somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজ এলাকায় স্থান হয়নি, শ্বশুরবাড়িতে দাফন হলো রিজু রাজাকারের

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যপ্রয়াত শিক্ষক রেজাউল করিমকে মঙ্গলবার শ্বশুরবাড়িতে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাসহ জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের ঘোষণায় জন্মস্থান মাগুরায় নেওয়া হয়নি চিহ্নিত এ রাজাকারের লাশ।

এদিকে রিজু রাজাকারের কবর ফেনীতেও না রাখার ঘোষণা দিয়েছে ফেনীর মুক্তিযোদ্ধারা। এক সপ্তাহের মধ্যে কবরটি ফেনী থেকে সরিয়ে নিতে তার পরিবারের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড।

মঙ্গলবার রাতে এক বৈঠক শেষে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব সাংবাদিকদের বলেন, "এক সপ্তাহের মধ্যে রাজাকারের কবর সরিয়ে নেওয়া না হলে আমরা আবার মাঠে নামব।"

রেজাউল করিমের বাড়ি মাগুরা জেলা শহরের কাউন্সিল পাড়ায়। নিজ এলাকায় রিজু রাজাকার নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নির্যাতন-নিপীড়ণের সাক্ষী হয়ে আছেন অনেকেই। আর তাই স্বাধীনতার পর জন্মস্থানে প্রকাশ্যে কখনো যাননি রিজু রাজাকার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম (৫৫) রোববার রাতে মস্তিস্কের রক্তক্ষরণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর পরপরই মাগুরায় খবর আসে তাকে মাগুরা এনে পৌর গোরস্থানে দাফন করা হবে। এ সংবাদ শোনার পর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ স্থানীয় জনতা রাজাকারের লাশ এলাকায় কবর দেওয়া প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে পৌর গোরস্থানে লাশ দাফন না করার জন্য পৌর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। মাগুরায় রেজু রাজাকারের লাশ আনা রুখতে মুক্তিযোদ্ধারাসহ শহীদ পরিবার অবস্থান নেয় পৌরসভার গোরস্থানের সামনে।

মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার খান আলী রেজা জানান, রিজুর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকার বিশিষ্ট ফুটবলার লুৎফর রহমান লুতু, মোল্যাপাড়ার গোলাম কবির, আলোকদিয়ার বাকু, হাজিপুর গ্রামের মজিবর, খানপাড়ার কাদের খান, মোবাশ্বের মধু, মীর পাড়ার হামেদ মীরসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। তার স্থান মাগুরার মাটিতে হতে পারে না।

আলী রেজা বলেন, "রিজু নিজ হাতে মানুষকে জবাই করতো। সে এবং তার বাহিনী নিরীহ মানুষকে হত্যার পর শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায় নবগঙ্গা নদীতে লাশগুলো ফেলে দিত।"

'৭১ এ শহীদ লুৎফুন্নাহার হেলেনার ভাই আলমগীর হোসেন বলেন, "আমার বোনের লাশ মাটিতে দাফনের সুযোগ পাইনি আমরা। ওই রাজাকারের লাশ মাগুরার মাটিতে হওয়ার প্রশ্নই আসে না।"

তিনি জানান, তার বোন ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী ছিলেন। রেজু রাজাকার তাকে ধরে নিয়ে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরে তাকে হত্যা করা হয়। তার লাশ পাওয়া যায়নি।

মুক্তিযোদ্ধা আলী রেজা বলেন, "রিজু নিজ হাতে মানুষকে জবাই করতো। হত্যার পর শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায় নবগঙ্গা নদীতে লাশগুলো ফেলে দিত।"

মাগুরায় লাশ নিতে না পেরে মঙ্গলবার ফেনীতে শ্বশুরবাড়িতে রেজাউল করিমকে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের উত্তর ফরহাদ নগর গ্রামে মিয়াজি বাড়ির গোরস্থানে অধ্যাপক করিমকে দাফন করা হয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাড়িতে করে লাশটি ওই গ্রামে আনা হয়। একই গাড়িতে আসেন রেজাউল করিমের স্ত্রী হাসিনা আক্তার, তাদের একমাত্র মেয়ে এবং দুজন শিক্ষক। তবে তারা কারো সঙ্গে কথা বলেননি। জনাবিশেক লোকের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে রেজাউল করিমকে দাফন করা হয়।

হাসিনা আক্তারের ছোট ভাই মোহাম্মদ হারুণ সাংবাদিকদের জানান, ১৯৮৪ সালে তার বোনের সঙ্গে অধ্যাপক রেজাউল করিমের বিয়ে হয়। বিয়ে হয় ফেনীতেই। বিয়ের পর রেজাউল শ্বশুরবাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তার আপাও মাগুরা যায়নি।

হারুণ বলেন, "দুলাভাই রাজাকার ছিলেন, এমন তথ্য আমরা জানতাম না।"

তিনি জানান, লাশ ফেনীতে দাফন হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে মাগুরা থেকে রেজাউল করিমের ভাইসহ কয়েকজন আত্মীয় স্বজন তাদের বাড়ি এসেছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু জানান, তারা রেজাউল সম্পর্কে কিছু জানতেন না।

এদিকে ফেনীর মাটিতে রিজু রাজাকারের দাফনের খবরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ফেনী শহরে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম


৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×