somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘মনোযোগী’ ও নিজেকে নিয়ন্ত্রন করার সহজ উপায়...

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সেই যাত্রা এখনই শুরু করতে পারেন। অতীতের কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা আর নয়, নয় ভবিষ্যতের জন্য দুশ্চিন্তা।
নানা দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনায় আমরা পার করি প্রতিটি দিন। কত ধরনের মানসিক চাপে যে ভুগি। এতে স্বাস্থ্য খারাপ হয়। মন হয় অশান্ত। উদ্বেগের সীমা থাকে না। এসব থেকে নিস্তার পেতে হলে মনোযোগী হওয়া দরকার। শুধু মনের দিকে খেয়াল রাখলেই আমরা শরীরে আশ্চর্য এক প্রতিষেধক তৈরি করতে পারি। শরীর ও মনকে রাখতে পারি সুস্থ-সবল। যাপন করতে পারি এক আনন্দময় জীবন।
জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সেই যাত্রা এখনই শুরু করতে পারেন। অতীতের কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা আর নয়, নয় ভবিষ্যতের জন্য দুশ্চিন্তা। এর চেয়ে বরং কেবল এ মুহূর্তে কী ঘটছে, সেদিকে মনঃসংযোগ বৃদ্ধি করুন। মনকে নিবিষ্ট করার জন্য ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। খবুই সহজ উপায়ে তা করতে পারেন:
১. একটি চেয়ারের ওপর আরাম করে বসুন। মেঝের ওপর দুই পা ভাঁজ করেও বসতে পারেন। তবে তা যেন আরামদায়ক হয়, আর মেরুদণ্ড যেন থাকে সোজা।

২. শ্বাস-প্রশ্বাস কীভাবে চলছে, খেয়াল করুন। আপনার নাসারন্ধ্র কিংবা মুখ দিয়ে বাতাস যাওয়া-আসা করছে। ব্যাপারটা অনুভব করুন। কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের ফলে পেটের ওঠানামা লক্ষ করুন।

৩. এভাবে আপনার মনোযোগের পরিধি আস্তে আস্তে কমিয়ে আনুন। মনোযোগ একটি কেন্দ্রবিন্দুতে স্থির করার চেষ্টা করুন। শব্দ, সংবেদনশীলতা ও ভাবনা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠুন।

৪. প্রতিটি চিন্তা কিংবা স্পর্শের অনুভূতি উপভোগ করুন। তা ভালো কি মন্দ—এই বাছবিচার করতে বসবেন না। এর পরও আপনার মন চঞ্চল হয়ে উঠলে, আবার শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে খেয়াল করুন। আবার গভীর মনোনিবেশ করুন।

মনোযোগী হওয়ার জন্য এমন ধ্যানের আপনি যত বেশি চর্চা করবেন, ততই এর সুফল পেতে থাকবেন। কোনো আয়োজন ছাড়াও আপনি এই ধ্যানের চর্চা করতে পারেন। আনুষ্ঠানিক অনুশীলনের কোনো দরকার নেই। এ জন্য কোথাও নিয়ম করে বসতে হবে না। আপনি যখন খাবার খাচ্ছেন, কিংবা স্নান করছেন, হাঁটছেন, কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটাচ্ছেন, অথবা কোনো শিশুর সঙ্গে খেলায় মেতে উঠেছেন, তখনো আপনি এই ধ্যান করে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে—

* শরীরের বিভিন্ন অনুভূতির দিকে খেয়াল করুন।
* নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস গ্রহণ করুন, যেন আপনার তলপেট বাতাসে পুরোপুরি ভরে ওঠে। এরপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস বেরিয়ে যেতে দিন। শ্বাস গ্রহণের সময় ও ত্যাগের সময় নাসারন্ধ্রে ও মুখগহ্বরে যে স্পর্শের অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তা উপভোগ করুন।
* ধীরগতিতে প্রশ্বাস নিন এবং পরে পেট একেবারে খালি করে নিঃশ্বাস ছাড়ুন।
* পুরোমাত্রায় সচেতন থাকুন। প্রতিটি শব্দ, দৃশ্য ও স্পর্শের প্রতি গভীর মনোযোগ দিন। উপভোগ করুন।
* যদি টের পান, আপনার মন আবারও এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে, তাহলে ধীরে সেই মুহূর্তের অনুভূতির প্রতি খেয়াল করুন।
এভাবে চর্চা করতে থাকুন। আর একদিন আবিষ্কার করবেন, কী ইতিবাচকভাবেই না বদলে গেছে আপনার জীবন। শরীর ও মন হয়ে উঠেছে সুস্থ ও সবল। আনন্দময়তা আপনার সঙ্গী হয়েছে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×