
প্রিয় মুগ্ধ অপলক জানালার কপাট,
কিছু মানুষ আছে এমনিতেই ভাল লাগে, নির্মল বন্ধুত্বের এ ভাল লাগার সে কথা কোন সংজ্ঞায় লেখা যায়না, নাইবা লিখলাম। তুমি সে একজন আমার অবসর আর অবচেতন মন যার জন্য শব্দের চাষবাস করে, মাঝে মাঝে ফুল মাঝে মাঝে ফল হয়, কখনো সজীবতায় কখনো নির্জীবতায় তবে সে থাকে সব সময়, ঋতু যেমনই হোক।
ইচ্ছে করে ডেকে তুলি ফুলের কুঁড়ির মাঝে।
ইচ্ছে করে ডাকি ফাগুন, হাজার পাতার সাঁজে।
একটা পাণ্ডুলিপি হয়তো লিখতে পারবোনা তোমার জন্য, তবে একটা পৃষ্ঠা, সে উপহার আমি অনায়াসে কলমের কালিতে তুলে দিতে পারি, তুমি শুধু পড়ে দেখো। প্রভাতে সে লেখা ভাঁজ করে রেখো, তখন ধোয়া উঠা এক কাপ চা ভীষণ প্রিয়। তবে বিকেলে পড়, সন্ধ্যার আগে। কোন আকাশ দেখছ আনমনা হাসিতে, জানি তোমার ঠোঁটে সত্যিই একটু হাসির রেখা।
হাসিটা যেন বাতাসে তোলে ঢেউ,
একলা দেখি, চাইনা দেখুক কেউ।
হা হা ভাললাগার দেয়ালে কিছু স্বার্থপরতা থাকবেই, আমি ই বা বাদ যাব কেন।
আর কি ইচ্ছে হয় জানো?
কচি একটা নবীন পাতা,
তাই দিয়ে হোক, তোমার কানের দুল।
কিন্তু- আমার সন্ধ্যা ভান করেনা, তোমার চোখে বৃথাই ধূল।
ওড়নাটা হোক জলের ছাতা, মুছে ফেলো চোখের পাতা,
তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আছি, ভাবনা টা কি ভুল।
জানো বৃষ্টি হচ্ছে সারাটা পাড়া জুড়ে, শুধু ঝুম ঝুম কোলাহল আমার টিনের চালে, তুমি শুনবে?
জানালা খুলে দেখো তোমার কাজলে আকাশ ছেয়েছে, ও কপাটে কে চেয়ে আছে, বৃষ্টি ঝরুক, চোখ বুজে থাকো।
একটু শীত শীত জানালার গ্রিল ধরে থাকো।
টের পাও- মিহি মিহি জল কনা,
এ ভালোলাগার অনুভূতি যায়না গোনা।
আমি কি বলি শোন-
আগলে তারে রেখো তোমার খোলা হাতে,
তোমার গলার সাথে।
লজ্জাটা আজ নাই বা থাকুক আমার ভাবনা ভেবে।
তবুও যদি দুষ্টু হাসি ঠোঁটের রেখায় জাগে, আমায় আগে দেখতে দিও,
আকাশ দেখার আগে।
মিছে শহর, মিছে শহরের ঝরা পাতা, কেউ আঁচলে আঁকে না, আমি তোমার নাকে একটা কৃষ্ণচূড়ার পাতা ছুঁয়ে আঁচল ছোঁয়াব। কেমন হবে বল? পায়ের তলায় জুতোটা রোজ রোজ যাচ্ছে চেপে, আজ না হয় পাশেই রাখো, আমার পায়ে পা রাখো দেখি কেমন তোমায় যত্ন করে রাখতে পারি।
বৃষ্টি বোধহয় থামল বলে, রাত টাও বেশ ভারি। ফেরার পথ ডাকছে এখন, কাল তাহলে আসব আবার।
ভাল থেকো চিঠির ভাজের মত, ভাল থেকো আগলে রাখা বালিশের উষ্ণতায়, শেষ শব্দের পরিতৃপ্তি জুড়ে।
ইতি
ক্লান্ত আঙ্গুলের নিশ্চুপ ছোঁয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


