জন্য কাপ্তাই কৃত্রিম বাঁধ ধ্বংশ করেছিল চট্টগ্রামের বিশাল বনাঞ্চল। ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল পাহাড়ি জনপদ। টিপাই এর চেয়ে ভয়াবহ সমস্যার কারণ হবে কোন সন্দেহ নেই। কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ অবশেষে টিপাইমুখ নিয়ে একটি পোষ্ট স্টিকি করার জন্য।
শুভ৭৭ বলেছেন:
দারুন লাগল। অনেক ধন্যবাদ।আমাদের কতিপয় মন্ত্রীর কথা শুনে মনে হয়, উনারা দেশপ্রেম ভুলে গেছেন। এত দালালী দেখলে গা জ্বলে।
দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছি, খরায় আক্রান্ত হাওরে ইলেকট্রিক চালিত লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ীতে চড়ে শাহ আবদুল করিমের উত্তরাধিকারীরা গাইবে, "আগে কি সুন্দর গান বানাইতাম!"
ধন্যবাদ ভাল লেখার জন্য। অনেক কিছু বিশদভাবে জানলাম।
কৌশিক বলেছেন:
গ্রেট।
বলুন তো কে আমি? বলেছেন:
ভালো পোস্ট।
লিপিকার বলেছেন:
তথ্যবহুল গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট.......
সুনাগরিক বলেছেন:
ধন্যবাদ।
আফতাব হোসেন বলেছেন:
ধন্যবাদ সুন্দর লেখার জন্য। দেশের সবাইকে একসাথে প্রতিবাদ করা উচিত। দেশ মরুভূমি হোক কেউ আশা করি তা চায় না। ফারাক্কার জন্য পদ্মা তো আর পদ্মা নেই। চির সবুজের বাংলাদেশ রক্ষায় সবার সচেতন হওয়া দরকার।
সোনার বাংলা বলেছেন:
শুধু চোখে অন্ধকার দেখতাছি.. এ দেশের মন্ত্রীরা বলে টিপাইমুখ বাধ দেশের কোন ক্ষতি হইবো না!!!!!!!!! এরা যদি দেশ বিরুদ্ধী ভাদাকার না হয় তাইলে আমগোরে আত্মহত্যা করা উচিত। তবে হাঁ(দিন মজুর) আপনাদের মতো প্রতিবাদী ভাইদের জন্য এ দেশের মানুষ এখনো বেঁচে। না হলে পিঁড়ার মতো পায়ে ঘইষা বহু আগেই এরা মাইরা পালাই তো।
নিচে দুই জন দেশ প্রেমিক মন্ত্রীর বয়ান টা একটু দেখুন....
আফসারুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, "ফারাক্কার সময় আর এখনকার সময় এক নয়। এখন দিন অনেক বদলেছে। বাঁধ দিয়ে ফারাক্কার মতো পানি আটকানোর চেষ্টা করা হলে আমরাও বিষয়টি দেখবো। তবে এ প্রকল্পে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না।"
তিনি জানান, সরকার নদীগুলোতে আসা পানি সংরক্ষণে নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে আর 'পানি আসলে বন্যা, আর না আসলে খরা' পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। এজন্য সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইতোমধ্যে ড্রেজার কেনার জন্য ১৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়াও আরো নয়টি ড্রেজার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, "টিপাইমুখে ভারত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করবে বলেই আমরা জানি। এখানে কোন বাঁধ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অবহিত নয়। যদি সেখানে কোন বাঁধ দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাবে।"
উপরে ২ মন্ত্রীর কথাই প্রমাণ,আর কিছু লাগে না,এদের সামান্যতম কাণ্ডজ্ঞানও লোপ পেয়েছে। বিশ্বাসঘাতক এদের বলবো না তো কাদের বলবো? এই মুহূর্তেই দরকার বিচক্ষণ আন্তর্জাতিক কূটনীতি,দরকার সংগ্রামের আন্তঃসংযোগ।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
শেষ পর্যন্ত সিকিম-ভূটানই হয়ে যাবো...
খলিল মাহমুদ বলেছেন:
প্রিয়তে নিলাম আগে।
অ্যামাটার বলেছেন:
ধন্যবাদ লেখাটার জন্য।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
ঠিক আছে বস।
যেকোনও পুঁজির আগ্রাসনই থামাতে হবে, এবং সেটা সমগ্রভাবেই, ক্ষীনস্বার্থের কথা না ভেবেই।
অরণ্যদেব বলেছেন:
দিনমজুরের পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। পোস্ট স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট।কিন্তু এখানে কয়েকজনের অতিরিক্ত ফালপাড়া দেইখ্যা অবাক হৈলাম। দিনমজুর নিজে কি, আর তার পোস্টে কারা ফালপাড়ে? আজিব বেপার!
এই ফালপাড়া লোকগুলানই কাইল দীপঙ্করের স্টিকি পোস্টে কইষ্যা মাইনাস দেয় নাই খালি, অকথ্য গালাগালিও কর্সে। তারাই আইজ বামপন্থী দিনমজুরের দুস্ত হৈয়া গেছে!
কি আজিব !!
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
হুমমমমমমমম.............ইংরেজী অনুবাদটা খুব দরকার.....
প্রতিরোধের বিকল্প নাই।
লেখক বলেছেন: অনুবাদ করা যেতে পারে-- সময় লাগবে যদিও-- কিন্তু অনুবাদ করে কোথায় কোথায় দেয়া যায়, বলেন তো?
নতুন স্বপ্ন বলেছেন:
যে কোন মূল্যে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে - মাওলানা নিজামীবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বলেছেন, বাংলাদেশকে ভাতে ও পানিতে মারার অংশ হিসেবেই ভারত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করছে। যে কোন মূল্যে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে । টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের এই অশুভ পরিকল্পনার বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনে গণ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি আজ বিকেলে ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
Click This Link
লেখক বলেছেন: টিপাইমুখ বাধ নিয়ে ভারতের ততপরতা তো আজকে থেকে চলছে না- নিজামী সাহেবেরা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ২০০৩ সালের জানুয়ারী মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং মনিপুর রাজ্যের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় এবং ২০০৬ সালে বাধটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করে ভারত- তখন নিজামী সাহেবেরা কোথায় ছিলেন? তখন কি টিপাইমুখ বাধ "বাংলাদেশকে ভাতে ও পানিতে মারার অংশ" ছিল না? নাকি ভারতের জুতার তলা চাটতে ব্যস্ত থাকার কারণে তখন এসব চোখে পড়েনি?
জামাতের কাছে টিপাইমুখ বাধ সাম্প্রদায়িক সুরসুরি তুলে যুদ্ধাপরাধী বিচারের ইস্যু থেকে গা-বাচানোর একটা উপলক্ষ বই আর কিছুই নয়।
প্রিয়তে ।
~~~~~~~~~~~~~~
মন্ত্রীরা কি কোন খবর রাখে না ?
অবাক হই নাই আসলেই । এত টাইম কই তাদের ।
লেখক বলেছেন: লাথি দিছি!
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
সম্মিলিত প্রতিরোধ ছাড়া আর কোন উপায় নাই।
টিপাই মুখী বাধের পরিকল্পনা রোধের চে কম গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার না এটা।
এই খানেই সমস্যা .. ভালো কোন কাজ করতে গেলে শুয়োরের পাল এসে জোটে ভাগের আশায়।
নিজামীর দালাল কে গদাম ।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
দেশে অভ্যন্তরীণ আন্দোলন এর মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে মনে হয় না কিসু হবে, কেঁচো মন্ত্রীগুলার মেরুদন্ড নাই। আন্দোলনে সে মেরুদন্ড গজানোর সম্ভাবনাও নাই। বরং ইংরেজিতে অনুবাদ করে জাতিসংঘ সহ বাইরের দেশগুলার নজরে আনা যেতে পারে। এই আইডিয়াটা কার্যকর মনে হইতাছে।
আর ঘরপোড়া আগুনে আলুপোড়া খাইতে আসা ছাগলদের দৌড়ের উপ্রেই রাখতে হবে।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
আমার পড়া বাংলায় লেখা কিছু ভালো প্রবন্ধের মধ্যে এটিও একটি। চমৎকার ভাবে পুরো পরিপ্রেক্ষিত ও বিষয়কে সকলের নজরে আনার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।এদেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করলে পুঁজির দানব পিছু হটতে পারে।
মেটালিফেরাস বলেছেন:
তথ্যবহুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। এটাকে ঘিরেই একটা আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে, তবে ব্লগীয় পরিমন্ডলে কী-বোর্ড ফ্যান্টাসী ছাড়া আর কিছুই হবে বলে মনে হয় না। তার উপর পোস্টটি বাইডিফল্ট জামাতী রাষ্ট্রদ্রোহীদের চিৎকারক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এটাই হবার কথা। এন্টি ভারত ক্যাম্পেইনে এরা সরব হবেই। জামাত আর তার দোসররা কিছুদিন মাঠ গরম করে নির্বাচনে হারার ক্ষোভ ভুলতে পারবে।আমাদের সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় ইস্যুটাকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তোলা। আর তা না করলে কোন লাভ হবে না। ভারত তার ভূখন্ডে তার স্বার্থরক্ষার কাজ করেই যাবে।অন্তত আরও তিনটি দেশকে এর সাথে জুড়ে নিয়ে প্রচার চালাতে হতো। তা কি পেরেছে বাংলাদেশ ? না পারেনি।
পারভেজ বলেছেন:
ধন্যবাদ, লেখাটি দেয়ার জন্য। জানিনা এই প্লাটফর্ম থেকে আদৌ কোন উপকার আসবে কিনা। তবু নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করে যেতে চাই।
প্যানুয়েল প্রিন্স বলেছেন:
ধন্যবাদ ভালো একটা পোস্টের জন্য। আমাদের আসলেই কিছু একটা করার সময় এসেছে।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
+++++++++++++++++টিপাই মুখী বাধ নিয়ে তথ্য সমৃদ্ধ পোষ্ট পড়ে খুব ভালো লাগল। লেখক কে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে ধন্যবাদ।
তবে লেখক একটা জিনিস লক্ষ্য করুন ক্ষুদ্র বা সংকীর্ণতা আমাদের নয় ভারতেরই সবচেয়ে বেশী। কারণ ভারতের নীতি নির্ধারকগণ ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ এখনও মেনে নিতে পারে নি। জনগণকেও এ ব্যাপারে মনমানসিকতা গড়ে উঠতে দেয় নি। ঠিক ভুট্টোর সরকার তথ্য গোপন করে ১৯৭১ এর ঘটনা এবং এ জন্যেই পাকিস্তানের জনগণের বড় অংশ আজও আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ কে সহজে মেনে নিতে পারে নি। তাই যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কথা বাদ দিলেও আমাদের সামনে আসিয়ানভূক্ত দেশগুলির দিকে তাকালে দেখা যাবে তাদের মধ্যে কত চমৎকার সম্পর্ক। যেমন মালয়শিয়া ও সিঙ্গাপুর যা ১৯৬০ এর দশকে তিক্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হওয়া। তারপরেও এই দুটি দেশের মধ্যে বর্তমান সম্পর্ক দেখে মনে হয় যেন তারা আপন ভাই ভাই। কিন্তু আমাদের এ উপমহাদেশ অঞ্চলে ভারতের চরম সংকীর্ণতা এবং গোয়ার্তূমির জন্য সার্ক বেশীদূর অগ্রসর হতে পারে নি। উদাহরণ স্বরুপ ভারত বাংলাদেশের মধ্যে করিডোর চেয়ে তার সেভেন সিষ্টার্স রাজ্যে যেতে চায় প্রায় ৩০০ মাইল অতিক্রম করে কিন্তু মাত্র ১৮-২০ মাইলের নেপাল-বাংলাদেশ ট্রানজিট দিতে চায় না। এ ভাবেই ভারত নেপালের সাথে পানি বন্টন চুক্তি করেছে সেখানে ভারত কড়ায় গন্ডায় নেপাল হতে নিজের প্রাপ্য পানি নিচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশ কে ফারাক্কা দিয়ে শুস্ক মৌসুমে ন্যায্য পানি দিচ্ছে না। ভারতের মতলব হল নিজে ষোল আনা অসুল করবে কিন্তু বাংলাদেশ কে সে দিবে না। আর দুঃখের বিষয় হল আওয়ামিলীগের অতিমাত্রায় ভারত ভক্তি তথা তাবেদারীর জন্য গোটা বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভারতের কাছে আমাদের দ্বাবী তুলে ধরতে পারছি না। যেমন ১৯৯৬ সালের শেষের দিকে হাসিনা-দেব গৌড়ার মধ্যে ৩০ বছর গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভূক্ত না করা। ঐ সময় বিএনপি, জাপা, জামাত সহ প্রায় সকল দল দ্বাবী জানিয়েছিল গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভূক্ত করতে। ফারক্কার ইতিহাস অনেকটা মহাকাব্যের মতন। কিন্তু প্রশ্ন হল যে ভুল আমরা ১৯৭৪ সালে ভারত কে পরীক্ষার করার অনুমতি দিয়ে করেছি সেই ভুল কি টিপাইমুখীর জন্য হবে না তার নিশ্চয়তা কি? ৩০ বছরের চুক্তির পরও বাংলাদেশ পদ্মায় ন্যায্য পানি পায় নি। যৌথ নদী কমিশন JRC এর বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ হতে বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ভারত বাংলাদেশ কে শুস্ক প্রাপ্য পানি দেয় নি। তাই ২০০৫ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোর্শেদ খান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফারাক্কার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন ঠিক যেমন ১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়া দিয়েছিলেন। র্দূভাগ্যের বিষয় হল মোর্শেদ খান বক্তৃতা দেওয়ার পরদিন সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রাজ্জাক তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে জোট সরকারের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেন। রাজ্জাকের এই প্রতিক্রিয়া প্রকৃতপক্ষে গোটা আলীগেরই প্রতিক্রিয়া। কারণ আলীগের দর্শন হল ভারত বাংলাদেশ কে মরুভূমিতে পরিণত করুক কিন্তু এর কোন প্রতিবাদ করা যাবে না। যদি বর্তমান মহাজোট সরকার বলে যে তারা ভারতের সাথে শুধু আলোচনা চালিয়া যাওয়ার কথা বললে কিছুই হবে না বরং ভারত নির্বিঘ্নে টিপাই মুখী বাধ তৈরির কাজ চালিয়ে যাবে। ভারত কে থামাতে হলে সরকারী ভাবে বাংলাদেশের জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতের দরজার কড়া নাড়তে হবে। তবেই ভারত বিচলিত হবে এবং তার ভাল মানুষের ইমেজ বহুলাংশেই ক্ষুন্ন হবে। তাতে যদি সে টিপাই মুখী বাধের নির্মাণ প্রকল্প ত্যাগ করে। নতুবা বৃহৎ দেশ হওয়ার কারণে ভারত মাস্তানি স্বরুপ কখনই টিপাই মুখী বাধের কাজ ত্যাগ করবে না। কারণ ইংরেজী তে একটি কথা আছে;
You can take a horse in to the water but you can not make it drink!
