somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন মাঠ ভরা ভোটার ছিলো গল্পটি তখনকার

২৯ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার দাদী তার দুই নাতনীর জন্য পঁয়ত্রিশটা করে সত্তরটা নকশী কাঁথা সেলাই করে তা নিয়ে নাতনীর মুখ দেখতে গিয়েছিলো,
.
একটা কাঁথা সেলাই করতে দুই থেকে তিনদিন লাগে সুতরাং একশ চল্লিশ দিন টানা উনি নকশী কাঁথার মাঠে ছিলেন,
.
আমার আকীকার কথা মনে নেই তবে এটা মনে আছে আমার নানার স্বপ্ন ছিলো দুই নাতীকে দুটো স্বর্ণের আংটি দিবে তা তিনি শেষ পর্যন্ত টাকা ধার করে বানিয়ে দিয়েছিলেন!
.
আমার যতটুকু মনে পড়ে আমার দাদা নানা সবাই জীবন সংগ্রাম করতেন, দাদাকে বাবা একটা লাল চার্জ লাইটের কথা লিখে কুয়েতে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাৎকালীন এমন লাইট বিলাসিতা ছিলো কিন্তু দাদা তা পাঠিয়ে ফিরতি চিঠিতে শ্যুটকি মাছ আর বেগুন পাঠাতে বলেছিলেন,
.
কেন জানি মনে হয় হঠাৎ করে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে তা আশি নব্বই দশকে যাদের জন্ম তারা ছাড়া কেউ টের পাইনি!
.
আমাদেরও গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ, ক্ষেত ভরা ধান ছিলো কিন্তু এর বাহিরে কারো তেমন কিছু ছিলো না!
.
জমিদারের হয়তো দুই জোড়া বাটা সু ছিলো নতুবা লেদারের ব্যাগের ভিত্রে সেট করা একটি রেডিও,
.
হঠাৎ করে মানুষের ভোগ ক্ষমতা বেড়ে গেছে সাথে অভাবও, মানুষ অলস হতে শুরু করলো সাথে চৌকসও,
.
আমার এখনো চোখে ভাসে সাহেবদের প্যান্টগুলো বেল্টের চাপে ভাজ হয়ে আছে! শার্ট বাতাসে ওড়নার মতো দোল খাচ্ছে!
.
আম জাম বট গাছের আড়ালে কত সাহেবদের প্রাকৃতিক টানে ছুটে যেতে দেখেছি! এই তো সেদিন,
.
আফিসের গান শুনার জন্য এই আমরা দশ টাকা দিয়ে ক্যাসেট ভাড়া করে আনতাম,
.
ফুজি ফিল্মের রিলে ছত্রিশটা ছবি উঠানো যেতো, বিশটা নিজেরা তুলে বাকী ষোলটা বিক্রী করে দিতাম!
.
চোর বলে কেউ ভুলে ডাক দিলে কয়েকশো মানুষ ধর্ ধর্ করে তেড়ে যেতো!
.
তেমন কিছু ছিলো না আমাদের ছোট বেলায় কিন্তু যা সবার ছিলো তা হলো এক বুক হৃদয়!
.
আমরা যারা চবিতে থাকতাম তারা ভুলেও জোবরা এলাকার কোন মানুষের উপ্রে হাত তুলতাম না কারণ তাদের সকালে গালি দিলে বিকেলে কয়কশো মানুষ লাঠি সোঠা নিয়ে তেড়ে আসতো,
.
যেদিন নামাজ পড়তাম না লুকিয়ে থাকতাম, না পড়ে যাবি কই! দরজার চৌকাঠ নাড়িয়ে ফেলতো সালাত! সালাত! করে,
.
একবার চোখ উঠছিলো, এতো মানুষ দেখতে আসছিলো যে পরের দিনে এলাকায় লাল চোখের মেলা বসে গিয়েছিলো,
.
কেউ ভুলে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলে মনে হতো পুরো এলাকার মাথা ভনভন করে দুলছে!
.
একবার এলাকায় কে জেনো এক্সিডেক্ট করেছিলো পুরো রাস্তায় অভ্যর্থনা মিছিল, রাজার মতো সে এলাকায় ঢুকছে, সবার মুখে হায়! হাসান! হায়! হাসান!
.
তখনকার কইজ্জাও দেখার মতো ছিলো,
.
গুণে গুণে বলতে পারতাম পঞ্চাশ ঘরে দুইশ বায়ান্ন জন মেম্বার তিনজন অতিথি আছে,
.
কারো মামা হলে সে এলাকার মামা, দাদা হলে এলাকার দাদা, জামাই হলে তো এলাকার জামাই!
