সম্প্রতি ইভ টিজিং শব্দটি টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। ইভ টিজিং এর প্রতিবাদ করায় নাটোরে অধ্যাপক মিজানুর রহমান খুন হয়েছেন, মধুখালিতে প্রতিবাদী মা চাঁপা রাণীকে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, রায়গন্জে রূপালী রানী আত্মহত্যার পর সরকার নড়েচড়ে বসেছে। ইভ টিজিং এর বিরুদ্ধে প্রচার অভিযানে নেমেছে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা করছে, টাংগাইলে ঘটা করে মেয়েদেরকে ক্যারাতে শেখানো হচ্ছে। ফলাফল- কুড়িগ্রামে প্রতিবাদকারী নানা খুন, দিনাজপুরে প্রতিবাদকারী কিশোরী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে, বদরগন্জে কিশোরীর ৩টা দাঁত ভেঙে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে-অভিযুক্ত ৩ যুবকের জরিমানার ১৫০০০টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক ইভ টিজিং এর খবর জেল জরিমানার খবর প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে ,মনে করি অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত রয়ে যাচ্ছে। যে সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার ফলাফলা কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। জনসচেতনা সৃষ্টিতে যতই প্রচার চালানো হোক না কেন চোরায় কখনও ধর্মের কথা শোনে না, আর সচেতন হয়েও ওদের হাত থেকে রক্ষা না । মেয়েরা যদি ক্যারাতে শিখে তবে ইভ টিজাররাও শিখতে পারে এ বিষয়টা মনে হয় আয়োজকরা মাথায় আনেননি। মিবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরকারের কিছু অর্থ উপার্জন হচ্ছে সন্দেহ নাই, তবে ২/৪ দিন বা ৩/৬ মাসের জেল খাটা ইভ টিজাররা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ভিকটিম ও তার পরিবারের আরও ক্ষতি এমন কি প্রাণ হানি পর্যন্ত ঘটাতে পারে এতে কোনো সন্দেহ নাই। শোনা যাচ্ছে আগামী সংসদ অধিবেশনে ইভ টিজিং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইন করা হবে। যত কিছুই করা হোক সাময়িক উপশম হতে পারে , রোগ নির্মূল হবে না। কোনো সমস্যার সমাধান চাইলে তার গভীরে যেতে হবে, মূল উৎপাটন করতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ইভ টিজিংই দেশের একমাত্র অপরাধ। আমার মনে হয় দেশে অসংখ্য বড় বড় অপরাধের ভিড়ে ইভ টিজিং একটা মাঝারি ধরনের অপরাধ। চুরি, ভোটচুরি, পুকুরচুরি,ডাকাতি,হত্যা,ধর্ষণ, ধর্ষণ শেষে হত্যা, দূর্ণীতি ,স্বজনপ্রীতি, নারী ও শিশু নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার,নকল-ভেজাল, ভেজাল ওষুধে মানুষ হত্যা, ভুল চকিৎসায় মানুষ হত্যা,চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, মাস্তানি, মাদক পাচার-বিক্রি,কালোবাজারি, চাল-গম চুরি রিলিপের টিন চুরি, যৌতুক,মুক্তিপণ-- এরকম হাজারো অপরাধের মধ্যে ইভ টিজিংও একটি অপরাধ.। যে সমাজে অপরাধের বিচার হয় না, দূর্ণীতবাজ-ঘুষখোর অপরাধীরা বড় আসন পায়, পদ-পদবি, মান-দাম পায় সে সমাজে অপরাধের প্রবনতা দিনদিন বেড়ে যায়। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক দিয়ে ক্ষমতাধররা, তাদের ছেলে পুলে আত্মীয়রা, তাদের ছত্রছায়ায় যারা ণালিত পালিত তারই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইভ টিজিং করে। গ্রামের সুন্দরী বৌ-ঝি দেখলে টিজ করা যেন মোড়ল, তার ছেলে পুলে আত্মীয় বা তাদের লালিতদের বৈধ অধিকার। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে,শহরের রাস্তায় মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে, দোকানে, চাখানায় বসে যারা ইভ টিজিং করে তারাও প্রভাবশালী বা তাদের চামচা, মাস্তান ইত্যাদি। হত্যাকারী যেখানে বুক ফুলিয়ে ঘোরে , ধর্ষকের বিচার হয় না , ধর্ষিতা প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হু মকি দেওয়া হয়, ধর্ষিতার ইজ্জতের দাম ২/৪ হাজার টাকা ধার্য করে ধর্ষককে ক্মুক্তি দেওয়া হয় সেখানে ইভ টিজিং বড় অপরাধ বলে মনে হয না আমার কাছে। সমাজ একটা দেহের মত। সমাজ দেহে অপরাধ নামক অসংখ্য রোগ বাসা বেধেছে, শুধু ইভ টিজিং নামক একটা মাঝারি রোগের চিকিৎসা করে তাকে নির্মূল করা যাবে না তাতে আইন যতই কঠিন ও কঠোর হোক না কেন। হত্যা,ধর্ষন,ঘুষ,দূর্ণীতি,ভোট ডাকাতি ইত্যাদি বড় বড় অপরাধ সমাজ থেকে নির্মূল হলে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ইভ টিজিং এর মত অন্য সকল অপরাধ সমাজ থেকে দূর হয়ে যাবে। ক্যারাতে ,মোবাইল কোর্ট, হাই কোর্ট করে কিছু হবে না তা সহজেই অনুমেয়। কারণ ইভ টিজাররা অর্থ, প্রভাব, ইভ টিজিং এর সংগা, আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে ঠিকই বেড়িয়ে যাবে
আলোচিত ব্লগ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।