প্রথম আলোতে ঠিক এই লাইনগুলাই লেখা-
"হঠাৎ ধর্মঘটের কারণে কাল সকালে ঘর থেকে বেরিয়েই ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানী ও আশপাশসহ সারা দেশের মানুষ। সোমবার সন্ধ্যায় ও রাতে দূরপাল্লার বাস-ট্রাক যাত্রী ও পণ্যসহ আটকা পড়ে। সকালে গাবতলী, কাঁচপুর সেতু, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জসহ ঢাকার সব প্রবেশমুখে যানবাহন আটকে দেওয়া হয়। দূর থেকে আসা যাত্রীরা টার্মিনালের অনেক দূরে নেমে হেঁটে, রিকশায় ও রিকশাভ্যানে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আবার রাজধানী শহরের ভেতরেও সীমিতভাবে যানবাহন চলে।
এই দুর্ভোগের পরও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ধর্মঘটের পক্ষেই সাফাই গাইলেন। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারে। আপনিও করেন, আমিও করি। ঠিক একইভাবে ওরাও (শ্রমিক) ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, চালকেরা মনে করেছেন, তাঁরা মৃত্যুদণ্ডাদেশ বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের মতো রায় মাথায় নিয়ে গাড়ি চালাবেন না। তাই তাঁরা স্বেচ্ছায় গাড়ি চালাচ্ছেন না। এটাকে ধর্মঘট নয় ‘স্বেচ্ছায় অবসর’ বলা যেতে পারে।"
এবারই প্রথম না। এর আগেও এই গডফাদার মন্ত্রী মহোদয় যাত্রীর চেয়ে তার আগের পেশার সহকর্মীদের সার্থই দেখে গেছেন। রাস্তার সিগনাল চেনার চেয়ে গরু ছাগল চেনে কিনা ড্রাইভার সেটা দাবি করা হয়েছিল ড্রাইভিং পারমিটের পরীক্ষার মূল ভিত্তি। উনার কাজ জাহাজ ঠিকমত চলে কিনা সেটার খবর রাখা। এখনও বাস/ট্রাক ড্রাইভারদের নেতাগিরি করেন কিভাবে? ওনার অনুমতিতে ওনার সামনে এই ধর্মঘটের সূচনা। এটা কি প্রশাসনের বিরুদ্ধে যাওয়া না?
তারেক মাসুদের মৃত্য যে ড্রাইভারের কারণে, সেই মামলার সাক্ষী এবং রায়ের পুরোটা দেখলাম। বাসটা এতটাই উন্মত্তভাবে চলছিল যে বিপরীতমুখী মাইক্রোটার একপাশ ধ্বংস করার পরও ১৩০ ফুট দূরে গিয়ে থেমেছে। বাসটাতে অনেক যন্ত্রাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা ছিল। এরপরও এটা খুন না? আর খুনের শাস্তি দিলে সারা দেশের সব পেশাজীবি কাজ বন্ধ করে দেবে? এটা কেমন স্বেচ্ছাচারীতা? একজন মন্ত্রী কিভাবে সেটাকে অনুমতি দেন?
মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজান সাহেবের ভুমিকা সবসময় প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। সেই মিজান সাহেব কি বলেছেন দেখেন-
" আদালতের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে যে কেউ উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। কিন্তু পেশিশক্তিকে অস্ত্র বানিয়ে সারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের শিরদাঁড়া সোজা রাখতে হবে। "
হ্যাঁ; মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকেই বলছি। আপনিই কেবল চাইলে পারেন সবাইকে সোজা করতে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে যারা ফিরে আসবেনা প্রত্যেকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করুন। নতুন ড্রাইভার দিয়ে এদের অব্যহতি দিতে সময় লাগবে না।
আমরা পথে সংঘবদ্ধ খুনীর দল চাই না, জীবনের নিরাপত্তা চাই।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




