লিখতে পারি, যেমন ধরো, ‘বিস্ফোরিত রাত্রি যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছিটকে ছড়িয়ে পড়লো,
নীলাভ তারাগুলো তখন দূরে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল তিরতির করে’।
নিশুতি রাতের বাতাস আকাশ ঘিরে পাক খায় আর গান গায়।
আজ রাতে, আমি লিখতে পারি নীল নীল দুঃখের পংতিমালা।
তাকে ভালবাসতাম আমি, সেও বাসত ভালো, আমায়, হয়তোবা, কখনো।
গহীন রাতের মত আমি আঁকড়ে ধরতাম তার পেলব কোমল হাত
প্রশস্ত আকাশকে সাক্ষী রেখে চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিতাম তার মুখ।
সে ভালবাসত আমায়, আমিও বাসতাম ভালো, তাকে, হয়তোবা, কখনো
সৃষ্টির আদিকাল থেকে, কেউ কি তার সমুদ্রের মত গভীর দৃষ্টিকে উপেক্ষা করতে পেরেছে?
আজ রাতে, আমি লিখতে পারি হৃদয় নিংড়ানো কষ্টের পংতিমালা।
এই ভেবে, যে সে আর আমার পাশে নেই। এই ভেবে, যে আমি তাকে হারিয়েছি।
নিস্তব্ধ রাতের প্রগাঢ় হুংকার, তার অনুপস্থিতিতে, বুকে চেপে বসেছে পাথরের মত।
হৃদয়ে শিশিরের মত টুপ টুপ করে ঝরে পড়ছে এক একটি দুঃখস্নাত শব্দ।
আমার প্রেমে সে শক্তি ছিল না যে তাকে ধরে রাখে
চোখের সামনে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে এই রাত, অথচ সে আমার পাশে নেই।
এইতো, দূরে কেউ গান গাইছে, দূরে, বহুদূরে।
আর আমার আত্মা ধুঁকে মরছে, কারণ সে আমার পাশে নেই।
আমার দৃষ্টি তাকে উন্মত্তের মত খোঁজে দশদিকে,
অথচ আমার হৃদয় বেদনার রঙ্গে নীল, কারণ সে আমার পাশে নেই।
সেই রাতগুলির মত আজকের এ রাতও আকাশ নক্ষত্র ভরা
কিন্তু, আমরা, আগের মত নেই আর।
এখন আর তাকে ভালোবাসিনা, নিশ্চিত আমি, কিন্তু কি তীব্রভাবেই না ভালবাসতাম তাকে!
আমার কান্নাজড়িত কণ্ঠ, দখনে বাতাসে ভেসে যদি তার কাছে পৌঁছুতো!
আরেকজনার। সে এখন আরেকজনার। উষ্ণ চুম্বনের রাত্রিগুলোর মতই সে অতীত এখন-
তার কিন্নরী কণ্ঠ, সোনারঙ্গা শরীর, তার অতল গভীর দু’চোখ।
আমি তাকে বাসি না আর ভালো- নিশ্চিত জানি, নাকি বাসি এখনও?
ভালোবাসা যদি ক্ষণকালের হয়, ভুলে যাওয়াটা এত দীর্ঘ কেন?
কারণ, এই রাতের মতই আমি জড়িয়ে ছিলাম তার হাত
তাকে হারিয়ে, আমার আত্মা আজ মৃতপ্রায়।
যদিও এটাই শেষ যন্ত্রণা, যা সে আমায় দিয়ে যাচ্ছে,
এবং এই শেষ পংতি, যা আমি তাকে নিয়ে রচে চলেছি।
বিদ্রঃ কবিতাটি মূলত ভাবানুবাদ। আর আমার করা প্রথম অনুবাদ এটি। খুব একটা ভাষার সৌকর্য দেখানোর সামর্থ্য - সাহস, কোনটাই হল না।
উৎসর্গ করলাম প্রিয় ব্লগার জাহাঙ্গীর আলম ভাইকে। তিনি আমাকে কবিতা অনুবাদে উৎসাহ দিয়েছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২১ রাত ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



