somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুইটা দাত বেশি ওঠাই ছাড়বো !

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডা. হরিপদ একজন দাঁতের চিকিৎসক। এক সন্ধ্যায় দেখা গেল চেম্বারের বাইরে দাঁডড়িয়ে আনন্দে লাফাচ্ছেন তিনি। ছুটে এল হরিপদের ব্যক্তিগত সহকারী, ‘স্যার, কোনো সমস্যা?’ হরিপদ বললেন, সমস্যা হলে কি আমি আনন্দে নাচি বেকুব? সহকারীর দ্রুত উত্তর, সেটাই তো বলছি স্যার, ভেতরে রোগী বসিয়ে রেখে আপনি বাইরে দাঁড়িয়ে নাচানাচি করছেন কেন? হরিপদ বলেন, ভেতরে যে রোগী বসে আছে, সে কে জানো? সহকারী- না তো! কে স্যার? হরিপদ বলেন, সে একজন সাংবাদিক। চিকিৎসায় ভুলভাল হতেই পারে, কিন্তু ওই ব্যাটা সেসব কাগজে লেখে। আজকে তাকে পেয়েছি ! দুইটা দাত বেশি ওঠাই ছাড়বো !
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রফেশনাল সেক্টরে যে পচন ধরেছে তার সবচে বড় দু'টি ক্ষেত্র হলো চিকিৎসা এবং সাংবাদিকতা। দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে মানুষের যে হতাশা তার একটি বড় কারণ হলো ডাক্তারদের গুনগত মান। একটি বিরাট অংশ যখন রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন আর চিকিৎসাবিদ্যার মতো কঠিন একটি বিষয় শেখার আর সময় কোথায়? পাশাপাশি সাংবাদিকদের একটি বড় অংশের নীতি নৈতিকতা নিয়ে সমাজে মানুষের ভেতর নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে যখন ইন্টার্নী ডাক্তাররা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন, তখন চায়ের দোকান থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ঝড় ওঠে পড়ে। আর ঝড়ে যে বড় বড় ক্ষতি হয় সেটা সবারই জানা। এসব দেখে যে যার মত মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন, কেউ বলছেন ডাক্তারি ছাইড়া সাংবাদিকতা করো। সাংবাদিকতা করতে খুব বেশি মেধা লাগে না। সাংবাদিকতা ছাইড়া ডাক্তারি করো। ভুল ওষুধে একটা দুইটা রোগী মরলে সমস্যা নাই। বাহ !বাহ !

একটা কাপ নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে স্বামীকে ঘরে ঢোকা দেখে স্ত্রী বলল, একি! এত হাঁপাচ্ছ কেন? আর এ কাপটাই বা কোথায় পেলে? স্বামীর চটজলদি উত্তর দৌড় প্রতিযোগিতায় দুজনকে হারিয়ে এটা পেলাম। স্ত্রী জানতে চাইলো কয়জন নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা? স্বামী বলল, মাত্র তিনজনের দৌড় প্রতিযোগীতা, দৌড়ের প্রথমে আমি, তারপর পুলিশ আর সবার পেছনে এ কাপটার মালিক!
রাজশাহীর মেডিকেরে শিক্ষার্থীরা লাইভ ক্যামেরার সামনে সাংবাদিক পিটিয়ে রক্তাত্ব করে ফেলেছে। তবুও সারা ফেইসবুক জুড়ে ডাক্তার বা মেডিক্যাল ষ্টুডেন্ট প্রায় সবাই এটার পক্ষে 'দালালী' করছে। নোংরা রাজনৈতিক দলের নেতাদের মতই তারা বলছে, 'নিশ্চই সাংবাদিকরা হলুদ কোন কারবার করতে গিয়েছিল তাই ইন্টার্ণ ভাইয়েরা মাইর দিছে। পৈশাচিক আনন্দ পাইছি''। যেন ডাক্তারদের কাজ হচ্ছে কাউকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়া এবং সেটাই যেন স্বাভাবিক। ওই স্বামীর মতই চুরি করে আনা কাপটিকে স্ত্রীর কাছে বিজয়ী কাপ বলে জাহির করা। চুরির বিষটা মালুম অস্বীকার করা। আরে ভাই এ ধরনের আচার ব্যবহার ধারাবাহিক রাখলে আর কেউ সম্মান করে "ডাক্তারবাবু", "ডাক্তারসাব", "ডাক্তারসাহেব" বলে ডাকবে না।
৩.
জার্মান কবি গেটে বলেছেন, ‘মানুষের চরিত্র গঠিত হয় কর্মের ভিতর, আর মস্তিস্ক গঠিত হয় অবসরের ভিতর। অর্থাৎ পেশি সবল করতে হলে মানুষের পক্ষে ছোটাছুটি করা দরকার,-কিন্তু মস্তিস্ক সবল করতে হলে মাথা ঠিক রাখা দরকার, স্থির থাকা দরকার।’ সাংবাদিক আর চিকিৎসক। দুটি পেশায় মস্তিস্কের ব্যবহার অতিব জরুরি। এ দুই পেশার মানুষকে আর যাই হোক হাতাহাতি মানায় না। তবে সাংবাদিক ও ডাক্তার দুটি পেশার মানুষই খারাপ এটা বলা যাবে না। ভালো খারাপ এই প্রকৃতির সৃষ্টি। মানুষের মধ্যে ভালো খারাপ আছে। সে হিসেবে সব পেশার মানুষদের মধ্যেই ভালো এবং খারাপ দুটোই আছে। নিজের স্বার্থের উপর যখন আঘাত পড়ে তখনই বুঝা যায় মানুষটা ভালো নাকি খারাপ। আমাদের নিউট্রল হয়ে চিন্তা করতে হবে। আরেকজনের কাঁধে দোষ চাপিয়ে দেয়া ঠিক না। ডাক্তারদের ছাড়া যেমন আমাদের চলবে না ঠিক তেমনি সাংবাদিকদের ছাড়াও আমাদের চলবে না। তাহলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। আমি কাউকে দোষ দিব না বরং চাইবো এর সুষ্ঠ তদন্ত হোক এবং অন্যায়কারীর বিচার হোক!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:১০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একা হতে দুহু. দুহু থেকে বহু : যুদ্ধ আর ধংসও সৃষ্টির চিরন্তন লীলা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫১


বিধাতার পরে দুহাত তুলে
জানাই শুকরিয়া কারণ
অসীম শূন্যতার ভেতরেও
তিনি শুনেছিলেন প্রতিধ্বনি
নিজ সত্তারই গভীর আহ্বান।

তাই তিনি সৃজিলেন দুহু
আলো আর অন্ধকার
দিন আর রজনী
আকাশ আর ধরণী
প্রেম আর প্রত্যাশা।
একটি হৃদয় থেকে আরেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি এখন ইরান নিয়ে ভাবছি না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×