ভারত কে বাংলাদেশের একার পক্ষে এ ব্যাপারে টলানো সম্ভব নয়। এর জন্য অবশ্যই সারা বিশ্বের আন্তরিক সমর্থন প্রয়োজন। তবে সবকিছুর মূলে সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধতা যেমন মাওলানা ভাসানী করেছিলেন ফারাক্কা অভিমূখে লং মার্চের সময়। তাই যারা আলীগের সাধারণ সমর্থক তাদের উচিত হবে তাদের দলের ভারতীয় লবিষ্ট তথা কর্ণধারদের কে অগ্রাহ্য করে দলের উপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়। বাকী জনগণ আপনাদের সাথে আছে। বাংলাদেশের পরিবেশেরই যদি বিপর্যয় ঘটে তখন আমাদের সকলেরই জীবন ধারণ কঠিন হয়ে যাবে।
লেখক বলেছেন: প্রশ্ন আওয়ামী লীগ- বিএনপি- জামাতের নয়, আওয়ামী লীগ যেমন এখন ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সাম্রাজ্যবাদী ভারতের কাছে নতজানু ভূমিকা পালন করছে বিএনপি জামাত জোট সরকারও ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও একই কাজ করেছে- ২০০৩ সালের জানুয়ারী মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং মনিপুর রাজ্যের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় এবং ২০০৬ সালে বাধটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করে ভারত- তো বিএনপি জামাত আজকে যখন ভারতের সাথে যৌথ আলোচনা, আন্তর্জাতিক উদ্যোগের কথা বলছে-ত্খন ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারা নিজেরা কেন কোন উদ্যোগ নেয়নি?
শ্রেণী হিসেবে এরা যাদের প্রতিনিধিত্ব করে, ভারতের শাসকেরাও সেই একই শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী- তাদের উভয়েরই জাতীয়তাবাদ ব্যবহ্রত হয় পুজির স্বার্থে, মুনাফার স্বার্থে, অর্থ্যাত যতক্ষণ জাতীয়তাবাদ পুজির স্বার্থ রক্ষা করে ততক্ষণ এরা জাতীয়তাবাদী, কিন্তু যখনই পুজি বা মুনাফার স্বার্থের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে জাতীয় চেতনার তখন তারা স্রেফ জাতীয়তাবাদ ভুলে যায়--- কাজেই এদের একদলের জাতীয়তাবাদ যখন আরেক দল বা দেশের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে/কিংবা নিরব থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বুঝতে হবে ছদ্ম জাতীয়তা বাদের পেছনে আছে মুনাফার
ধান্দা- সেকারণেই পুজিবাদিদের জাতীয়তাবাদ সংকীর্ণ এবং টিপাইমুখ বাধের মতো বিষয় যেখানে দুই দেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্থ হবে- সেখানে স্রেফ জাতীয়তাবাদ বা ধর্মীয় সুরসুরি দিয়ে কাজ হবে না- চাই উভয়দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের শ্রেণী স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তির যৌথ সংগ্রাম।
সত্যান্বেষী বলেছেন:
'লোভাতুর পুজি কখনো প্রকৃতি বোঝেনা, দীর্ঘ মেয়াদী বিবেচনা বোঝেনা, ঐতিহ্য সংস্কৃতি বোঝেনা।'
মেটালিফেরাস বলেছেন:
শুরু হয়ে গেছে লিফলেট বিতরণ! এখন এই পোস্টটা জামাতের বুলেটিন হয়ে উঠবে। লেখকের অবিলম্বে কিছু কমেন্ট মুছে দেওয়ার দরকার।
লেখক বলেছেন: কমেন্ট না মুছে বরং পাল্টা কমেন্টের মাধ্যমে সেগুলোর ধান্দা এবং অসরতা দেখিয়ে দেয়াটাই মনে হয় বেশী জরুরী।
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন:
টিপাইমুখ বাঁধ নিষ্ঠুরতা ও দুর্বলের উপর সবলের আগ্রাসনের আরেকটি নাম। এই প্রকৃতিবিধ্বংসী বাঁধ তৈরীর পরিকল্পনা স্মরনাতীত কাল থেকে টিপাইমুখের ভৌগলিক সীমানায় বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর অস্তিত্তকে সম্পুর্ণ অগ্রাহ্য করেছে ভারত সরকার। তাদের কোন মতামত নেয়া হয়নি। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে থাকা টিপাইমুখের পাঁচশ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে বসবাসরত হ্মার জনগোষ্ঠির অস্তিত্ত, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে উত্তরপুর্বাঞ্ঝলের ছোট ছোট জাতিগোষ্ঠিগুলোর প্রতি ভারতের দীর্ঘকালের প্রতারনা, প্রবঞ্চনা ও দমননীতির কারণে। ক্ষুদ্র জাতির চিৎকার কেউ শুনতে পায়না। চিৎকারের মুল্য বা আবশ্যিকতা বিচার করা ভোটের অংক দিয়ে। তাই ১৯৮০ সাল থেকে মণিপুরীদের টিপাইমুখ বিরোধী আন্দোলন ও লড়াই শাসকগোষ্টিকে একফোটা টলাতে পারেনি। ভারতের অন্য কোন অঞ্চলে হলে এতদিনে সেখানে স্থানীয়-জাতীয়-আন্তর্জাতীয় পর্যায়ে দক্ষযজ্ঞ কান্ড ঘটে যেত।
তাই নিস্ফল আক্রোশে ক্ষোভে ও ঘৃনায় মাথানত করা ছাড়া আর কি করতে পারি? প্রকৃতিকে ধ্বংস করে যে সভ্যতা গড়ে তোলা হয়, সে সভ্যতার মুখে থুথু দেই।
নতুনের পথে অনন্ত যাত্রা বলেছেন:
লেখাটি অসম্ভব রকমের ভাল এবং সময় উপযোগী। কিন্তু আরও কিছু বিষয় যুক্ত করলে ভাল হত। যেমনঃ মেঘনা-সুরমা-কুশিয়ারার নাব্যতা বা পানি প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের নোনা পানি সমতল ভূমিতে প্রবেশ করবে। ফলে মটিতে লবনাক্ততার পরিমান বেড়ে গিয়ে আবাদের অনুপোযুক্ত হয়ে পরবে (ইতি মধ্যে এ প্রক্রিয়া খনিকটা শুরুও হয়েছে), সুন্দরবন ধ্বংশ হয়ে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে, উপকূলীয় রক্ষাঢাল নষ্ট হবে ইত্যাদি। আশাকরি আপনার লেখায় এসব বিষয় গুলো যুক্ত করবেন। তাতে লেখাটি আরও তথ্য বহুল হবে। অযাচিত মতামতের জন্য দুঃখিত।
লেখক বলেছেন: অযাচিতি নয় বরং এ ধরণের মতামত আমাদের জানা বোঝাকে আরও পোক্ত করবে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। লবণাক্ততার ব্যাপারে আপনার কমেন্ট এর কথা গুলো মূল লেখায় যুক্ত করে দেব শীঘ্রই।
প্রগতিশীল বলেছেন:
তবে এই ইসু্তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবীকুল (শাহরিয়ার কবির, মুনতাসির মামুন, জাফর ইকবাল, আগাচৌ, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, হাসান আজিজুল হক গং) নিশ্চুপ কেন বুঝতে পারছি না।
তাদের কাছে বাংলাদেশের চেয়েও কি ভারত প্রিয়?
