দেশের রাজনীতি চলছে ভিন্ন এক পথে। গত কয়েকদিন আগে খালেদার পুত্র শোকের মাঝেই তাকে হুকুমের মামলার প্রধান আসামী করে দায়ের হয়েছে মামলা। গতকাল পুলিশকে হত্যা ও প্রেট্রোল মামলা রুখতে যেকোন পদক্ষেপ নেবার আহব্বান/আদেশ দেওয়া হয়েছে। যা খালেদাকে গ্রেফতারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেই মনে হচ্ছে।
যারা হামলা করছে তারা সবাই জেলের শিকের পিছনেই থাকুক এটা আমারও চাওয়া। কিন্তু সেই কারণে খালেদা বা ফখরুলের মতো বড় রাজনৈতিক নেতাকে আসামী করার তেমন কোন যুক্তি দেখিনা। সরকার বরাবরই বলছে বিএনপি ও জামায়াতের অঙ্গ-সংগঠনের লোকেরা এই গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে।
কথা হলো আমাদের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী কী করছে? তারা কী সারা জীবন হামলা শেষে বিরোধীদলকেই ধরবে? চলমান অবরোধে মাত্র ১২/১৫জন হামলাকারী গণপিটুনি খেয়ে পুলিশের হাতে এসেছে। এতো আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর লোক মাঠে তবুও কেন কাউকে হামলার সময় হাতে-নাতে ধরা হচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী কী শুধু বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের বাসায় গিয়ে ধরে আনার জন্য? না এই হামলার পিছনে হাত অন্য কারো/কোন দলের?
নাটোরে সাংসদের পুত্র এক বাসায় দলবল নিয়ে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে, এ সময় তারা অস্ত্রসহ ছিল। আমাদের পুলিশের হাত থেকে দুই ছাত্রদল নেতাকে ছিনিয়ে নিল ছাত্রলীগ। এমন আরো অনেক গল্প আছে। যেখানে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের বাসায় গিয়ে ধরে আনছে আর তারা পালানোর সময় বন্ধুক যুগ্ধ নামক রূপকথার এক যুগ্ধে মারা পড়ছে, সেখানে সরকার দলের কেউ কেন জেলের মাঝেই যাচ্ছে না?
মনেই ছিল না এরাতো এখন আবার পুলিশের সাথেই নানা অপারেশনে অংশ নিচ্ছে, রাজপথ দখলে রেখে দেশের গনতন্র রক্ষা করছে। এদের হাতেই যদি রাজপথ হয় তবে অন্যেরা কী করে এতো হামলা চালচ্ছে?
সরকার বরাবরই বলে আসছে, বিদেশীদের কাছে ধরনা দিয়ে বিএনপির কোন লাফ নেই অথচ কাল তারাই স্বারকলিপি দিয়েছে। নিজেরদের আন্ত বিষয়ে অন্যকে স্বারকলিপি দেবার মানে কী? আমরা কী তবে হুমকিতে?
আমাদের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রধানগন কিছুদিন আগে বিতর্কিত হয়েছেন নিজেদের ঘোষনার জন্যই। র্যাব পরিচালক বলেছেন, "অস্ত্র কী হাডুডু খেলার জন্য"। জনাব আপনারা আগে হয়তো সন্মানিত ছিলেন, কিন্তু আপনাদেরও কলঙ্ক আজ প্রকাশ পেয়েছে।
নারায়ন গঞ্জের সাত খুন, সেই লিমন আর বর্তমানে দেশব্যাপী বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের ক্রসফায়ারে মরার খবর আসলে কী তা সবাই জানে। আসলে আমরা সবাই আসল বাঙ্গালী।
কবে যেন পড়েছিলাম, বাঙ্গালী জাতি অনেক শান্তিপ্রিয় জাতি। আমরা হয়তো তার চেয়েও বেশী। তা না হলে আজ দুই দলের কাছে আমরা এভাবে বন্দী হতাম না।
দেশে আজ কিছুই ঠিক আছে বলে মনে হয় না, আর কবে এ দেশ কার্যত ভালোর দিকে যাবে তা হয়তো কোন ক্যালেন্ডারেই নেই। আজ সবাই ভাবি, আর যাই হোক নিজে যেন ভালোভাবে ঘরে ফিরতে পারি। কে মরল আর কে বাচল তাতে কিছুই যায় আসে না, শুধু আমি আর আমার পরিবার ভালো থাকুক।
যারা মরছে তাদের পরিবারতো শেষ, আর যারা মারছে তারাতো পুরস্কৃত হচ্ছে। আজ কেউ মরছে, কাল হয়তো আমি আর এভাবেই একদিন আপনারও পালা আসবে। হয়তো সে দিনটা আরো বেশী কঠিন হবে, হয়তো আপনার ১৩মাসের বাচ্চাটা আপনার জন্য কাদবে, বাবা চকলেট নিয়ে আসবে, কোলে নিবে এই আশায়।
আসুন না ভাই সবাই এক হই, কালতো মরবই। কোন সন্ত্রাসকে পালাতে না দিই, সে যেই হোক না কেন। আমরা কাউকে পস্রয় না দিলে দুই দল আর কত করবে........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





