somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুগল্পঃ ফিরে এসো নিরব যত কষ্ট হোক না কেন!

১৩ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমে বলে রাখি, সরকারী হিসেবে বাংলাদেশে মাদকাসক্ত ৭ লাখ, জাতিসংঘের মতে ৬৮ লাখ, এবং বেসরকারী হিসেবে এক কোটি, গল্পটি তাদের একজনের
.
নিরব এলাকার সবচেয়ে মেধাবী ছেলে, খেলাধুলায় ও বেশ ভালো, এলাকার সামাজিক কাজেও সবার প্রথমে থাকত, এলাকার ছেলেদের সংঘটিত করে গড়ে তুলেছে 'তরুণ সংঘ ৷'
.
নিরবের মত ছেলে পেয়ে এলাকাবাসী খুশি, বিপদে আপদে সবার আগে যে এগিয়ে আসে সে, সম্প্রতি সে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, এলাকাবাসী তাকে সংবর্ধনা দিয়ে বিদায় দিল,
.
বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবন ভালই চলছিল, মেধাবী ছাত্র, ফাস্ট ইয়ারে ৩.৭৫ আউট অব ৪, হঠাৎ লক্ষ করল ক্লাসের সুন্দরী মেয়েটি তার সাথে ভাব করার চেষ্টা করছে, মেয়েটিকে মনে মনে পছন্দ করত নিরব, তো কথা থেকে মোবাইলে এসএমএস আস্তে আস্তে সম্পর্ক গড়ে উঠতে থাকে,
.
এভাবে বেশ চলছিল, সেকেন্ড ইয়ার পরীক্ষা সামনে, পড়ালেখার চেয়ে প্রেমের দিকে তার বেশী মনযোগ, সব নোট রেডি করে মেয়েটিকে দিত কিন্তু নিজে পড়ত না তেমন, মেয়েটি তার নোটগুলো খুব ভাল করে পড়ত, পরীক্ষা শেষ রেজাল্ট দিল, মেয়ে সেকেন্ড হলো, নিরবের এক বন্ধু ফাস্ট হলো, নীরব কোন রকম পাশ করল! তাতে নিরবের দুঃখ নেই! তার স্বপ্নে দিবা রাত্রি সেকেন্ড হওয়া মেয়েটি ঘুরে বেড়ায়, তাকে ফাস্ট বানানোর জন্য জীবন দিতে ও রাজি নিরব!
.
হঠাৎ একদিন সবকিছু উলট পালট করে সে জীবন সঙ্গিনি হিসেবে মেয়েটিকে কল্পনা করতে শুরু করলো, একদিন বলে ও দিল, মেয়েটির উত্তর, আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড! সেইম এইজের কোন ছেলের সাথে তার সম্পর্ক করার কোন ইচ্ছে নেই! নিরব বললো তাহলে এতদিন!? মেয়েটি বললো, একসাথে চলতে গেলে একটু আধটু ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, জান টান এগুলো বেস্ট ফ্রেন্ড কে আদর করে বলা যায় ৷ তার চেয়ে বড় কথা, মেয়েটি ক্লাসের ফাস্ট হওয়া ছেলেটির সাথে এখন ভাল সম্পর্ক,
.
নিরবের কোন কিছুই ভাল লাগছে না, শুনেছে সিগারেট খেলে এসব চিন্তা নরমেল হয়, সে থেকে তার সিগারেটের হাতেখড়ি! এক দিন তার এক বন্ধু বললো, সিগারেটের সুরকা বের করে এগুলো মিক্সার করে টেনে দেখ! কেমন লাগে..বন্ধুর কথা মত গাজায় টান দিয়ে তার মনে হলো, গাজার নৌকা পাহাড়তলী যায়..
.
এখন আর সিগারেট ভালো লাগে না তার, ডার্বি/নেবী কিনে সুরকা অর্ধেক ফেলে এক প্যাকেট স্টিক বানিয়ে পকেটে রাখে, সুযোগ বুজে আনাচে কানাচে গিয়ে সুখ টানের সাথে পাল্টে যেতে থাকে নীরবের জীবন, নেশার রাজ্যে হারিয়ে গেছে নিরব, বাবা/মা মোবাইল করলে বিরক্ত লাগে, থার্ড ইয়ার ড্রপ দিল, পাশাপাশি একটু আধটু হিরোইন খাওয়া শুরু করেছে সে,
.
নেশার রাজ্যে অনেক খরচ, খরচ মিটাতে গিয়ে বিকল্প পথ খুজছে! মাঝে মাঝে অতীতের কথা মনে করে তার চোখে জল আসে! ছোট ছোট ভাই বোনের কথা স্মরণ করে পণ করে এই জগত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে! কোন রকমেই পারে না
.
এদিকে গুটিকয়েক বন্ধু ছাড়া বাকীরা তাকে এভোয়েড করে চলে! কারণ সে এখন পূর্ণ মাদকাসক্ত, বাতাসের টানে এলাকায় একদিন খবর পৌছে গেল, নেশার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন ক্রাইম করে বেড়ায় নিরব! বাবা প্রথম প্রথম ফোন করে বুজাত! এখন আর বাবার ফোন রিসিভ করে না, নিরব ও বুজে গেছে সমাজের কাছে সে এখন কুলাঙ্গার / বাবার চোখের জল সে উপলব্দি করতে পারে তবুও ফিরে আসতে পারে না..জানি না কখন ফিরে আসতে পারবে! হয়ত সবার ভালবাসা একদিন নিরবকে ফিরিয়ে আনতে পারবে আর তা না হলে হারিয়ে যাবে ইতিহাসের একটি নিরব অধ্যায় ! হারিয়ে যাবে একটি প্রতিভা..
আসুন মাদককে না বলি, মাদাকাসক্তকে পূর্বের জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি..
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:২১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×