somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও ভবিষ্যত বাংলাদেশ

২৯ শে জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেক্স গাইডটা পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম এটা কোন এমবিবিএস ডাক্তারের লেখা হতে পারে না। বাসের জানালা দিয়ে ফ্রিতে পেয়েছিলাম ওটা । যদিও লেখকের নামের শেষে পদবিতে এমবিবিএস কথাটি লেখা ছিল। ছোটবেলায় মা বলতেন, লেখা পড়া করে বড় চাকরি করবি ! প্রথম শ্রেণী থেকে মাস্টার্স করেও এখন মা বলছেন কিছু করতে হবে। একটা চাকরি-বাকরি খোজো ! তাহলে এত কাল অতিক্রম করে, এত পয়সা, সময় ব্যয় করে কি অর্জন করলাম ? যখন অনার্স এ পড়তাম তখন বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজে থাকায় বই-খাতার সাথে পরীক্ষার আগে ছাড়া দেখা হত না। আর পরীক্ষার সময় বলতাম “দুদিনের সম্পর্কে কি আর সংসার হয়” ।অবশেষে আমার ঘনিষ্ট এক বন্ধুর খাতা দেখে দেখে সব লিখে নিতাম। ওর চেয়ে আমার উপস্থাপন ক্ষমতা বেশ ভালো ছিল। তাই ওর খাতা দেখে লিখলেও আমি ওর চেয়ে নম্বর বেশি পেতাম।ও ঈর্ষা করত কিন্তু আমার কথায় প্যাচে না দেখিয়ে পারত না । একবার একটা প্রশ্নের উত্তর বেঞ্চে লিখে রেখেছিলাম। কমন পড়ায় আমি সেটা দেখে খাতায় তুলি। আমার বন্ধু সেটা পারে না, তাই আমার খাতা দেখে ও লিখছে। ম্যাডাম চলে আসলেন। আমাকে বললেন খাতা ঢেকে লিখ । ওকে বলল পিছনে আর একবার তাকালে ওকে পরীক্ষার হল থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবে।আসলে ও দেখে লেখায় এক্সপার্ট ছিল না তাই ধরা পড়ে যেত। একবার শুরু হল প্রশ্ন ফাঁসের প্রকৃয়া। প্রশ্ন পেলেও উত্তর খুঁজে পাইনি। তবে অনেকে মোটা টাকা দেয়ায় উত্তর সমেত প্রশ্ন পেয়েছিল।সরকার দলের লোকজন বলছিল এটা বিরোধীদলের কাজ আর বিরোধীদলের লোকজন বলছিল এগুলো সরকারের ছায়ায় থেকে করা হচ্ছে।প্রকৃতপক্ষে আসল কারণ হল যখন প্রশাসনের প্রধান অন্য মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় তখন এরকম অঘটন ঘটাই স্বাভাবিক।তবে মারাত্মক হবে যদি জীবন মরনের ব্যাপার হয়। যেমন, ডাক্তার না পরে পাশ করলে সে পুরুষের সিজার অপারেশন করতে পারে আবার কোম্পানীর ব্যবস্থাপক অতি লাভের আশায় কর ফাঁকি দিয়ে জরিমানায় পরতে পারেন।আবার উকিল সাহেব, অন্য আইনের প্রসংঙ্গ টেনে জিতে যাওয়া নিজ মক্কেলকেই ফাসিঁয়ে দিতে পারেন। প্রথম শ্রেণী থেকে মাস্টার্স পযন্ত পড়লাম। কিন্ত চাকরি করে খাওয়ার মতো কিছু পেলাম না ।ভাবছিলাম আমি ত দেখে দেখে লিখছি তাই বোধহয়, কিন্তু আমার লেখা পড়া করা বন্ধুর অবস্থা আরও খারাপ। ওর কোন কোঠা নাই, মোটা অংকে ঘুষ দিতে পারে এমন অর্থ নাই। তেমন লোকবল নাই।সার্টিফিকেট আছে কিন্তু তার সাথে কোঠা, মোঠা নিয়ে প্রতিযোগীরও অভাব নাই। আসলে আমাদের পুস্তক গুলি সার্টিফিকেট দিতে পারে, কিন্তু চাকরি দিতে পারে না।ঐ যেমন মুখরোচক খাবার স্বাদ হয় না তেমন। ডাক্তারী এমবিবিএস পাশ করে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসায় করার জন্য বেশ খানিকটা সময় ইন্টার্নি করতে হয়। উকিলদেরও তাই। কিন্তু কি জেনারেল লাইনে পড়লাম কোনও ইন্টার্নি নাই সাথে প্রফেশনও নাই।অথচ সরকার এই জেনারেলে পড়া একজন ছাত্রের পিছনে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে।আর পাশ করে হয় বেকার। আমি প্রত্যক্ষ করে দেখেছি, ডাক্তার বা উকিল যতটা পড়াশোনা করে এই জেনারেল লাইনে তার চেয়ে কম পড়া হয় না। কিন্তু মান যেমন কম তেমন কাজও নাজুক। শেষমেষ যেকোন একটা চাকরি করেই খেতে হয়। অথচ তার শিক্ষা গুলো ফাইল বন্ধি হয়ে আলমারিতে থাকে। যদি নির্দিষ্ট প্রফেশন না থাকে তবে ওভাবে পড়ার দরকার কি ? যেভাবে পড়লে প্রফেশন ক্রিয়েট হয়, কাজে আসে সেটাই পড়া ভাল নয় কি ? ভবিষ্যতে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকার থাকবে কারণ, শিক্ষিত হওয়ার জন্য সার্টিফিকেট দরকার।কাজ জানা দরকার নাই। এই অহেতুক কোঠা মোঠা বন্ধ না হলে অযোগ্য লোক দিয়ে কাজ চালাতে হবে। আর গুনতে হবে নিরব ক্ষতি।জাতিকে গ্রন্থ মুখস্ত করিয়ে সার্টিফিকেট দিয়ে লাভ কি ? আবার তার চেয়ে কাজ শিখিয়ে কাজ দিন।প্রয়োজনে ব্যাক্তি বিশেষে শিক্ষা ভিন্নতর হবে।মান সৃষ্টি করতে হবে ।উন্নত জাতের শষ্যকে খেয়ে ফেলতে নেই, ওর কিছু দিয়ে বিজ উৎপাদন করতে হয়।রেডি হও বাঙ্গালী, এখন তৈরী হবে নিজের যোগ্যতার জন্য।চাকরি পেতে হবে ত ! ছোট বেলায় পত্রিকা পড়তাম খুব, বিশেষ করে সাহিত্য কলাম ।কিন্তু সাহিত্য কলামে যখন তাসলিমা নাসরিনের মতো কুলটা ইসলামের কটুক্তি করে তখন সাহিত্য কলাম না ছেড়ে পারলাম না। পত্রিকা এখন আমার খুদা পূরণ করে না বরং ব্লাড পেশার বাড়ায়। আসলে ভাববার বিষয় হল, পত্রিকা তার স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রেখেছে নাকি বাসন্তি রঙে রাঙিয়েছে তার ভুবন।
.
তবে এটা ঠিক,
যতি আবার ফিরে পাই
সেই, সোনা ছড়ানো পাতা
আমি কেন ? সবাই কুড়াবে সুখ !