আলমগীর কুমকুম বলেছেন:
চমৎকার এবং তথ্যবহুল লেখা।
বাঙাল যুবক বলেছেন:
সুন্দর, তথ্যবহুল, প্রয়োজনীয় একটি দারুন পোষ্ট। চাই সংগ্রামের আন্তঃসংযোগ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তোলার জন্য একটি শক্ত প্ল্যাটরম চাই।
আবু নাঈম বলেছেন:
মজুরি হিসাবে একটা আন্তরিক ধন্যবাদ তোমার প্রাপ্য।
লুথা বলেছেন:
ধন্নবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না... অসাধারণ লিখা...++++++++++++++++++++++++++++++++++++
Click This Link
শয়তান বলেছেন:
মেটালিফেরাস বলেছেন: শুরু হয়ে গেছে লিফলেট বিতরণ! এখন এই পোস্টটা জামাতের বুলেটিন হয়ে উঠবে। লেখকের অবিলম্বে কিছু কমেন্ট মুছে দেওয়ার দরকার।
কেল্টূ দা বলেছেন:
শোকেসে না রাইখ্যা পারলামনা ।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
সামন্তবাদী ভারতের আগ্রাসনের প্রতি তীব্র ঘৃণা । ঘৃণা দেশীয় দোসর সেইসব কলের পুতুলদের প্রতি, প্রথমত : যাদের কাছে দেশের চেয়ে দল বড়ো দ্বীতিয়ত: যাদের কাছে দেশের চেয়ে দল বড়ো এবং তৃতীয়ত : যাদের কাছে দেশের চেয়ে দল বড়ো ।
বর্তমান পররাস্ট্রমন্ত্রী পারলে হয়তো নিজ থেকেই বরং তথাকথিত বন্ধুদেশটির কর্তাপক্ষকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবেন টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পে আমাদের বিস্তর উপকারের ফিরিস্তি দেখিয়ে । এর প্রতি বিন্দুপরিমাণ আস্থা রাখার কোন কারণ নাই, যে কিনা বাংলাদেশকে পাকীস্তানের বাফার স্টেট মনে করে !
যা কিছু করার জনগণকেই করতে হবে, সেই জনগণ যারা ভুগবে, যাদের ভোগাবে ।
আপনার বিশ্লেষণ, বিষয়ের প্রতি আপনার শ্রম- অধ্যাবসায়, আর আপনার তুখোড় লেখনির ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই । আপনাকে শ্রদ্ধা জানাই ।
সাদমান বলেছেন:
এমন একটা তথ্যবহুল পোস্টের অপেক্ষায় ছিলাম । ধন্যবাদ আপনাকে ।এটা আশা করি আমাদের সচেতনতা আরো বাড়াবে ।
ধীবর বলেছেন:
তথ্যবহুল একটি চমৎকার লেখা উপহার দেবার জন্য দিনমজুর ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। সাথে সামু কর্তৃপক্ষকেও। আশা করবো, এই বিষয়টা মিমাংসা হবার আগ পর্যন্ত, এই লেখাটি স্টিকি আকারে থাকবে। শুনেছি দিনমজুর ভাই বাম আদর্শে বিশ্বাস করেন। অনেকে বলেছেন, আজ এই পোস্টের জন্য যারা তার পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন, তারাই আবার কাল বামপন্থি লেখার কারণে, তাকে বিরোধিতা করবে। শুধু আদর্শিক অমিলের কারণে, দেশের স্বার্থে আমরা এক সাথে কাজ করতে পারি না। আমরা বলতে আমি বাঙ্গালি/বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ এবং বামপন্থায় বিশ্বাসি রাজনীতিবিদ এবং সিংহভাগ মানুষের কথা বুঝাচ্ছি। জামাত এবং ইসলামের নামে মতলববাজ দেশদ্রোহিরা ধর্তর্ব্যের মধ্যে আসবে না।
এই ত্রিধারার যেই লিখুন না কেন, এটা যেহেতু আমাদের জাতীয় স্বার্থের ব্যাপার, সেহেতু এটাকে সবার সমর্থন করা উচিত। জাতীয় ইস্যুতে আমাদের অনৈক্যের কারণে অনেক সর্বনাশ হয়েছে। সময় এসেছে নিজেদের বদলাবার। তবে রাজনৈতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকবেই। একারণে ভবিষ্যতে দিন্মজুর ভাইয়ের লেখার সমালোচনা হতে পারে। কিন্ত টিপাই নিয়ে লেখা তার এই পোস্টটাকে, অবামপন্থিদের সমর্থন বাকা চোখে না দেখাই উচিত হবে।
পথের সন্ধানে ... বলেছেন:
অসাধারণ!!!
ওসমানজি২ বলেছেন:
প্রচুর তথ্যবহুল এবং কষ্টসাধ্য একটি লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। দলমত নির্বিশেষে আমাদের এর প্রতিবাদ করা উচিত। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে এর ভয়াবহতা তুলে ধরা উচিত।
রাজর্ষী বলেছেন:
চমৎকার একটি বিশ্লেষনী লেখার জন্য ধন্যবাদ লেখক দিনমজুরকে। এমন একটা ক্ষতিকর বিষয়কে যদি কেউ সফলভাবে প্রতিরোধ করতে চায় তবে কিছু বিষয় আগেই ফায়সালা করে নেওয়া ভালো।
১। বাঁধ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, পক্ষে বিপক্ষে আরো ব্যাপক আলোচনা হওয়া দরকার। আমি জানিনা এর পক্ষে ভালো কোন যুক্তি আছে কিনা তবে যদি থাকে তবে সেগুলো ও সামনে আসা ও পর্যলোচনা করা দরকার।
২। সব বিচার বিবেচনা করার পর এর বিপক্ষে যদি দাড়াতেই হয় তবে যেন শুধু নিস্ফল প্রতিবাদের মধ্যেই আরেকটা ফারাক্কার জন্ম না হয়। রুখে দাড়ালে এই বাধকে ঠেকিয়ে দিতে হবে। কোনভাবেই ব্যর্থ হওয়া যাবে না।
৩। প্রতিরোধ করার জন্য আগেই কৌশল ঠিক করে নিয়ে আগাতে হবে যে কোন বিষয়কে সামনে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করবো।
৪। দলীয়, ধর্মীয়, জাতীয় সহ সব সংকির্ণতার উর্ধ্বে উঠে তারপর ভারতীয় স্থানীয়দের ও সেখানকার সহ সমগ্র বিশ্বে পরিবেশবাদীদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে আমাদের।
৫। যারা এই ইস্যুকে ব্যাবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায় তাদেরকে চিন্হিত করে তাদের দুরে রাখতে হবে।
এমন কিছু গোষ্ঠী হল বিচারের সম্মুখিন যুদ্ধপরাধীরা, ধর্মীয় জংগী, চরমপন্থি অথবা যারা এই ইস্যুকে সামনে এনে ক্ষমতায় যেতে চাইবে। কারন এদের স্বার্থ যেহেতু অন্য তাই তারা একে ইস্যু বানিয়ে জনগনকে ব্যাবহার করবে শুধুমাত্র।তারপর সময় মত নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে আন্দোলনের পিঠে ছুরি মেরে সটকে পড়বে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এমন হয় অতএব সাধু প্রথম থেকেই সাবধান। ( এই ব্লগেও এমন অনেক নিক আছে)
৬। বিভিন্ন সেক্টরে যেমন মিডিয়া, আন্তর্জাতিক কমিউনিটি, জাতিসংঘ, ইন্টারনেট সব জাগাতে একে একযোগে প্রতিবাদের ঝড় উঠাতে হবে। সফলতার জন্য প্রযোজনীয় সকল মাধ্যমই ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত দিতেও প্রস্তুত থাকতে হবে।
৭। সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে এই বিষয়ে যদি তারা জনগনের স্বার্থে সাথে একমত না হয় তবে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
যতই ভারতীয় সরকার বা বিশাল ক্ষমতাবান পুজি এই বাধের পিছনে থাকুক আর বাংলাদেশের সরকার দালালী করুক
এই অন্চলের (সীমান্তের উভয়দিকের) জনগন যদি ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাড়ায় তবে কোনদিনই এই বাধ হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস। কারন প্রকৃতির বিকৃতির বিরুদ্ধে যারা আন্তরিকভাবে কাজ করবে মহাপরাক্রমশালী মাদার নেচার তাদের সাহায্য করবে।
রাজর্ষী বলেছেন:
আমার কমেন্ট টা অনেক বড় হয়ে গেছে। আমি বরং একটা পোস্ট দিয়ে দেই এটা নিয়ে।
নীল লাল সবুজ বলেছেন:
যত দিন যায় আর মনে হয় এই অসহায় ছোট্ট প্রিয় দেশটাকে বাচাতে আরেকটা ৭১ এর প্রয়োজন হবে।শুধু ব্লগিং করে পুজি'র আগ্রাসন থামানো যাবে না, আসুন রাস্তায় নামি।
দিনমজুর ভাই, কোন কর্মসূচী থাকলে জানাবেন, এখানে দয়া করে।
আতিক একটেল বলেছেন:
আমাদের এখানে আসলে ভারত বিরোধিতা সস্তা আবেগ (তথ্যহীন আর খোড়া যুক্তি দিয়ে বানানো) হিসাবে দাঁড়া করানোর জন্যই ভারতের কুটকৌশলগুলো আমরা পরাহত করতে পারি না। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ভারত বিরোধিতা প্রকারান্তরে ভারতের পক্ষেই যাচ্ছে।
লেখক বলেছেন: টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে আপনার এই মন্তব্য থেকে আপনার অবস্থান ঠিক পরিস্কার হলো না-- আরেকটু পরিস্কার করলে ভালো হয়।
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন:
@নীল লাল সবুজ সহমত।
শামস্ বিশ্বাস বলেছেন:
Thanks sir 4r writing this matter
অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন:
এমন একটা পোস্টের অপেক্ষায় ছিলাম । ধন্যবাদ আপনাকে ।
আজিব, দেশের বড় প্রবলেমগুলানের সময় সব মনিষীরা হাওয়া হইয়া যায়
আরে এখনি তো মানব বন্ধন, মিছিল করার সময়
শ্লোগান দেয়ার সময়।
Click This Link
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
জাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। দলমত নির্বিষেশে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরতে হবে।
মামুনুর রহমান খাঁন বলেছেন:
আমাদের ভারতীয় দালাল মন্ত্রীর মুখ থেকে এখনো কোন প্রতীবাদ শুনতে পাচ্ছিনা।তাদের কাছে জননী জন্মভূমির চেয়ে ভারত মহান।
মুহিব বলেছেন:
আমাদের বৃহত প্রতিবেশী, বন্ধু, ওপার বাংলার ভাইরা কি এই বিবেচনা করবে? যার ভারতের মত বন্ধু আছে তার তো আর শত্রুর দরকার হয় না।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
দারুণ কাজ। অভিনন্দন দিনমজুর।
ইবনে সালাম বলেছেন:
টিপাইমুখ বাঁধ হলে সিলেটে ভূমিকম্পটিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলে ভারতের মণিপুর এবং বাংলাদেশের সিলেটসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে। এতে ড্যামের পার্শ্ববর্তী ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে। এ অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে। সম্ভাব্য ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ রিখটার স্কেলের হতে পারে। ভারতের মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ-সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. সইবাম ইবোটম্বি এক গবেষণা রিপোর্টে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, টিপাইমুখের ১০০ থেকে ২০০ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে গত দু’শ’ বছরে শতাধিকবার ভূমিকম্প হয়েছে। ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে গত দেড়শ’ বছরে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে দু’বার। সর্বশেষটি হয় ১৯৫৭ সালে, ড্যামের কাছ থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে । কেন ভূমিকম্প হতে পারে ? এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন, টিপাইমুখ এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকা সুরমা শিলা দিয়ে গঠিত। এই সুরমা শিলা হালকা ধুসর ও বাদামি রঙের। এগুলো মূলত হালকা কাকড়, নুড়ি পাথর, কাদামাটির সংমিশ্রণে গঠিত। এ ধরনের শিলায় সাধারণত কম বালি থাকে। এখানে কর্দমাক্ততাও রয়েছে। এই ভূতাত্ত্বিক বর্ণনা দেখে বোঝা যায় টিপাইমুখসহ এর পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা গঠিত হয়েছে পলিমাটি দিয়ে। সুরমা গ্রুপের শিলা আবার ভঙ্গুর। সুরমা বেসিন ও পশ্চিম মণিপুরের চেয়ে এই মাটির গঠন আলাদা। এ ধরনের মাটিতে ভূ-প্লেট খুব সহজে ধাক্কা মারতে পারে। উল্লেখ বিভিন্ন প্লেটের ওপর পৃথিবীর উপরিভাগ স্থাপিত। একেকটি প্লেটের ওপর বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল অবস্থিত। এ প্লেটগুলো বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিকভাবেই নড়াচড়া করে। ফলে অনেক সময় এদের মধ্যে আন্তঃঘর্ষণ হয়। ফলেই মূলত ভূমিকম্প হয়ে থাকে। যেসব এলাকার ভূমির গঠন যত শক্ত সেসব এলাকায় ভূমিকম্প কম হয়।
