প্রথমেই ব্লগার অভিজিৎ এর মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
সামুতে আমার ব্লগিং জীবন তিন বছরের বেশী। প্রথম দিকে শুধু পড়েই যেতাম, কিছু ভাল লাগত আর কিছু খরাপ। আমার প্রথম নিক আমার নামেই ছিল, যার বানানে কিছুটা ভূল করেছিলাম। সেই নিক নিয়েই কাটিয়েছি দুইটি বছরেরও বেশী, তখন সামুতে মডারেটরও কম ছিল আর এতো সহজেই কারো পোস্টে মন্তব্য করতে দেয়া হতো না। যাই হোক আমার বর্তমান নিক নিয়ে সবমিলিয়ে ভালই আছি।
১
আমার মতে ব্লগ মানেই নিজের মতামত লেখার এক জায়গা, এখানে সবাই নিজের মত প্রকাশ করতে পারে। আমার লেখাই অনেকের ভাল লাগেনা, টাই বলে কী? তবে যারা লিখেন তাদের ভাবা উচিত, তিনি ছাড়াও অনেক মানুষ নিয়ে এই পরিবার। বল্গার অভিজিৎকে আমি চিনি না, তার লেখাও কখনো পড়েছি বলে মনে হয় না। আমি সামু বাদে অন্য অনেক ব্লগে নিবনদ্ধিত থাকলেও সেগুলোতে একবারেই অনিয়মিত। তাই হয়তো তার লেখা পড়া হয়নি। তার মৃত্যুর প্রথম কারণ হিসাবে আপাতত দাড় করানো হয়েছে তার নাস্তিকতাকে। মানুষ মাত্রই তার নিজ মত প্রকাশের অধিকার আছে। আমি নাস্তিক হব না আস্তিক হব তা একান্তই আমার। কিন্তু কারো ধর্মে আঘাত হানা আমার উচিত নয়। শুনেছি তিনি নাকি মহানবী (স: ) কে নিয়ে কটুক্তি করেছেন, নানা কথা বলেছেন। আসলেই কথাটা কতোটা সত্য তা জানি না, তবে যদি তা করেই থাকেন তবে এটা তার কখনোই উচিৎ হয়নি। কিন্তু যারা ধর্মের নামে মেরেছে, তাকে হত্যা করেছে তারা কী ঠিক করেছে?
ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যা কোন প্রকার সহিংসতাকে সমর্থন করে না। মনে রাখবেন মহানবী (স: ) এর যুগে বর্তামনের চেয়ে বেশী নাস্তিক ও বিধর্মী ছিল। তখনতো এমন ঘটনা ঘটেনি। আজ দেশে কিছু হলেই মৌলবাদের কথা বলা হয়, কিন্তু কেন?
বলা হয় নানা ব্যক্তির কথা, এবার বলা হয়েছে সাফী সাহেবের কথা। কিন্তু ইসলামে কী এমন কোথাও লেখা আছে যে আল্লাহ ও নবী মুহাম্মদ ছাড়া কাউকে অনুসরণ করা যাবে। যদিু তাই হয়, তবে কী কারণে আপনারা মৈলবাদীতাকে দোষারপ করবেন?
কোন ব্যক্তিকে দিয়ে ইসলাম কে সমালোচনা করা যায় না, এটা ৭১ এর ইতিহাস নয় যে সরকার বদলের সাথজে বদলাবে। ইসলাম জানতে হলে, কুরআন পড়ুন, সহীহ হাদিস পড়ুন। আল-কুরআন এমন এক কিতাব, যেখানে সকল সমস্যার সমাধান আছে, আগে কুরআন পড়ে বুঝিন তারপর ইসলাম নিয়ে বলুন। সবার কাছে অনুরোধ, লাদেন, রাজাকার বা জামায়াত কে দেখিয়ে ইসলাম বলবেন না।
২
এখনো পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কে তাই মিলল না, অথচ সবারই আঙ্গুল ইসলাম পন্থী দলগুলোর প্রতি। যদি আসলেই মানুষের মনে এতো ইসলামের প্রতি ভালবাসা থাকত তবে আজ মসজিদে নামাযের সময় জামায়াত করতে কারো জন্য অপেক্ষা করতে হতো না।
আমাদের লতিফ সিদ্দিকও কিছুদিন আগে মহানবীকে নিয়ে কথা বলে বিতর্কিত হয়েছেন, কই তার প্রতিতো এমন কোন খিছু ছিল না। তবে আপনারা কীভাবে নিশ্চিন্ত হলেন কাজটা মৌলবাদীদেরই?
হতেও পারে, তবে এজন্যতো সবারি কিছুক্ষন অপেক্ষা করা উচিত।
সর্বশেষে ব্লগার অভিজিৎ হত্যার বিচার চাইছি। হত্যাকারী যেই হোক, সামনে আসুক।
**ভাল থাকুন ও ভাল লিখুন-আপনার ব্লগিং জীবন সুন্দর হোক**
সকল প্রকার মন্তব্য গ্রহনযোগ্য, তবে খেয়াল রাখবেন তা যেন শালীল ভাষায় হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


