ছোট বেলায় রমজানে চার পাঁচ বন্ধু মিলে একশ টাকা করে কুম দিয়ে কলোনীতে দোকান বসাতাম,মাল কিনার জন্য একসাথে বিল বরাবর হাটতে হাটতে তিন/চার মাইল দূরে হাটহাজারীতে গিয়ে পৌছতাম, পাঁচশ টাকা ইনভেস্ট, গাড়ী ভাড়া বাচাতে আমাদের এই পথচলা..
.
এক বন্ধু বলত ওই রাস্তা দিয়ে তাড়াতাড়ি হবে, রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে দেখি সামনে আর রাস্তা নেই!! দূর থেকে ঐ টা মনে হয় আমাদের কলোনী! তো হাটা শুরু, এভাবে একদিন ফায়ারিং স্কোয়াডে চলে গেছি ভুলে,
.
দোকানের মাল পত্র কিনা শেষ! এখন টেবিল জোগাড় হচ্ছে না, অবশেষে টেবিল জোগাড় হলো কিন্তু জায়গা আরেক প্যানেল দখল করে ফেলেছে! তাজু কাকার ঘরের সামনে, আনোয়ারদের বাঁশ ডুয়া, আমাদের উঠোন এই তিনটা স্পট ছিল প্রসিদ্ধ,
জায়গা বন্দোবস্ত হলে এবার লাইট পাবো কই? তা ও জোগাড় হয়ে যেত,
.
প্রথম রমজান থেকে দোকান বসানো আড়ম্ব হতো, দুই জন কাউন্টারে আর দুই জন চোর পাহারাদার হিসেবে কাজ করত, অন্যজন আবার অন্য যারা দোকান বসিয়েছে তাদের কাস্টমারকে নিজেদের দোকানে বুজিয়ে সুজিয়ে পুশিয়ে আনার চেষ্টায় থাকতো,
.
আকর্ষণ থাকতো লটারি, ঘর থেকে কিছু দুটা নিয়ে এসে বসিয়ে রাখতাম, দু একটা ভালো জিনিস দিয়ে দুই টাকার লটারীতে বাকী সব আটানার স্টিকার এক টাকার চকলেট লিখে দিতাম! ব্যবসায় শাখায় যে আমরা অদৃশ্য এমবিএ করছি বাবা মা কি তা জানতো!
.
আগের মাল-পত্র বিক্রি হলে নতুন নিয়ে আসতাম..মাস শেষে লাভের হিসেবে বসতাম, কি টান টান উত্তেজনা! একজন টাকা ঘুনত আরেকজন রাখত ৷ ঈদের দিন একটা সময় করে টাকা গুনতে বসতাম, একশ টাকার কুম দিয়ে ১৫২ টাকা লাভ জনপ্রতি! আনন্দে চোখ মুখ ঝিলিক দিয়ে উঠত, এত টাকা লাভ পেয়ে সব কষ্ট ভুলে দোকানে গিয়ে থান্ডা মান্ডা খেয়ে দুদিনে শেষ করে দিতাম টাকাগুলো, আর অবিক্রিত পণ্যগুলো ইচ্ছে মত খেয়ে কি যে তৃপ্তির ডেকুর তুলতাম! কল্পনা করলে এখনো শরীলের লোম দাড়িয়ে যায়!!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




