একটি মেয়ের পাশে নাকে মাস্ক লাগানো মুমূর্ষ বাবার ছবি তার উপরে কিছু লেখা 'এই পিকটা সবার কাছে পাঠাও তার বাবার অপারেশন করতে হবে' খুব ভালো কথা কিন্তু এরপরে লেখা 'এটি একবার সেন্ড করলে এক টাকা করে মেয়েটি পাবে তাই যে যতবার পারো পাঠাও'
.
তারপর থেকে কিছু ফেসবুক ফ্রেন্ড সবার ইনবক্সে ছবিটি পাঠানোর চাকরি পেয়েছে!
.
তাই তো বলি ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে দেশে বেকারের সংখ্যা কমলেও শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ে কেনো!
.
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে পড়ার সময় হঠাৎ করে দেখলাম কাফন মোড়ানো একটি লাশকে সাপ পেঁচিয়ে রেখেছে এমন লিফলেট প্লে কার্ড ছোট পঞ্জিকা! কবরের আজাবের সময় তোলা ছবি ক্যাপশন দিয়ে লাখ লাখ পিচ্ বিক্রী হওয়া শুরু করলো! অনেকে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ!! তখনো সাধারণ মানুষ জানতো না 'এগুলো এডিটিং করা যায়!'
.
আপনাদের এখন আমি পরিচয় করিয়ে দিবো রাতারাতি লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রয় হওয়া তিন টাকা দামের একটি বইয়ের সাথে! তিন চার পৃষ্ঠার একটি নিউজপ্রিন্টের বই সেখানে বানর থেকে মানুষের আবির্ভাব ডারউইনের মতবাদ সূচক একটি শিল্পীর আঁকা ছবি দিয়ে বিশদ্ আলোচনা কিভাবে লোকটি মা বাবার অবাধ্য হওয়াতে মানুষ থেকে বানর হয়ে গেলো!
.
আমি নিজেও তখন টিফিনের টাকা দিয়ে ঐ বইটি কিনে ছিলাম!
.
পরে পত্রিকার অনুসন্ধানী তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারলাম স্রেপ গুজব! বইটি বিক্রী করে লাখ লাখ টাকা মুনাফা কামানোই ছিলে প্রেসের উদ্দেশ্য!
.
আহসান হাবীব পেয়ারের ডায়লগটি আবারো মনে পড়লো, 'এগুলো এডিট করা যায় ভাই!'
.
তারপর কিছুদিন আগে দেখলাম মাওলানা সাঈদী সাহেবকে চাঁদে দেখা গেছে এমন ছবি নিয়ে এসে কেউ কেউ হাজির তার কিছুক্ষণ পর দেখলাম আমাদের জনপ্রিয় এরশাদ কাক্কুকেও চাঁদে দেখা যাচ্ছে!
.
ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে শেয়ার ক্রেতাদের ভুল তথ্য পরিবেশন করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু মহল তার খবরটিও আবার ফেসবুক মারফত কিছু দিন আগে পড়ে অবাক হলাম!
.
ফেসবুকে ছেলে ধরা গুজব ছড়ানোর অভিযোগে জানুয়ারি মাসে সজল দাশ নামক এক ছেলেকে ভারতের অশোক নগর থানার পুলিশ ধরেছিলো! অবাক ব্যপার হলো সেই গুজবে কান দিয়ে কিছু নিরপরাধ মানুষ গণপিটুর স্বীকার হয়েছিলো এবং তাদের মধ্যে একজন মারাও গিয়েছে!
.
মনে আছে? ফেসবুকে মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে কুমিল্লার হোমনার বাকসীতারামপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩৫টি বাড়িঘর ও একটি মন্দির ভাঙচুর করেছিলো মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা!
.
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্রে পড়েছিলাম, খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে যেমন, ১,২,৩,৪... আর জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামেতিক হারে যেমন ১,২,৪,১৬... আর গুজব বাড়ে ১, ১০, ১০০ এমন অগ্নিতিক হারে কারণ আপনাকে কেউ একজন বলবে এই মেসেজটি দশজন ফরওয়ার্ড করেন! দশ জন আরো দশজন করে একশো জন! এভাবে মুহূর্তে গুজব রটে যায়!
.
মনে রাখবেন, এগুলো এডিট করা যায় ভাই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