উল্লেখ্য, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল হচ্ছে পৃথিবীর ৬টি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার মধ্যে একটি। উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূতাত্ত্বিক গঠন এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন। ভারত, ইউরেশিয়া (চীন) এবং মিয়ানমারের প্লেটের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে ভূ-কম্পনের বিষয়টি বিশ্বের মধ্যে অত্যন্ত সক্রিয়। এই প্লেটের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, উত্তর-পূর্ব ভারত, জাপান, মেক্সিকো, তাইওয়ান এবং তুরস্ক । ড. সইবাম ইবোটম্বি নানা যুক্তি উপস্থাপন করে বলেছেন, টিপাইমুখ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা শুধু এর নরম মাটির পাহাড় শ্রেণীর জন্যই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নয়, বরাক নদীর পানি নিষ্কাশন, অবকাঠামো এবং এর ভূ-টেকটোনিক বিশিষ্টও। বরাক নদীর পানি নিষ্কাশন এবং অন্য নদীতে প্রবাহ টিপাইমুখে এসে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। নদীর অবকাঠামোর জন্যই এ ধরনের নিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি হয়। অধিকন্তু মূল বরাকের পানিপ্রবাহ ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে এর পানি প্রায় আয়তাকারভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি নদীর মূল স্রোত বিশেষ করে বরাক ও তুইভাই নদীর মূল গতিপথে বিচ্যুতি ঘটাতে পারে। এতে এর নানামুখী প্রভাব পড়তে বাধ্য।
তিনি লিখেছেন, বরাক ও তুইভাই নদীর মিলনস্থলে থেকে ৫০০ মিটার ভাটিতে টিপাইমুখে এই বাঁধ নির্মিত হচ্ছে। এটি ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মণিপুর রাজ্যে পড়েছে। বাঁধ নির্মিত হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০ মিটার উঁচুতে। এই বাঁধ প্রথমে আসামের কাছার জেলার বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু পরে এখানে পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মণিপুর রাজ্যের মানুষকে শান্ত করার জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, পুনর্বাসন ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লোভ দেখানো হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এত উঁচুতে বাঁধ নির্মাণ করে বিপুল পরিমাণ পানি ধরে রাখলে ভূ-পৃষ্ঠে বিশাল চাপ পড়বে। এই চাপ নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাশিয়ার কাছ থেকে টেকনোলজি নেয়ার কথা বলা হলেও মূলত তা কোনো কাজে আসবে না। ভূ-তাত্ত্বিক গঠনই এ অঞ্চলকে মহাসংকটের মুখে ফেলবে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, সামান্য ভূমিকম্পও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে পুরো অঞ্চল। কারণ কম্পনে বাঁধ ভেঙে গেলে আশপাশে বিস্তীর্ণ এলাকায় সুনামির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। এটি যে কত ভয়াবহ হবে তা কল্পনাও করা যায় না। #
Click This Link
পড়ুয়া_পড়ুয়া বলেছেন:
ধন্যবাদ চমৎকার লেখাটির জন্য । সরকার যে পাবলিক প্রেসার ব্যতীত কাজ করতে চাইবে না, মন্ত্রীদ্বয়ের মন্তব্যে সে বিষয়ে আমার সন্দেহ ক্রমশ দূর হচ্ছে । তাই পাবলিক প্রেসার তথা গণ আন্দোলন তৈরী করা দরকার।
গণ আন্দোলন তৈরী ছাড়া কি কোনো দিনবদল আসলে হবে ?
অন্তু বলেছেন:
ধন্যবাদ আমাদের আত্মার জাগরন কবে হবে?
মহলদার বলেছেন:
অনেক মূল্যবান এবং তথ্যবহুল লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেক কিছু জানতে পারলাম। কিন্তু আমাদের নেতা নেত্রীদের এটা নিয়ে খুব বেশী মাথা ব্যথা নেই বলে মনে হচ্ছে।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
জরুরী ও তথ্যবহুল পোস্টের জন্য দিনমজুরকে ধন্যবাদ ।
সাঈদ সৌদিআরব বলেছেন:
অতি বাস্তব সত্য লিখেছেন। আফসোস্ আমরা সবাই উদাসীন। অনেক কিছুই বুঝতে চেষ্টা করি না। এই জাতির কি হবে..............
রুদ্রাক্ষ বলেছেন:
তথ্যবহুল লেখা। ধন্যবাদ এরকম একটি লেখার জন্য।
কিসলু বলেছেন:
ভারতীয় দুতের সাথে গলা মিলিয়ে বাংলাদেশের এক মন্ত্রী বলছেন , কোন ক্ষতি হবেনা , আবার আরেক মন্ত্রী বলছেন , ক্ষতি হতে পারে । আবার সিলেটের এক মন্ত্রী ব্যাপারটি দেখবেন বলছেন । সরকারের অবস্থান এখনও সুস্পষ্ট নয় কেন ? বাংলাদেশের বর্তমান মন্ত্রীরা প্রতিবেশী ভারতের সাথে সুসম্পর্ক তৈরী করার দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা করতে চাচ্ছেন না । ভারতের মন্ত্রীরা , আর ভারতীয় দুতাবাস যা বলছেন , তার সাথে গলা মিলিয়ে সায় দিয়ে যাচ্ছেন । আর ভারত প্রতিদিন সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশী হত্যা করে , বাংলাদেশী পন্য ভারতে প্রবেশে নানা বাধা তৈরী করে , নদনদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রন করে , তার প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন সুসম্পর্ক তৈরী করতে চায় !!
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
ভাই দিনমজুর, আপনার কথা সত্য যে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলেই টিপাই মুখী বাধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ভারত। জোট সরকারও দেশ বিদেশের পত্র পত্রিকায় খবর জানতে পেরে এ নিয়ে দেশের মানুষের কাছে অবস্থান পরিস্কার করে যে যদি ভারত আনুষ্ঠানিক তথা রাষ্ট্রীয় ভাবে বাংলাদেশের কাছে এ কথা জানায় তবেই চারদলীয় জোট এর বিরোধিতা করবে এবং প্রয়োজনবোধে জাতিসংঘ সহ সারা বিশ্বের কাছে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরবে। কিন্তু যেহেতু ঐ সময়ে ভারত এ বিষয়ে বাংলাদেশ কে সরকারী ভাবে কিছু বলেনি তাই চার দলীয় জোট সরকারও এ বিষয়ে সরাসরি ভারত সরকারের কাছে কিছু বলে নাই। ঐ সময়ের ভারতীয় হাই কমিশনার মিজ বিনা সিক্রিকে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা একাধিকবার জিজ্ঞাসা করলেও তিনি জানান তাদের পরিকল্পনা থাকলেও এটা এখনও চূড়ান্ত হয় নি। স্পষ্টতই ভারত এ বিষয়ে বাংলাদেশ কে ঐ সময় ধোয়াশার মধ্যে রেখেছিল। আপনার হয়তো মনে আছে এর আগের ২০০৪ সালে ভারতে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় ছিল তারা আরও উচ্চ ভিলাসী নদী সংযোগ পরিকল্পনা নিয়েছিল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যে ব্রম্মপুত্র নদের পানি পাম্প ও ফিডার ক্যানেলের মাধ্যমে তাদের পশ্চিমাংশে নিয়ে যাওয়া। এতে বিশ্ব ব্যাংক এবং আইএমএফ ঋণ সহায়তা দিতে এক পায়ে খাড়া ছিল। পরে বিজেপি ঐ ২০০৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে ব্যার্থ হলে এই প্রকল্প টি আজ পর্যন্ত স্থগিত আছে। তাই আবারো বলছি যেহেতু টিপাই বাধ নিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকার কে ঐ সময়(২০০১-০৬) জানায় নি তাই চারদলীয় জোটও আগ বাড়িয়ে ভারত সরকার কে কিছু বলেনি। যেহেতু ১৯৭৭ ও ২০০৫ সালে যদি বিএনপি সরকারে থেকে জাতিসংঘে নালিশ করতে পারে, তো ভারত সরকারি ভাবে টিপাই বাধ বিষয়ে জানানোর পর বাংলাদেশের আপত্তি না মানত অবশ্যই ক্ষমতায় চারদলীয় জোট থাকলে তা জাতিসংঘের কাছে তুলে ধরত। শহীদ জিয়ার জাতিসংঘে ফারাক্কার বিরুদ্ধে বক্তব্যের কারণে পরে তার সময় ভারত ৩৪০০০ কিউসেক(শুস্ক মৌসুমে) পানি গ্যারান্টি ক্লজ সহ চুক্তি করতে বাধ্য হয়। আর বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব শিব শংকরের হঠাৎ ১ দিনের জন্য ঢাকায় সফর। এই সফরের পর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ যে তালপট্টি, সুমুদ্র সীমা এবং টিপাই মুখী বাধ নিয়ে বাংলাদেশের মহাজোট সরকার যেন জাতিসংঘে আপত্তি না করে। আর শিব শংকর বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন নি। কারণ তিনি জানতেন যে বিএনপি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই বলা চলে স্বাধীন বাংলাদেশে শহীদ জিয়া ও বিগত চার দলীয় সরকারই উদাহরণ যে তাদের আমলে ভারতের সাথে নতুন কোন অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় নি।
লেখক বলেছেন: ভাই খোরা যুক্তি দিয়েন না। ভারত আনুষ্ঠানিক ভাবে না জানিয়ে কেন এ ধরণের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সে অভিযোগে তখনই তো আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া উচিত ছিল। সেই উচিত কাজটি বিএনপি তখন করেনি, আওয়ামী লিগও এখন করছে না( আওয়ামী লিগের যুক্তি হলো ভারত তো আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদ্যূত উতপাদনের কথা বলছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা পানি প্রত্যাহারের কথা তো বলছে না!)।
যাইহোক লেখা পড়া ও মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।
কালপুরুষ বলেছেন:
সময়োপযোগী পোস্ট। খুচ চমৎকার লিখেছেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ। প্রিয়তে রেখে দিলাম।
লালন অনিক বলেছেন:
ধন্যবাদ দিনমজুর
নদীপথ বলেছেন:
ভারতে উপর ভগবানের লানত পরবে যদি তারা বাংলাদেশের সাথে এই রকম অবিচার করে।অসংখ্য ধন্যবাদ লেখককে..........................................................................................................................................................................................................................................................................।
আবু সালেহ বলেছেন:
প্রিয়তে রেখে দিলাম....
বাংলাদেশের জণ্য এটা জীবন মরন সমস্যা.....
ধন্যবাদ আপনাকে সময় উপযোগী একটা পোস্ট দেওয়ার জন্য...