লেখকঃ আবদুল্লাহ আল মামুন
ছবিঃ সংগৃহীত
পরিবেশনাঃ Amamun Archives
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:৫৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট পোস্ট!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯


জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিন ড. ইউনুস বলেছেন, “এই সনদে স্বাক্ষর করলে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উন্নীত হবো।”
আর গতকাল উনি বলতেছেন বাঙালি হচ্ছে বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে জালিয়াত জাতি! তো জুলাই সনদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

তিন শ' এক//
আমার সাহস দেখে, জানি. তুমি খুব রেগে যাবে।
ঘরহীন, সর্বহারা ভালোবাসা জানায় কিভাবে ?

তিন শ' দুই//
চোখের মালিক ঘোর নিঃশ্বতার আঁধারে ডুবেছে;
তবুও বেকুব চোখ সুন্দরের নেশায় ডুবেছে!
...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী ১৭৫৭, বাংলাদেশ ২০২৬ঃ সিরাজের বাহিনি ও বিএনপি

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০



সামনের ইলেকশনে যদি ডিপস্টেট, জামাত ও এঞ্চিপির যৌথ প্রচেষ্টায় 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' বা 'মেকানিজম' হয় (যেটার সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন অনলাইন-অফলাইন-দুই জায়গাতেই), তবে কি বিএনপি সেটা ঠেকাতে পারবে? পারবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জালিয়াতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৯



জালিয়াতি -১
কয়েক মাস আগে, লন্ডন থেকে আমার এক আত্মীয় ফেসবুকে ম্যাসেজ করলেন যে, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে আমার একটি ফোটোকার্ড ইন্টারনেট দুনিয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমি চমকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নাই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৩


ঢাকার মিরপুরে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের এক পোড়খাওয়া নেতা টাইম ম্যাগাজিনের তারেক রহমান কে নিয়ে লেখা বাংলা অনুবাদ পড়ছিলেন । প্রচ্ছদে তারেক রহমানের ছবি, নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×