মাসিক আল-হুদা থেকে সংগৃহীত
এক ব্যক্তি কাফের এই জন্য যে, সে জানে না তার সৃষ্টিকর্তার সাথে তার কি সম্পর্ক এবং তার বিধান অনুসারে জীবন যাপনের প্রকৃত পথ কোনটি? কিন্তু একজন মুসলমান সন্তানের অবস্থাও যদি এরূপ হয়, তবে তার ও কাফের ব্যক্তির মধ্যে কোন দিক দিয়ে পাথক্য করা যাবে? এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করে আপনি একজনকে কাফের ও অপরজনকে মুসলমান বলবেন কেমন করে? কথাগুলো বিশেষ মনোযোগ সহকারে এবং ধীরভাবে ভেবে দেখা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলার যে মহান নিয়ামতের জন্য আপনারা শোকর আদায় করছেন, একে লাভ করা এবং রক্ষা করা এ দু'টি কাজই সম্পূর্নভাবে নির্ভর করে ইলম বা জ্ঞানের ওপর। ইলম বা জ্ঞান না থাকলে মানুষ তা পেতে পারে না-সামান্য পেলেও তাকে বাঁচিয়ে রাখা বড়ই কঠিন ব্যাপার। সবসময়ই তাকে হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা ও খুঁতখুঁতে ভাব মনের মধ্যে বদ্ধমূল হয়ে থাকে। মুসলমান না হয়েও এক শ্রেনীর মানুষ নিজেদের মুসলমান মনে করে, এর একমাত্র কারন তাদের মূর্খতা। যে ব্যক্তি একেবারেই জানেনা যে, ইসলাম ও কুফরের মধ্যে এবং ইসলাম ও শিরকের মধ্যে পাথক্য কী? সে তো অন্ধকারাচ্ছন্ন পথের পথিকের মত, সরল রেখার ওপর দিয়ে চলতে চলতে আপনা আপনি তার পা দু'খানা কখন যে পিছলিয়ে যাবে বা অন্য পথে ঘুরে যাবে, তা সে জানতেই পারবে না। জীবনের পথে চলতে চলতে সে সরল পথ হতে কখন যে সরে গিয়েছে, তা সে টেরও পাবে না। এমনও হতে পারে যে, পথিমধ্যে কোনো ধোঁকাবাজ শয়তান এসে তাকে বলবে- মিয়া তুমি তো অন্ধকারে পথ ভুলে গিয়েছ, আমার সাথে চল, আমি তোমাকে তোমার গন্তব্যস্থলে পৌছে দেব। বেচারা অন্ধকারের যাত্রি নিজের চোখে যখন সরল-সঠিক পথ দেখতে পায় না। তখন মূর্খতার দরুনই নিজের হাত কোনো দাজ্জালের হাতে সঁপে দিয়ে তার অনুসরন করতে আরম্ব করবে সে তাকে পথভ্রষ্ট করে কোথা হতে কোথা নিয়ে যাবে, তার কোন ঠিক ঠিকানা থাকবে না। তার নিজের তো আলো নেই এবং সে নিজে পথের রেখা দেখতে ও চিনে চলতে পারে না বলেই তো সে এতবড় বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু তার কাছে যদি আলো থাকে, তবে সে পথও ভুলবে না, আর অন্য কেউ তাকে গোমরাহ করে বিপথে নিয়ে যেতে পারবে না। এ কারনেই ধারনা করে নিতে পারেন যে, ইসলাম সম্বন্ধে অজ্ঞ হওয়া এবং পবিত্র কুরআনের উপস্থাপিত বিধান ও হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত শিক্ষা ভাল করে না জানা মুসলমান ব্যক্তির পক্ষে কতবড় বিপদের কথা! এ অজ্ঞতার কারনে সে নিজেও পথভ্রষ্ট হতে পারে এবং অপর কোন দাজ্জালও তাকে বিপদগামী করতে পারে। কিন্তু যদি তার কাছে জ্ঞানের আলো থাকে তবে সে জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে এবং প্রতি ধাপে ইসলামের সরল পথ দেখতে পাবে। প্রতি পদেই কুফরি,গোমরাহি,পাপ,জ্বেনা,হারামী প্রভৃতি যেসব বাঁকা পথ ও হারাম কাজক সামনে আসবে, তা চিনতে এবং তা হতে বেঁচে থাকতে পারবে। আর যদি কোন পথভ্রষ্ট তার কাছে আসে তবে তার দু'চারটি কথা শুনলেই তাকে চিনতে পারবে। এবং এ লোকই যে পথভ্রষ্টকারী ও এর অনুসরন করা যে কিছুতেই উচিৎ নয়, তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