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
ভাই দিনমজুর মাফ করবেন, আন্তর্জাতিক ভাবে কোন দেশের বাধ নির্মাণের চূড়ান্ত ঘোষণা বা উদ্যোগ ছাড়া স্রেফ যেকোন ধরণের পরিকল্পনা ও আলোচনার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে গেলে সেটা ধোপে টিকবে না। কারণ আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে তখন ভারতের সূর্নিদিষ্ট পরিকল্পনা কি তা আপনি কিভাবে বুঝাবেন? এ ক্ষেত্রে সমাধান একটাই যে ভারত আগে তার বাধ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করলে আন্তর্জাতিক নদী আইনানুযায়ী ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কে জানাতেই হবে তথা দলিল আকারে পেশ করবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কে বিরোধীতা করতে হবে এবং ভারত কে আলোচনার মাধ্যমে তা জানাতে হবে। মনে রাখতে হবে এই আলোচনা মানে যূগ যূগ ধরে ম্যারাথন আলোচনা নয়। বড়জোর দুই মাস তারপর ভারত না মানলে তখনই জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া যেতে পারে। এই মহাজোট সরকার যতদিন না ভারত তার চূড়ান্ত মতামত রাষ্ট্রীয় ভাবে জানায় ততদিন সে চাইলেও আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারবে না। তাই বর্তমান মহাজোট সরকার কে এ ব্যাপারে আপাতত দোষ দেওয়া যুক্তি যূক্ত নয়। তবে দেশের মানুষের মধ্যে গণসচেতনতা, জাতীয় ঐক্য, আন্তর্জাতিক ভাবে বিভিন্ন দেশ কে টিপাই মুখী বাধের ব্যাপারে আগাম জানিয়ে রাখা সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশের স্বার্থে যা যা প্রয়োজন সে রকম পদক্ষেপ নেওয়া। আমি আবারও মাফ চেয়ে নিচ্ছি আপনার কাছে দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য। ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: চূড়ান্ত মতামত না জানানোর অভিযোগেই আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া যায় নইলে তো চূড়ান্ত ভাবে কোন কিছু না জানিয়ে যে কোন দেশই যে কোন জায়গায় বাধ বানিয়ে পার পেয়ে যাবে, তাই না?
যাই হোক আপানাকও ধন্যবাদ আপনার আলোচনা এবং সমর্থনের জন।
ইউনিটি বলেছেন:
প্রাণঢালা ধন্যবাদ আপনাকে ।
দণ্ডিত পুরুষ বলেছেন:
টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে হাইপ্রোফাইল, দেশপ্রেমিক ব্লগারদের জাগিয়ে তোলার জন্য আমি আজ একটি লেখা তৈরি করেছিলাম। নেটে ঢুকেই দেখি আপনার স্টিকি পোস্ট। অসাধারণ তথ্যবহুল লেখা। খুব ভালো লাগল।এই পোস্টেও ভারতের কিছু দালাল কৌশলি মন্তব্য করছে। পোস্টের প্রসংশা করেছে বটে কিন্তু ওনাদের ভারতবাবার ভিতরে বাঁশ ঢুকায়,কদর্য চেহারা প্রকাশ পাওয়ায় ভিতরে ভিতরে রাগে ফুঁসছে। জনরোষের ভয়ে সরাসরি বিরোধিতা করতে পারছে না।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
লংকার রাজা বলেছেন:
আপনার অনুমতি না নিয়েই আমাদের ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের গ্রুপে আপনার লিংক সহ লেখাটি পোস্ট করেছি।আশা করি আপনার আপত্তি নেই।আর অসংখ্য ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।
শয়তান বলেছেন:
শিরোনাম এ বাঁধ বানানটা ঠিক করে দিন ।
গরীব বলেছেন:
ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। আমাদের এ ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। যেসব মন্ত্রী এর পক্ষে সাফাই গাইছে,তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।
আবু তাশফীন বলেছেন:
Now we know who, how and why put AL in BD power.
মরি-নাই বলেছেন:
টিপাই-মুখ বাধ এর শুরুটা বেশ আগের। কিন্তু ভবিষ্যৎ যে বাংলাদেশের লাইগা অন্ধকার এইটা পরিস্কার।আমাগো সম্মিলিত প্রচেস্টা লাগবো, না হইলে হইবো না কিছুই।
নিরক্ষর বলেছেন:
ধন্যবাদ, লেখাটি দেয়ার জন্য।
শিশু বলেছেন:
(১) অমৌলিক প্রথম মন্তব্যঃ এমন একটা তথ্যবহুল লেখা বহুদিন খুঁজছিলাম।(২) যাঁরা লিঙ্ক দিয়েছেন, তাঁদেরকেও। সময় পেলে গিয়ে দেখতে হবে।
(৩) অল্প কয়েকদিন আগে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দক্ষিণ ভারতীয় কিছু পন্ডিতকে বললামঃ কি ব্যাপার, আপনারা তো আমাদের সব পানি নিয়ে যাচ্ছেন। খুবই ভদ্র মানুষ, মুখ কাঁচু-মাচু করে বললেনঃ এটা ভারতের রাজ্যে-রাজ্যেও বিবাদ সৃষ্টি করেছে।
(৪) কেউ কি একটা তালিকা করে দেখাবেন আজ পর্যন্ত কোন কোন ব্যাপারে ভারত আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে সাহায্য করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পরে , শুনেছি, পাকিস্তানী অস্ত্র-শস্ত্রের সাথে অফিসের ফ্যানও খুলে নিয়ে গিয়েছিল। তিনবিঘা খোলা রাখা নিয়ে এখনো কি দাপট; অথচ আমরা সুড়সুড় করে বেরুবাড়ী দিয়ে দিলাম।
(৫) হাসিনা গেলবার ক্ষমতায় গিয়ে বলেছিলেনঃ ৫০ বছরের গ্যাস হাতে রেখে তারপরে রফতানীর প্রশ্ন; যদিও সেই সময় স্বয়ং বিল ক্লিন্টন এখানে এসে তৌফিক এলাহীর (যে এখন মন্ত্রীর পদমর্যাদায়) সাথে সুর মিলিয়ে কিছু দালালীর চেষ্টা করেছিলেন। এখন দিন বদলে গেছে। মনে হয় পিনাকী আমাদের দেশে প্রেরিত নতুন ভাইসেরয়। মন্ত্রীরা কিসব সব কুল রক্ষা করা কথা বলবেন, আগেই বলা যায়। অনুগ্রহ করে এই ধরণের লেখার হার্ড কপি তাঁদেরকে পাঠান, এবং সভা-সমিতিতে এইসব মন্ত্রী উপস্থিত হলে সর্বাধুনিক জুতা-প্রতিবাদের আয়োজন করুন।
(৬) আমার একটা প্রশ্ন দিন মজুরের কাছে, যেহেতু তিনি বিশেষজ্ঞ। পানি বিদ্যুতের জন্য সারা বছর যদি একটা নির্দিষ্ট প্রবাহ অক্ষুন্ন রাখতে হয় তাহলে ভরা মৌসুমে ওপরের হ্রদের উচ্চতা কি বাড়িয়ে পানি সংরক্ষণ করার কথা নয় ( বন্যা থেকে আমরা বেঁচে যেতে পারি), এবং খরার সময় সেটা ছেড়ে দেয়ার? তাহলে তো আমাদের এখানে সারা বছর একই গতিতে পানি যাওয়া উচিত। অবশ্য সেচের ব্যাপারটা চলে আসে। কিন্তু সেচের পানিও কি শেষ পর্যন্ত নীচের ঢালে অর্থাৎ বাংলাদেশে চলে আসবে না? সেদিক থেকে পানি বেরুবার তো আর কোন পথ নেই।
লেখক বলেছেন: @শিশু, ধন্যবাদ আপনার মন্তব্য এবং প্রশ্ন'র জন্য।
প্রথমত, আমি বিশেষজ্ঞ নই। বরং বিশেষজ্ঞ দের লেখার একটা সার সংক্ষেপ করেছি বলতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, বাধের জলাধারের উচ্চতা চাইলেই যে কোন পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব নয়, এটা ডিজাইনের সাথে সম্পর্ক যুক্ত । আবার ডিজাইনের মাধ্যমে উচ্চতা বেশী বাড়ানো হলে বাধের আশপাশের এলাকা আরো বেশী পরিমাণ প্লাবিত হবে। ফলে বর্ষা মৌসুমে যখন পানি প্রবাহ বেড়ে যাবে তখন পানির চাপ থেকে বাধ ভেঙে যাওয়া রক্ষা করতে এবং বাধের উজানের অংশকে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে বাধ্য হয়ে বাধের সুইস গেট গুলো খুলে দিতে হবে ফলে হঠাত একটি বিশাল পরিমাণ পানি প্রবাহ ইতিমধ্যেই শুকনো মৌসুমে পলি পড়ে ভরাট হ্ওয়া ভাটির নদীপথে এসে পড়বে। আর যেহেতু যে কোন নদী পথের পানি প্রবাহের হারের একটা নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে ফলে সে মাত্রা অতিক্রম করে নদী অতিরিক্ত পানিটুকু দিয়ে দুকুল ভাসিয়ে দেবে। এটা শুধু থিউরিটিক্যাল কথা নয় বাস্তবেও ফারাক্কা বাধের উদাহরণ থেকে বিষয়টি বোঝা যায়।
আবার শুকনো মৌসুমে যেহেতু বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য জলাধারের পানির উচ্চতা ধরে রাখতে হয় সেহেতু প্রায় সবগুলো গেট বন্ধ করে হলেও ভারতকে সেটা করতে হবে। ফলে ভাটিতে পানির পরিমাণ কমে যাবে। আর সেচের জন্য যেহেতু নদীর বুক থেকে খাল কেটে দুই তীরের দিকে পানি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তাই তার মাধ্যমেও নদীর ভাটিতে পানির পরিমাণ কমে যাবে।
জলপাই দেশি বলেছেন:
ধন্যবাদ। পড়লাম। বহু কষ্ট করে যা ব্লগে দিয়েছেন তা কয়েক মিনিটে পড়ে ফেললাম। বাংলাদেশ নিয়ে যারা এ ভাবে খেলছে তাদের কি আমরা চিনতে পেরেছি? না পারিনি। কারণ এ্ই খেলায়াড়রা রাজনীতিক এবং মিডিয়াকেও কিনে ফেলেছ। তবু আমরা চেষ্টা করে যাব। আবারো ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।
দেবশিশু বলেছেন:
ধন্যবাদগত রাতে এবিঘয় নিয়ে কথা বলার জন্য চ্যানেল 1 এ সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এসেছিলেন। উনার কথা শুনে মনে হলো একজন ভারতীয় দেশপ্রেমিক নাগরিক তার অধিকার বাস্তবায়নকল্পে বক্তব্য রাখছেন। আমি প্রচন্ড রকমে হতাশ হয়েছি বাংলাদেশের রাজণীতিবীদরা সকল বিষয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে দেখেন। এ বিষয়টার জন্য তিনি দুষলেন কিছু রাজনৈতিক দল ও বিশেষ মহলকে। কিন্তু রাষ্ট্রর কথা তারাই ভাবছেন না।
সত্যিই ণির্মম ও ধিক্কার জনক অবস্থান তাদের!!
লেখককে আবারো অভিনন্দন এমনকিছু তথ্য দেয়ার জন্য।
আমার + টা কি আমিই দিলাম না অন্য কেউ দিয়ে দিলো?
.......
