somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘাতক বাহিনীর হোতা জামাত।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হুমায়ূন রেজা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পরেই ৪ এপ্রিল এদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী (১৯৭১ সালের ২ আগস্ট দি ইস্ট পাকিস্তান রাজাকারস অর্ডিন্যান্স, ৭১ এর মাধ্যমে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয় এবং ৭ আগস্ট ১৯৭১-এ পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে রাজাকার বাহিনীকে সরাসরি পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অধীনে আনা হয় অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে) রাজাকার বাহিনীর মুখ্য নির্দেশদানকারী গোলাম আযম হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা সামরিক শাসক এবং তৎকালীন গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করে তাকে ‘পূর্ণ সহযোগিতার’ আশ্বাস দেন (দৈনিক পূর্বদেশ, ৬ এপ্রিল, ১৯৭১)। ২৫ মার্চের সেই মর্মš'দ গণহত্যাকাণ্ডের পর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে, সশরীরে এবং বিভিন্নভাবে নির্দেশ দিয়ে গোলাম আযম তার অপরাপর দোসর মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ গংদের নিয়ে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে তার সেই “পূর্ণ সহযোগিতা” চালিয়ে গেছেন। ১১ এপ্রিল ১৯৭১ এ দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর বক্তব্য ছিলÑ “এটা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ‘তথাকথিত স্বাধীন বাংলা’ আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে চিরতরে গোলামে পরিণত করার জঘন্য ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়”। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সহযোগীদের মনোভাব ২৫ মার্চের নৃশংস গণহত্যার ১৫ দিন পরেই তাদের নেতা গোলাম আযম এবং নিজামীর মুখ থেকে এভাবেই নিঃসৃত হয়েছিল।
ইয়াহিয়া খানের সামরিক জান্তার পক্ষে এই নৃশংস গণহত্যা এবং নারী নির্যাতন সম্ভব হয়েছিলো জামাতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামীর মতো দলের সক্রিয় সহযোগিতার কারণে। জামাতে ইসলামী শুধু পাকিস্তানি হানাদারদের সমর্থন দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা নিজেরাও হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের জন্য রাজাকার, আল বদর, আল শামস প্রভৃতি ঘাতক বাহিনী গঠন করেছিল। ’৭১ এ ঘাতক আল বদর বাহিনীর (যে বাহিনীর প্রধান সংগঠক ছিলেন জামাতের বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামী) প্রধান দায়িত্ব ছিল তালিকা প্র¯'ত করে দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের হত্যা করা।
ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সা¤প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী “পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকার, আল বদর, আল শামস এবং তাদের অন্যান্য সহযোগীরা ১৯৭১ সালে দেশে যে ব্যাপক গণহত্যা ও নারী নির্যাতন চালায় তাতে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়!’’ এর বাইরের হিসাব হয়তো আগামীতে আমরা পাবো! “এ পর্যন্ত গণকবর এবং গণহত্যার নিদর্শন সংবলিত জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে প্রায় ৯২০টি। ৮৮টি নদী ৬৫ টি ব্রিজের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৪ লাখ ৬০ হাজার নির্যাতিত নারীর পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।” হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনে পাকিস্তানি দখলদারদের সহযোগীরা সারাদেশে শুধুমাত্র সহযোগী হিসেবেই ছিল তা নয় এই নৃশংস গণহত্যার প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদেরকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর চাইতেও নৃশংস ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে। প্রকৃতপক্ষে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করে (ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, কম্পটনস এনসাইক্লোপিডিয়াতেও গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা ত্রিশ লাখ বলে উল্লেখ করা হয়েছে)। ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে প্রথম ৬ মাসে (মার্চ-আগস্ট, ১৯৭১) তারা (পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা) হত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগ করে কেবলমাত্র ৬৯.৭১ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল। (সূত্র: বাংলাদেশ ডকুমেন্টস, পৃষ্ঠা ৪৪৬, ভারত সরকারের বৈদেশিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত)

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×