নিজ এলাকায় স্থান হয়নি, শ্বশুরবাড়িতে দাফন হলো রিজু রাজাকারের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যপ্রয়াত শিক্ষক রেজাউল করিমকে মঙ্গলবার শ্বশুরবাড়িতে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাসহ জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের ঘোষণায় জন্মস্থান মাগুরায় নেওয়া হয়নি চিহ্নিত এ রাজাকারের লাশ।
এদিকে রিজু রাজাকারের কবর ফেনীতেও না রাখার ঘোষণা দিয়েছে ফেনীর মুক্তিযোদ্ধারা। এক সপ্তাহের মধ্যে কবরটি ফেনী থেকে সরিয়ে নিতে তার পরিবারের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড।
মঙ্গলবার রাতে এক বৈঠক শেষে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব সাংবাদিকদের বলেন, "এক সপ্তাহের মধ্যে রাজাকারের কবর সরিয়ে নেওয়া না হলে আমরা আবার মাঠে নামব।"
রেজাউল করিমের বাড়ি মাগুরা জেলা শহরের কাউন্সিল পাড়ায়। নিজ এলাকায় রিজু রাজাকার নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নির্যাতন-নিপীড়ণের সাক্ষী হয়ে আছেন অনেকেই। আর তাই স্বাধীনতার পর জন্মস্থানে প্রকাশ্যে কখনো যাননি রিজু রাজাকার।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম (৫৫) রোববার রাতে মস্তিস্কের রক্তক্ষরণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর পরপরই মাগুরায় খবর আসে তাকে মাগুরা এনে পৌর গোরস্থানে দাফন করা হবে। এ সংবাদ শোনার পর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ স্থানীয় জনতা রাজাকারের লাশ এলাকায় কবর দেওয়া প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে পৌর গোরস্থানে লাশ দাফন না করার জন্য পৌর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। মাগুরায় রেজু রাজাকারের লাশ আনা রুখতে মুক্তিযোদ্ধারাসহ শহীদ পরিবার অবস্থান নেয় পৌরসভার গোরস্থানের সামনে।
মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার খান আলী রেজা জানান, রিজুর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকার বিশিষ্ট ফুটবলার লুৎফর রহমান লুতু, মোল্যাপাড়ার গোলাম কবির, আলোকদিয়ার বাকু, হাজিপুর গ্রামের মজিবর, খানপাড়ার কাদের খান, মোবাশ্বের মধু, মীর পাড়ার হামেদ মীরসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। তার স্থান মাগুরার মাটিতে হতে পারে না।
আলী রেজা বলেন, "রিজু নিজ হাতে মানুষকে জবাই করতো। সে এবং তার বাহিনী নিরীহ মানুষকে হত্যার পর শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায় নবগঙ্গা নদীতে লাশগুলো ফেলে দিত।"
'৭১ এ শহীদ লুৎফুন্নাহার হেলেনার ভাই আলমগীর হোসেন বলেন, "আমার বোনের লাশ মাটিতে দাফনের সুযোগ পাইনি আমরা। ওই রাজাকারের লাশ মাগুরার মাটিতে হওয়ার প্রশ্নই আসে না।"
তিনি জানান, তার বোন ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী ছিলেন। রেজু রাজাকার তাকে ধরে নিয়ে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরে তাকে হত্যা করা হয়। তার লাশ পাওয়া যায়নি।
মুক্তিযোদ্ধা আলী রেজা বলেন, "রিজু নিজ হাতে মানুষকে জবাই করতো। হত্যার পর শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায় নবগঙ্গা নদীতে লাশগুলো ফেলে দিত।"
মাগুরায় লাশ নিতে না পেরে মঙ্গলবার ফেনীতে শ্বশুরবাড়িতে রেজাউল করিমকে দাফন করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের উত্তর ফরহাদ নগর গ্রামে মিয়াজি বাড়ির গোরস্থানে অধ্যাপক করিমকে দাফন করা হয়।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাড়িতে করে লাশটি ওই গ্রামে আনা হয়। একই গাড়িতে আসেন রেজাউল করিমের স্ত্রী হাসিনা আক্তার, তাদের একমাত্র মেয়ে এবং দুজন শিক্ষক। তবে তারা কারো সঙ্গে কথা বলেননি। জনাবিশেক লোকের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে রেজাউল করিমকে দাফন করা হয়।
হাসিনা আক্তারের ছোট ভাই মোহাম্মদ হারুণ সাংবাদিকদের জানান, ১৯৮৪ সালে তার বোনের সঙ্গে অধ্যাপক রেজাউল করিমের বিয়ে হয়। বিয়ে হয় ফেনীতেই। বিয়ের পর রেজাউল শ্বশুরবাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তার আপাও মাগুরা যায়নি।
হারুণ বলেন, "দুলাভাই রাজাকার ছিলেন, এমন তথ্য আমরা জানতাম না।"
তিনি জানান, লাশ ফেনীতে দাফন হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে মাগুরা থেকে রেজাউল করিমের ভাইসহ কয়েকজন আত্মীয় স্বজন তাদের বাড়ি এসেছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু জানান, তারা রেজাউল সম্পর্কে কিছু জানতেন না।
এদিকে ফেনীর মাটিতে রিজু রাজাকারের দাফনের খবরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ফেনী শহরে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।