তখন বছরে এক বার শার্ট প্যান্ট জুতো কিনতাম আর তা দিয়ে পুরো বছর কাটাতাম মাঝে মাঝে দুই একটা বোনাসও পেতুম কদাচিৎ ! যে কথা গুলো বলছি এগুলো শুধু আমার কথা না সকল নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প ! কারণ গল্পগুলো আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি বুজেছি শুনেছি উপলব্ধি করেছি !
.
ঈদের শার্ট দেখে দেখে কখন যে আরেকটি ঈদ চলে আসতো তার খবর কে রাখে ? বালিশের পাশে নতুন জুতো রেখে ঘুমানোর ইতিহাসও আমি ভুলি নি ভুলবো না ! এক সময় আমাদের দৌরাত্ব ছিলো হকার মার্কেটের সামনে দোকানগুলো তারপর বড়জোড় ভিতরের দোকানগুলো ! ভাই আসেন ! কি নিবেন ! এমন ও হতো আড়কোলা করে দোকানে ডুকিয়ে দোকানদার বাড়ি জিঙ্গেস করায় সন্দ্বীপ বলাতে সে হো হো করে হেসে বলে ওটা তার শ্বশুরবাড়ি !
.
কোন মতেই সে শ্বশুরবাড়ির লোক থেকে বেশী দাম নিবে না ! আশ্বস্ত বিশ্বস্ত হলাম যদিও পরে ঈদের পরের দিন শার্টের বোগল তল ছিঁড়ে যাওয়ায় আজব তাজ্জ্ববভাবে তটস্ত ও হয়েছিলাম !
.
ব্রান্ড বলতে তখন আমার শুধু menz এর সাথে পরিচয় ! বড় হচ্ছি বলে চাচা আমাকে ব্রান্ডের শার্ট গিফট করেছিল ! সেদিন বুজেছিলাম বক্স শার্টের উপরও শার্ট আছে যেমনি বাঘের উপর টাক থাকে !
.
আস্তে আস্তে কত কিছু পাল্টে গেছে ! ব্রান্ডের শার্ট পরে এলাকায় হাঁটা তারপর ওগুলো পরে ঘুমাতে যাওয়া ! জীবন কত পাল্টাই ! এখন হকার মার্কেট দেখলে থমকে দাঁড়ায় ! সেই শার্ট যেগুলো দশ বছর আগে আশি টাকা ছিলো সেগুলো এখনো মাত্র দেড়শ টাকা ! আসলে গরীবের তেমন দাম বাড়ে না ! ওদের খুব আপন মনে হয় ! একদিন বাবার সাথে আমি ও বেছে বেছে কিনতাম !
.
বাবা বলতো,
এটা নিবি ?
-'ওটা করিম পড়ে !'
ঐ টা নিবি?
-'ওটা সেলিম পড়ে !'
আগে যেটা দেখছস সেটা নিবি ?
-'ওটা রহিম্মা পড়ে !'
হাজার হলেও আমরা আমরাই তো ! মিলে যাওয়ার ভয়ে আতংকে থাকতাম ! কারণ ঈদের দিন কেউ একজন হয়তো বলে বসবে , "তুই করিম্মার শার্ট পড়ছস ! তোর ঈদ হয়বো না !' খাইছেরে !
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১০:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