.
অমুক বাড়ি মেহমান সবার কাছে তার কি সম্মান!!!
.
মুরুব্বিদের সালাম দিতে দিতে কাহিল হইয়া যাইতাম! একবার কোন এক মুরুব্বিকে ভুলে সালাম না দিয়ে সামনে দিয়ে চলে গেছিলাম পরে আবার বাসায় কি রেখে আসছি ভান করে ফিরতি পথে সালাম দিয়ে আসলাম,
.
সাইকেল থেকে কতবার মুরুব্বিদের দেখে ছোটদের নেমে যেতে দেখেছি!
.
সেই যুগে টাকা পয়সা ট্যাব টিভি ফ্যান ফ্রিজ তেমন কিছু ছিলো না! খোদার কসম!
.
অভাব ছিলো টের পাইনি কখনো! এরপরেও সুখ ছিলো! বড্ড সুখ!
.
আড্ডা দিতে ইচ্ছে মসজিদের সামনে গিয়ে বসতাম ওখানে সপ সময় দুই চারজন আড্ডা দেওয়ার জন্য স্ট্যান্ড বাই থাকতো!
.
ফেলে আসা জীবন! রেজাল্ট দিলে এলাকা খবর হয়ে যেতো, মিষ্টি মিষ্টি মিষ্টি চাই, না খাওয়ালে রক্ষা নাই,
.
এতো অভাবেও কোন খাবারের আয়োজন করলে পঞ্চাশ পরিবারে একটু একটু করে যেতো!
.
ভাইরে, আজ সব আছে! ঘরে ঘরে সব কিছু, নাই বলতে কেবলি আগের মতো অভাব নেই তবুও যেনো কোন কিছু আগের মতো নেই!
.
এমন অবস্থা, এলাকাতে কে আছে কে নেই সেই খবর এখন কারো কাছে নেই! একদিন এখানে সবাই আমাকে চিনতো ইদানিং আমি কাউকে চিনছি না! তারাও আমাকে!
.
সবকিছু কেমন জেনো হিসাবের ভিত্রে চলে গেছে! একান্ত না পারলে 'শালা'মলাইকুম' বলে গালি দেয় না শান্তি বর্ষিত করে বুঝিনা!
.
আমি আবার ফিরে যেতে চাই, যেখানে এই চোর বললে ধর্ ধর্ করে একশ মানুষ দৌড়াচ্ছে এমন এক সমাজে....!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুনাফেকি নাকি Diplomatic situationship?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০


গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরেকটা পদ্মা সেতু না বানিয়ে দেশ উন্নয়নের নিনজা টেকনিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৫




আগে জানতাম উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ লাগে, চাহিদা অনুযায়ী শিল্প গড়ে ওঠে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় - তারপর দেশের উন্নতি হয়।

কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীনতা ২.০-এ এসে উন্নয়নের সংজ্ঞাই পাল্টে গেছে।

এখন উন্নয়নের নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল। আসসালামু আলাইকুম।

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪



ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে!
অবশ্য বর্ষাকাল চলছে, বৃষ্টি তো হবেই। ছাতা ছাড়াই বাসা থেকে বের হলাম। ছাতা নেই। ভেঙে গেছে। এক বছর হয়ে গেলো। কিনবো কিনবো করে আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভুল, অনুতাপ ও ভালোবাসা

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরবা? আমি রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে আনিসকে বললাম। সে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতেই ছোট্ট করে উত্তর দিল,
- চেষ্টা করব। আমি হেসে বললাম,
- তোমার এই চেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×