দারুন লেখার জন্য ধন্যবাদ।
অতৃপ্ত স্বপ্নবাজ বলেছেন:
আমরা মানুষ, সৃষ্টির সেরা জীব। এর অর্থ আমরাও জীব, তবে একটু উন্নততর। পশু আর মানুষের পার্থক্য খুবই সামান্য, আর তা হচ্ছে বিবেক। অর্থ এবং স্বার্থ এ দু'টি ক্ষেত্রে আমরা পশুর চেয়ে উত্তম নই। তাই যেভাবেই হোক নিজের সন্তুষ্টি চাই, এক্ষেত্রে কোন নীতি আমরা মানতে নারাজ। ভারত তার ভূখন্ডের অভ্যন্তরে টিপাই বাঁধ নির্মাণ করলে আমরা তা প্রতিরোধ করতে অক্ষম যদিনা ভারত কোন নমনীয়তা দেখায়। নিজেদের দূর্বলতা আড়াল করতে অন্যের উপর দোষ চাপানো আমাদের স্বভাব। কেন আমরা ভারতকে দোষারোপ করি? আমাদের স্বার্থ কি তারা দেখবে? কেন আমরা আমাদের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করি না? অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, তা আদায় করে নিতে হয়। ভারত দেখবে তাদের স্বার্থ, আমরা বঞ্চিত হলাম কি না এ প্রশ্ন তাদের কাছে মূল্যহীন। আমাদের স্বার্থ তারা দেখলে আমাদের সরকারের কাজ কি?
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
@ দেবশিশু, এই আব্দুর রাজ্জাক ভারতের চরম-পরম অন্ধ ভক্ত দালাল। এর জন্যই ২০০৫ সালে মোর্শেদ খান জাতিসংঘে ফারাক্কার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলে পরের দিন দালাল রাজ্জাক তার বিরুদ্ধে প্রচন্ড ক্ষেপে উঠে এবং সাবাদিক সম্মেলনে ক্রদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে। এ ব্যাটারে দেশপ্রেমিক জনগণের আদালতে বিচার করে প্রকাশ্যে জুতা পেটা করা উচিত।
সাইমুম বলেছেন:
good post.
হবলকবল বলেছেন:
Readers need to know more on the subject, and just go to the below link for more details :Click This Link
আব্দুল্লাহ শেরদীল বলেছেন:
Huge information............thanks a lot............
মোসতাকিম রাহী বলেছেন:
তথ্যবহুল অসাধারণ লেখাটির জন্যে ধন্যবাদ।
এস্কিমো বলেছেন:
তথ্যবহুল পোস্ট পড়ে অনেক কিছু জানার সুযোগ হলো - ধন্যবাদ। তবে শুরুতে যে ভাবে পুঁজিবাদ নিয়ে কথা বলেছেন তার সাথে একমত হতে পারলাম না। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো প্রকৃতি- পরিবেশ আর মানুষের আরো অনেবেশী ক্ষতি করেছে। চেক রিপাবলিকের একটা বিরাট এলাকা কোল মাইনিং আর ইলেকট্রিসিটি তৈরী কারনে বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। অন্যদিক কোল্ড ওয়ারের সময় রাশিয়ার জন্যে ইউরোনিয়াম সরবরাহ করতে গিয়ে অনেক জনপদ ধংশ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে দানিউব নদীতে শুধু অস্ট্রিয়ায় ৯টি ড্যাম তৈরী করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। সেই নদীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেকগুলো হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রজেক্ট আছে।
মুল বিষয় হলো যথাযথ বৈজ্ঞানিক তথ্য আর গবেষনা না করে প্রাকৃতিক সম্পদে ব্যবহার করার চেষ্টাতে বিপর্যয় আসতে পারে। আফ্রিকার অনেক দেশ এই ধরনের সমস্যায় ভুগছে। আবার অনেক দেশ সুফল পাচ্ছে। মুলত হাইড্রো ইলেকট্রিসি তুলনামুলক ভাবে গ্রীন এনার্জি হিসাবে বিবেচিত হয়। আর এনার্জি ছাড়া এখন পৃথিবী অচল।
লেখক বলেছেন: সমাজতান্ত্রিক কোন দেশ কোন কাজ করলেই যে সেটা সমাজতন্ত্রের আদর্শের কারণেই করবে তা ঠিক নয়। আবার সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো প্রকৃতি পরিবেশ আর মানুষের ক্ষতি পুজিবাদের তুলনায় বেশী করেছে আপনার এ মন্তব্যের সাথে আমিও একমত হতে পারলাম না।
সোভিয়েত ইউনিয়ন যে সময় বড় বড় বাধ নির্মাণ করছিল তখন বাধকে দেখা হতে আধুনকিতা আর উন্নয়নের মডেল হিসেবে- সমাজতান্ত্রিক পুজিবাদী সকলের কাছেই বড় বাধের এরকম ভাবমূর্তিই ছিল- বড় বাধের দীর্ঘমেয়াদি ঋনাত্মক প্রতক্রিয়া নিয়ে গবেষণা হয় আর্ও পরে। ফলে সে সময়ের সাথে বর্তমান সময়কে মিলালে ঠিক হবে না।
আবার সোভিয়েত ইউনিয়ন বা কোন সমাজতান্ত্রিক দেশ কোন কাজ করলেই যে সেটা আমাদের কাছে জায়েজ হয়ে যাবে, আমরা তাও মনে করি না।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
@ এস্কিমো, ভাইজান বাংলাদেশ ফারাক্কা বাধ হতে কোন সুফল পাচ্ছে কি? প্রসঙ্গ হচ্ছে টিপাই মুখী বাধ নিয়ে লেখক ইতিমধ্যে এর কুফল সমন্ধে তুলে ধরেছেন একমাত্র আপনি বাদে সবাই একমত হয়েছেন, কিন্তু আপনি বিষয় টি এড়িয়ে গেলেন কেন? নাকি আপনিও রমেশ বাবুর মত চান আগে ভারত টিপাই বাধ নির্মাণ করুক পরে ধারণা পাওয়া যাবে? তাই মনে হয় যে এই লেখায় প্লাসও দেন নি।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের শত্রু মাইনাস দিয়েই দিল। তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের শত্রুরা নিপাত যাক!
গোলাম মাওলা ডলার বলেছেন:
মাইনাস দিয়েছেন ভাল কথা, কিন্তু মাইনাস দেওয়ার পে যুক্তি না দিলে আপনি একজন দেশদ্রোহী আায়িত হবেন।
নেতাজী বলেছেন:
বাংলাদেশকে মরুভূমি বানানোর এই বদমাইশি অবশ্যই প্রতিহত করা উচিত । এবং তা দল-মত নির্বিশেষে ।
লুথা বলেছেন:
আমি ফেসবুকে নোটে এই লিখা ব্যবহার করলাম এবং করছি কারন এই লিখা আমি সবার কাছে পৌছে দিতে চাই... আপনার নাম থাকবে... আশা করি আপত্তি করবেন না...
হামোম প্রমোদ বলেছেন:
ধন্যবাদ, আশা রাখি এই আন্দোলন সবার অংশগ্রহনে আরও জোরদার হবে।
আমাদের কে এ বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
আলাউদ্দীন বলেছেন:
কাজের ফাকে আন্দোলনের খবর নিতে ডু মারলাম।কই কমেন্ট কোথায়?
বেশি বেশি প্রতিবাদ করা দরকার।
জুল ভার্ন বলেছেন:
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ বিশদ বিবরনের জন্য। আগেও কেউ কেউ এরকম তথ্য বহুল পোষ্ট দিয়েছেন আমরা জেনেছি অনেক কিছুই, কিন্তু দুঃজনক হলো আমাদের মন্ত্রি মহোদয়েরা (এরা আসলে ভারতীয় এজেন্ট)এ বিষয়ে এখনও না জানার ভান করছেন। আমতা আমতা করে বলেন এতে দেশের তেমন ক্ষতি হবে না।
কাজী জাকীর েহােসন বলেছেন:
আসসালামু আলাইকুম,অসাধারন একটি লেখা।
ভারত নামের এই দানব থেকে আমাদের মুক্তি পেতেই হবে আসুন জনমত গড়ি।
আপনাকে ধন্যবাদ।
রণবাজ বলেছেন:
জন মত গড়ার সাথে সাথে রাসতায় নামা উচিত,মিছিল করা উচিৎ।আমরা ই শুরূ করি.............ব্লগার রা।
পজিটিভ২৯ বলেছেন:
খুবই সময়োপযোগী এবং তথ্যবহুল পোষ্ট। ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাইনা।টিপাইমুখি বাধকে না।
মাথায় হাত বুলিয়ে পিছন দিয়ে আছিলা দেয়া কে না।
গাধাগরু মন্ত্রী আর দালাল কে না।
শাহরিয়ার রহমান বলেছেন:
ধন্যবাদ
শাহ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন:
তথ্যবহুল, যুক্তিপূর্ণ, সময়োপযোগী লেখা। সংগ্রহে রাখলাম
ফ্রুডো বলেছেন:
আমগো মন্ত্রীগুলান টিপাইমুখ কোন জায়গায় সেইটাই চিনে কিনা সন্দেহ লাগতাসে, তারপর না হয় বাধ ও তারপরবর্তী কুফল নিয়া চিন্তা করব...
বলদ মন্ত্রীগুলানরে মাইনাচ.....
আর দিনমজুরকে ধন্যবাদ তথ্যবহুল পোস্টের জন্য।
আনিসুজ্জামান রাসেল বলেছেন:
চমৎকার এবং তথ্যবহুল লেখা। ধন্যবাদ ...
হাসতে হাসতে পরে গেলাম বলেছেন:
কারো করো কাছে পোষ্টটা ভালা লাগছেনা দেখে দুক্ষ পেলাম।
শিকস্তি বলেছেন:
মুছে যাক সব বিভেদের দেয়াল । মানুষ মানুষ হয়ে উঠুক ।
তুর্য ০৯ বলেছেন:
অসাধারন একটা পোষ্ট এর জন্য ধন্যবাদ।
শাল্লা, ভািটর আই িপ. বলেছেন:
একটা গল্প বলিতৃতীয় বিশ্বের একটা দেশ । ধরে নিলাম আমাদেরই মত।
সংসদে বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয়ের একটা প্রস্তাবের উপর আলোচনা হচ্ছে।
সংশ্লিষট এক্সপার্টরা হাজির হয়ে উপস্থাপন করছেন,
ওইখানে নদীর এই এলাকায় বাঁধ দিয়ে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়,
তাহলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তা দিয়ে
আশেপাশের সমস্ত এলাকার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা যাবে।
সেই সময় যে বাঁধের বিষয়ে কথা হচ্ছে
সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তাঁর জনগনের স্বার্থে প্রতিবাদী বক্তব্য দিলেন
এবং কারো কোন কথা না শুনে প্রভাব শালী একজন নেতা হিসবে
তাঁর এলাকার জনগন এবং দেশ প্রেমের বাহক হিসাবে
সেই প্রস্তাব এবং সেদিন সংসদ অধিবেশনই বাতিল করে দিলেন।
মাননীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্য ছিলঃ
এটা অত্যন্ত দরিদ্র একটি এলাকা।
কৃষী কাজই এ এলাকার জনগনের একমাত্র জীবিকা।
আর এই নদীর পানিই তাদের স্বেচের একমাত্র উৎস।
এই নদীর থেকেই যদি বিদ্যুৎ উঠিয়ে নেয়া হয়,
তাহলে সেই পানিতে আর শক্তি থাকবেনা,
শক্তি ছারা এই পানি কিভাবে ফসল ফলাবে ?
তার এলাকার সব মানুষ না খেয়ে মারা যাবে।
তাদের বিদ্যুৎ প্রয়োজন নই।
এখানে এই নেতাকে কিন্তু দোষ দেয়া যাবে না।
তিনি কিন্তু তার জনগন এবং
দেশ প্রেমের স্বার্থ রক্ষার্থেই বলিষ্ঠ কন্ঠ স্বর ছিল।
চলমান
Let not utter the words we memorised since years.
From habitual to practical:
how does a hydro electric project affects downstream ?
Tell the clear masz.
woorld should be a better palce for every body.
