
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই ফেসবুকে বেশ লেখালেখি দেখছি। আজ খবরের কাগজটা উল্টাতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই একই করুণ চিত্র। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাদারীপুরের ভুরঘাটা— এই সাতচল্লিশ কিলোমিটার রাস্তা যেন একটা আস্ত মরণকূপ। গাড়িগুলো হেলেদুলে চলে, আর যাত্রীদের বুক কাঁপতে থাকে। পিচ উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে আছে, যেন ধানক্ষেত।
অথচ এই রাস্তাটাই দক্ষিণ আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুই-আড়াই লাখ মানুষের রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ হাজার যানবাহন চলে এই পথে। কিন্তু অবস্থা দেখলে মনে হয় দেখার কেউ নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সংস্কার কাজ করে, তখন কোথায় যেন সব ফাঁকি দিয়ে যায়! অল্প কদিন যেতে না যেতেই আবার আগের সেই খানাখন্দ। একটু বৃষ্টি বা অতিরিক্ত চাপে রাস্তা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
খবর দেখলাম, চলতি বছরেই এই একটা সড়কে বিশটি দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে অন্তত ত্রিশটি তাজা প্রাণ। আহত হয়েছেন আরও কত মানুষ, তার হিসাব কে রাখে! রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলার সময় পাথর ছিটে এসে যাত্রীদের গায়ে লাগে। পাশাপাশি দুটো গাড়ি যাওয়ারও উপায় নেই। অটো, ভ্যান, রিকশা— সব মিলিয়ে একাকার কাণ্ড। চালকরা ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারেন না, আর যাত্রীরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
সড়ক বিভাগ অবশ্য বরাবরের মতো এবারও আশার বাণী শুনিয়েছে। নাকি টেন্ডার হয়েছে, রাস্তা বড় করা হবে, আরসিসি ঢালাই হবে। তেষট্টি কোটি টাকার একটা বড় বরাদ্দও নাকি আছে এই অর্থবছরে। কথাগুলো শুনতে বেশ ভালোই শোনায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই যে চোখের সামনে এতগুলো মানুষ মারা গেল, এর দায় কে নেবে? উন্নয়ন আমাদের দরকার, কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, তবে তাকে তো আর উন্নয়ন বলা যায় না। মানুষ একটু শান্তিতে চলাচল করতে চায়, এর চেয়ে বেশি কিছু তো তারা চায় না।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