কাজী এবি..মনসুর বলেছেন:
প্রিয়তে রেখে দিলাম....বাংলাদেশের জণ্য এটা জীবন মরন সমস্যা.....
ধন্যবাদ আপনাকে সময় উপযোগী একটা পোস্ট দেওয়ার জন্য...
রাকিব খান বলেছেন:
The Petition earnestly calls for an effective cancellation by our neighboring country India of its declared construction of a Dam on TipaiMukh. As you know, TipaiMukh Dam may appear as yet another dangerous Farakka to turn our evergreen & ever fertile motherland a desert....Click This Link
সাদা বাজ বলেছেন:
তথ্যবহুল ও সুন্দর ভাবে বিষয়টি বুঝানোর জন্য ধন্যবাদ। যদিও জানি বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ, মনিপূর,আসামবাসিরা যতই প্রতিবাদ,মিছিল করুকনা কোন লাভ নাই।এজন্য জামাত,শিবিরকে যে রকম ঘৃর্ণা করি ঠিক সেরকম ভারতকেও করি। ধিক্কার জানাই সেই সব রাজনীতিবিদদের,সেই দালালদের যারাএর সপক্ষে থাকার জন্য।
আবারো ধন্যবাদ, ভাল থাকুন। +++++++++++++
চাচামিঞা বলেছেন:
পোস্ট টা স্টিকি করার জন্য মডারেটরদের আন্তরিক ধন্যবাদ.....ধন্যবাদ রাতমজুরকে এরকম বিশ্লেষন ধর্মী লিখা উপহার দেবার জন্য। ব্লগে এরকম আরো লিখা চাই।
লেখক বলেছেন: 'রাত' কে 'দিন' করে আপনার ধন্যবাদটা গ্রহণ করলাম।
লেখক বলেছেন: অমি রহমান পিয়ালের দেয়া লিংকটিতে ঢুকতে অনেক দেরী হয়ে গেল। লিংকটিতে 'আমার ব্লগ' নামের এক ব্লগে নীড় সন্ধানী নামের এক ব্যাক্তির একটি লেখা পাওয়া গেল। অমি রহমান ঠিক কেন এই লিংকটি এখানে দিলেন সেটি এখানে উল্লেখ করলে ভাল হতো। যাই হোক দেরীতে হলেও এই ভীষণ আপত্তিকর লেখাটি সম্পর্কে কিছু কথা বলা প্রয়োজন:
১)নীড় সন্ধানী ভাইজানের লেখাটার নাম "আকাশ পথে টিপাইমুখ ঘুরে আসি।" লেখাটা পড়ে আমার মধ্যে একই সাথে এত বিচিত্র সব অনুভূতির সঞ্চার হলো যে আক্ষরিক অর্থে আমি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলাম। বোধ শক্তি ফিরে আসায় কিছু দরকারী কথা বলছি।
প্রথমত, আফসোস। এই কারণে নয় যে আমরা টিপাইমুখের সত্যিকারের অবস্থান জানিনা বরং আফসোস এই কারণে যে নীড় সন্ধানী কিংবা সুযোগ সন্ধানী ভাইজান এত কষ্ট করে টিপাইমুখ, সুরমা, কুশিয়ারা সব ঘুরে আসার আগে কেন একটু বাংলাপিডিয়াটা কিংবা বাংলাদেশের নদ-নদীর উপর যেকোন বই একটু উল্টে পাল্টে দেখলেন না, তাহলে তো তাকে তার 'ক্ষুদ্র জ্ঞানে' এত কিছু 'মনে করা' কিংবা 'ধারনা করে' নেয়ার কষ্টটুকু করতে হতো না। তিনি ম্যাপের উপর দিয়ে ঘোরা-ফেরা করেই বুঝে ফেললেন:
'এই জায়গায় একটা ভুল ধারনা চলে আসছে। কুশিয়ারার উৎস বারাক ঠিক আছে, কিন্তু সুরমার উৎস বারাক নয়। কুশিয়ারা যেখান থেকে শুরু হয়েছে সেখানে সুরমার একটা লেজ এসে মিশেছে। ধারনা করি, জলধারা সুরমা থেকে কুশিয়ারামুখী। মানে সুরমা কুশিয়ারায় পানি সরবরাহ করে। কুশিয়ারার জল সুরমায় প্রবেশ করে না। এই ধারনার কারন হচ্ছে এই অঞ্চলের সবগুলো নদীর ধারা দক্ষিনমুখী। অর্থাৎ উত্তর থেকে দক্ষিন দিকে ছুটে বঙ্গোপসাগর ছোয় নদীগুলো.."
আসুন দেখি বাংলাপিডিয়া এ বিষয়ে কি বলে-
'বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় অমলসিধ নামক জায়গায় পৌছে বরাক নদী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি খাড়া এবং ভীষণ খরস্রোতা নদী সুরমা এবং কুশিয়ারা সৃষ্টি করেছে। সিলেট অববাহিকার উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে সুরমা শিলং এর খাসিয়া এবং জয়ন্তিয়া পাহার থেকে আসা কিছু শাখা-নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।.... সুরমা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় মেঘনার সাথে মিশেছে। কুশিয়ারার বাম পাশের শাখা নদীগুলো এসেছে ত্রিপুরার পাহাড় থেকে যার মধ্যে মনুনদী উল্লেখযোগ্য।... নদীদুটি মারকুলিতে মিলিত হয়ে ভৈরব হয়ে মেঘনা নামে চাদপুরে পদ্মার সাথে মিশেছে।"
সূত্র: http://banglapedia.search.com.bd/HT/R_0208.htm
কাজেই নীড় সন্ধানী ভাইজানের মনে হউক বা না হউক, সুরমা এবং কুশিয়ারা উভয় নদীরই অন্যান্য বিভিন্ন উতস থেকে আগত বিভিন্ন শাখা নদী থাকলেও এদুটি নদীরই মূল উতস হলো বরাক।( নাকি বলবেন বাংলাপিডিয়া লেখার সময়েও টিপাইমুখ বাধের কথা মাথায় রেখে কোন জামাতি এজেন্ট এইসব কথাবার্তা লিখে রেখে গেছে!)
একটা বিষয় খুবই অদ্ভুত। জামাত বিষয়টিকে ইস্যূ বানাচ্ছে বলে নীড় সন্ধানী বাবু পুরো বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করলেন! এটা কি ছেলেমানুষী নাকি অন্য কিছু?
২) আবার টিপাইমুখ বাধ বহুদূর বহুদূর বলে (এতদুর টিপাইমুখ! এখান থেকে বাংলাদেশের দিকে ফিরে চাইলাম। বহুদুর। দুইশ মাইলের মতো হবে। বেশীও হতে পারে। ) আসলে নীড় সন্ধানী ঠিক কি বোঝাতে চেয়েছেন, পরিস্কার বুঝলাম না। ব্যপারটা কি এরকম যে বাংলাদেশ থেকে টিপাইমুখ দুইশ মাইল দূরে বলে পানিপ্রবাহ বাড়া কমার প্রভাব বাধের আশেপাশের অঞ্চলের উপরই পড়বে,বাংলাদেশ দুইশ মাইল দূরে বলে বাংলাদেশের উপর তার কোন প্রভব পড়বে না! মুর্খ আর কাকে বলে! বাস্তবে বাংলাদেশ দুইশ মাইল দূরে বলে বাংলাদেশের উপর পানি বাড়া-কমার প্রভাব আরো বেশী পড়বে! বস্তুত নদীর গোটা পথকে যদি আমরা উচ্চ, মধ্য এবং নিম্ন এই তিনটি ভাগে ভাগ করি তাহলে দেখব বাংলাদেশ বরাকনদীর নিম্নপর্যায়ে অবস্থান করছে। আর নিম্ন পর্যায়ে হওয়ার কারণে বাংলাদেশে এসে বরাকের গতিবেগ সবচেয়ে কম। ফলে পানি যখন কমে যাবে তখন বাংলাদেশের কমগতিপ্রবাহ অঞ্চলেই পালি পড়ে নদীর বুক উচু হয়ে যাওয়া এবং তার প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তীতে জমির লবণাক্ততা কিংবা বন্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিম্ন অববাহিকার বাংলাদেশেই বেশী। আবার একই ভাবে নদীতে পানি বেড়ে গেলে কিংবা বাধ ভেঙে গেলে যে অধিক পরিমাণ পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হবে, নিম্ন অববাহিকায় এসে গতি কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশেই বন্য দীর্ঘস্থায়ী হবে কারণ পানি সরে যেতে সময় বেশী লাগবে।
৩) আবার সাম্রাজ্যবাদী ভারত সরকারের উপর তার ব্যাপক আস্থা রেখে তিনি বলেছেন:
"টিপাইমুখের ব্যাপারে আন্দোলনে আমি সায় পাচ্ছি না কারন টিপাইমুখে পরিবেশগত সে বিরূপ প্রভাবগুলোর আশংকা করা হচ্ছে তাতে ভারত নিজেও ক্ষতিগ্রস্থ হবে কারন ভারতের হাজার বর্গমাইল এলাকার স্বার্থ জড়িত এতে। বারাকের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে ভারত নিজেও ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সেই ক্ষতি আমাদের চেয়ে খুব একটা কম না। সে কারনেই মনে হয় না ভারত আত্মঘাতী কোন সিদ্ধান্ত নেবে।"
কোন পাড় ভারতীয় দেশপ্রেমিক নাগরিকেরও বোধ হয় ভারত সরকারের বিবেচনা বোধের প্রতি এমন তীব্র আস্থা নেই! অন্যান্য বিষয় বাদ দিলাম, আসুন দেখি এই ধরণের বাধ নির্মাণ নিয়ে একজন ভারতীয় লেখক অরুন্ধুতি রায় কি বলেন:
According to a detailed study of 54 Large Dams done by the Indian Institute of Public Administration, the average number of people displaced by a Large Dam is 44,182. Admittedly, 54 dams out of 3,300 is not a big enough sample. But since it's all we have, let's try and do some rough arithmetic. A first draft. To err on the side of caution, let's halve the number of people. Or, let's err on the side of abundant caution and take an average of just 10,000 people per Large Dam. It's an improbably low figure, I know, but ...never mind. Whip out your calculators. 3,300 x 10,000 =
33 million. That's what it works out to. Thirty-three million people. Displaced by big dams alone in the last fifty years What about those that have been displaced by the thousands of other Development Projects? At a private lecture, N.C. Saxena, Secretary to the Planning Commission, said he thought the number was in the region of 50 million (of which 40 million were displaced by dams). We daren't say so, because it isn't official. It isn't official because we daren't say so. You have to murmur it for fear of being accused of hyperbole. You have to whisper it to yourself, because it really does sound unbelievable. It can't be, I've been telling myself. I must have got the zeroes muddled. It can't be true. I barely have the courage to say it aloud. To run the risk of sounding like a 'sixties hippie dropping acid ("It's the System, man!"), or a paranoid schizophrenic with a persecution complex. But it is the System, man. What else can it be?
Fifty million people.
Go on, Government, quibble. Bargain. Beat it down. Say something.
I feel like someone who's just stumbled on a mass grave.
Fifty million is more than the population of Gujarat. Almost three times the population of Australia. More than three times the number of refugees that Partition created in India. Ten times the number of Palestinian refugees. The Western world today is convulsed over the future of one million people who have fled from Kosovo.
A huge percentage of the displaced are tribal people (57.6 per cent in the case of the Sardar Sarovar Dam). Include Dalits and the figure becomes obscene. According to the Commissioner for Scheduled Castes and Tribes, it's about 60 per cent. If you consider that tribal people account for only eight per cent, and Dalits fifteen per cent, of India's population, it opens up a whole other dimension to the story. The ethnic 'otherness' of their victims takes some of the pressure off the Nation Builders. It's like having an expense account. Someone else pays the bills. People from another country. Another world. India's poorest people are subsidising the lifestyles of her richest.
সূত্র: http://www.narmada.org/gcg/gcg.html
এই হলো সাম্রাজ্যবাদী ভারতের বিবেচনা বোধ যার উপরে সুযোগ সন্ধানী সাহেব ব্যপক আস্থা পোষণ করেছেন। সরদার সরোবর বা নর্মদা বাধের মতো ৩,৩০০ বাধের ক্ষেত্রে পরিবেশ কিংবা বাস্তুচ্যূত মানুষ( যাদের ৫৭.৬ % ই আদিবাসী) যেমন ভারতের শাসক শ্রেণীকে বিচলিত করেনি তেমনি টিপাইমুখ বাধের ক্ষেত্রেও মনিপুর অঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ কিংবা ৪০ হাজার আদিবাসীর( হামার, জেলিয়ারাং নাগা যার মধ্যে প্রধান) বাস্তুচ্যুতিতেও তেমনি ভারতের শাসক শ্রেণীর কিছু যায় আসবে না যেকারণে মণিপুরের হাজার হাজার মানুষের প্রতিবাদ সত্ত্বেও একেবারে মিলিটারী নিয়োগ করে চলছে টিপাইমুখ বাধ নির্মাণের পায়তারা।
আশা করি এরপর থেকে নীড় সণ্ধানী ভাইজান সাম্রাজ্যবাদী ভারতের উপর আস্থাটা আরেকটু কম করে পোষণ করবেন!
মুসতাইন জহির বলেছেন:
উদ্যোগ আরো প্রসারিত হোক। এর চেয়ে বড় জাতীয় স্বার্থের ইস্যু আমাদের সামনে খুব বেশি একটা নাই। গণসম্পৃক্ত কর্মকান্ডের কৌশল নিয়ে আলাপ-আলোচনা শরু হওয়া দরকার। প্রতিরোধেল স্বার্থেই।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
@ অমি রহমান পিয়াল, পানি ঘোলা করে ফায়দা তুলতে চান? টিপাই মুখী বাধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ভারতীয় দালাল-তাবেদার ছাড়া সবাই একমত। তাই এটাকে জামাতের এজেন্ডা বলে এই আন্দলোন কে দমানো যাবে না। আর এটাকে পুজি করে জামাতীরা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারবে না যদি না আলীগের কিছু মন্ত্রী ভারতীয়(দালালী) সুরে বক্তব্য দেয়। বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক বেশী সচেতন তাই জামাত তাদের ধোকা দিতে পারবে না। এই সামু তে কোনদিন ফারাক্কার বিরুদ্ধে বলেছেন যে ভারত আমাদের কে শুস্ক মৌসুমে পানি কম দেয়? ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শতাধিক নদী বিলুপ্ত সহ পরিবেশ বিপন্ন হয়ে গেছে এটা বলতে গেলে কি জামাতী হওয়া লাগে? যতই ভারত প্রীতি দেখান বাংলাদেশের জনগণ এবার সোচ্চার ফারাক্কার মত টিপাই বাধ পরীক্ষার অনুমতি দিলে সমগ্র বাংলাদেশে দূর্বার আন্দলোন গড়ে উঠবে তখন পালানোর পথ খুজে পাবেন না। তাই এখনও সময় আছে টিপাই বাধ কে না বলুন।
মনজুরুল হক বলেছেন:
প্রচন্ড শ্রমসাধ্য লেখাটির জন্য অভিবাদন নিন। আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত। তবে আমরা ঘরপোড়া গরু তো! সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পাই! এবং সিঁদুরে মেঘ আছেও এখানে।
শুনতে খারাপ লাগলেও এটা সত্যি যে, এখানে আন্দোলন করে তেমন কিছু হবে না। নেপাল,চীন,ভূটান কে সাথে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার-প্রপাগান্ডা চালাতে পারলে হয়ত কিছুটা ফল পাওয়া যেত। অভিন্ন নদীপ্রবাহ হোক আর আন্তর্জাতিক রীতিনীতি হোক, একটা দেশ তার ভূখন্ডে যে কোন নির্মাণ করতে পারে। সেটা অন্য দেশের জন্য মরণফাঁদ হলে যার মরণফাঁদ তাকেই দৌড়ঝাঁপ করতে হবে।
তবে সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে ভারতকে বাধ্য করার মত কূটনৈতিক ক্ষমতা বা প্রভাব রাখে না। শেষ পর্যন্ত পীনাক রঞ্জনের মিঠে কথায় সন্তুষ্ট হওয়া ছাড়া তেমন কিছুই হবে নাআমাদের সরকারের দ্বারা। মাঝখান থেকে জামাত সহ কিছু ধর্মান্ধ দল কিছুদিন মাঠ গরম করার সুযোগ পাবে এই যা এ্যাচিভমেন্ট।
এটা অবশ্যই আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলতে হবে, আর সেটা এক্ষুনি......সরকার তা পারবে বলে মনে হয়না।
লেখক বলেছেন: ভাই ঠেলায় পড়লে বিড়ালও গাছে উঠে। সুতরাং ঠিক ঠাক ঠেলা দিলে, গদি বাচানোর তাগিদে সরকার ঠিকই প্রতিবাদ করতে বাধ্য হবে।
শয়তান বলেছেন:
আগে শুনতাম তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাকি পানির জন্য হবে । তখন বুঝতাম না । কিন্তু এখন মনে হয় তাই হবে ।
শয়তান বলেছেন:
আগে শুনতাম তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাকি পানির জন্য হবে । তখন বুঝতাম না । কিন্তু এখন মনে হয় তাই হবে ।
হিটলারের সাগরেদ বলেছেন:
জানিনা, আমাদের কি করার আছে। কিন্তু আমি সুযোগ পেলে আমার সব কিছু দিতে রাজি আছি ভারতের বিরুদ্ধে।
রাশেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ শেয়ারের জন্য।
বাঙ্গাল বলেছেন:
priyo te. +++
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
(আঠা লাগানো পোস্টে ঢুকি না সাধারনত। কিন্তু এইখানে নিরুপায়!)১. পোস্টে পরিস্কার যে, এইটা শুধু বাংলাদেশের জন্য না ভারতের ওই অঞ্চলের জন্যও ক্ষতিকর হবে। সুতরাং ওইখানকার মানুষের সাথেও সংগ্রামের যোগ থাকা চাই। সম্মিলিত হওয়া চাই।
২. জামায়াত বা বিএনপির লোকজন যেভাবে এইটারে ব্যবহার করতে চায় সেই সুযোগ না দেয়া জরুরী। তিস্তা বাধ সাক্ষী আছে। তয় আওয়ামী লীগের লোকজন যেভাবে এইটারে হালকা কইরা দেখাইতে চায় তাদের নাকচ করে দেয়া আরো বেশি জরুরী।
এইখানে এইবিষয়ে একটা ফেসবুক গ্রুপ আছে
আফজাল বলেছেন:
আফজাল বলেছেন:
ভাল হয়নি! কিন্তু খুউব ভাল হয়েছে ! এবং ভাল লেগেছে ।
প্রণব চক্র বলেছেন:
বলার কিছু নেই
Click This Link
এস. এম. রায়হান বলেছেন:
সময়োপযোগী ও তথ্যবহুল পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ। +
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: ফেইস বুকের বর্ণনাটা এখান থেকে কপি পেস্ট করার জন্য ধন্যবাদ। তবে একটু সংশোধন করা দরকার-
শেষের "ঐ বিশদ পরিকল্পনারই একাংশ মাত্র১ যার খেসারত দিতে হবে আসাম-মণিপুর-মিজোরাম রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং বাংলাদেশের জনগণকে।"---- এই লাইনে 'একাংশ মাত্র' এর পর যে ১ সংখ্যাটি রয়েছে সেটা আমার লেখার এই শুরুর অংশটি( যেটুকু আপনারাও ব্যবহার করেছেন) যে প্রকৌশলি হিলালউদ্দিনের কাছ থেকে নেয়া সে সূত্র নির্দেশ করার জন্য করা হয়েছে। ফলে আপনারা ঐ ১ সংখ্যাটি মুছে দিয়ে সূত্র হিসাবে সরাসরি হিলালউদ্দিনের নাম ব্যবহার করলে মনে হয় খুব ভাল হয়।
নইলে কিন্তু পরে অনেক কনফিউসন তৈরী হবে। পুরো সূত্রটির জন্য আমার লেখার শেষের তথ্যসুত্র ১ দেখুন।
হরিণ বলেছেন:
কোটি কোটি অভিনন্দন আপনাকে। দারুন কাজ। বেশ তথ্যবহুল একটি পোস্ট। অনেক ধন্যবাদ।অনলাইনে ছিলাম না বলে ধন্যবাদ জানাতে দেরি হয়ে গেছে। তারজন্য সরি।
বাঙ্গাল বলেছেন:
প্রিন্ট কইরা নিলাম...পরের জেনারেশনের কাজে লাগব
শুভ৭৭ বলেছেন:
টিপাই মুখ বাঁধের বিরুদ্ধে কারা আছেন? আওয়াজ তুলেন। আর চুপ থাকা নয়। শুরু হোক জোরালো প্রতিবাদ।Click This Link
সিনিয়র জনপ্রিয় ব্লগার হিসাবে আপনার মন্তব্য আশা করছি ঐ পোষ্টে।
দিনমজুর বলেছেন:
সাপ্তাহিক ২০০০ তার ১২ জুন ২০০৯ সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছে স্টপ টিপাইমুখ নামের একটি প্রতিবেদন দিয়ে। প্রতিবেদকের নাম নুরুজ্জামান বাবু। টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ -----লেখাটি থেকেই বাবু সাহেব তার প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন। কিন্তু তিনি কোন সূত্র উল্লেখ করেননি। না করুন, তাতে আমাদের কোন আপত্তি নাই। তবে পুরো বিষয়টির সাথে পুজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের যোগসূত্রের বিষয়টি তিনি পুরোই বাদ দিয়ে দিয়েছেন। এই বাদ টুকু না দিলে ভাল হতো- সাপ্তাহিক ২০০০ এর বিশাল পাঠক যাদের অনেকেই হয়তো অনলাইন কমিউনিটির বাইরে তাদের কাছে পুরো লেখাটি পৌছে যেত।
যুগান্তকারী বলেছেন:
কোন ৩ শূয়োরের বাচ্চাদের ভালো লাগে নি একবার সাহস করে বলে যাতো।এই শুয়োরের বাচ্চারা ভালো পোস্টের মর্যাদাও বুঝে না।ভাই এই পোস্ট দেয়ার জন্য আপনাকে ঝাজা।
ফজলে রাব্বানি বলেছেন:
আমার শৈশবের নদীটা শুকিয়ে যাবে...?ভাই, কেউ একটা ডাক দেন। সবাই জড়ো হই, যাতে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- আমরা হাত পা গুটিয়ে ছিলাম না!
শাফ্ক্বাত বলেছেন:
দেশের ভেতরে ও বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক বাংলাদেশী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং অসাম্প্রদায়িক ভাবে একত্রিত হচ্ছে এই ইস্যুকে তুলে ধরে এই বাঁধের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলার জন্যে।আপনারা এই লিঙ্কে গিয়ে তাদের সাথে যোগ দিতে পারেন।
আমিও আছি তাদের সাথে। একসময় সারাদেশের মানুষ আমরা একত্রিত হতে পারবো। কোনও একটা পয়েন্ট থেকে তো শুরু করা দরকার!!
টিপাইমুখ বাঁধের প্রতিবাদ
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



































