somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেল থেকে বলছি

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জেলে যাওয়ার পর কলিম ভাই প্রথমে লাইব্রেরীতে নিয়ে গেলেন, জেলের ভিতরে লাইব্রেরী দেখে অবাক হলাম! আরো অবাক হলাম সেখান থেকে ভাই কয়েক ডজন হুমায়ুন আহমেদের বই বের করে কি যেনো খুঁজছে!
.
ভাই হিমু সমগ্র, মিসির আলী, শুভ্র না বাকের ভাই, কোথায় যেনো লেখা আছে 'জীবনের সবাইকে একবার হলেও জেলে যাওয়া উচিত' সেটা খুঁজছে! আমি বললাম 'হিমু রিমান্ডে' বইয়ে হয়তো থাকতে পারে কথাটা!
.
খোঁজা বাদ দিয়ে সে আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বললো, জেলে তিন মাস থাকলে তোমাকে আর কষ্ট করে হিমুর গল্প পড়ে অবাক হতে হবে না! এখানে গল্পরা খেলা করে! ভাইয়ের রহস্যময় কথাগুলোতে আমি যেনো অন্যরকম মাসুদ রানার সন্ধান পাচ্ছি!
.
জেলে ঢুকার পর ভাই প্রথমে যে উপদেশ দিলেন তা হলো, পকেটে করে দুই প্যাকেট বেনসন নিয়ে ওয়ার্ডে আসতে হবে! পরের দিন আমি দুটা বেনসন কিনতে গেলাম! সেখানে অদ্ভুত এক নিয়ম! এক প্যাকেটের নিচে বেনসন্ বিক্রী হয়না!
.
পকেট হাতড়িয়ে এক প্যাকেট বেনসন ক্রয়ের মানসে দাম জানতে চাওয়ার পর বুঝলাম আমি জিম্বাবুয়ে চলে এসেছি! এখানে টাকার দাম নেই! দুইশ টাকার বেনসেন প্যাকেট পাঁচশ টাকা! সেটা নিয়ে ধীরে ধীরে রুমে আসলাম ততক্ষণে কয়েকজন আমার সাথে ভাব জমানো শুরু করলো!
.
এক প্যাকেট বেনসন যেনো বাদশা সোলাইমানের সেই আশ্চর্য আংটি, পুরো জেলখানা আজ আমার, নিজেকে সেলেব্রেটি মনে হচ্ছে! একটা বের করে টান দিলাম! পাশ থেকে আরো কয়েকজন, ভাই আমার বলে স্লোগান দেওয়া শুরু করলো!
.
সিগারেট টানতে টানতে আমি এক তলা দোতলা করে পাঁচ তলায় উঠে গেলাম! আমার সাথে ওরাও! অর্ধেক সিগারেট টানার পরও কাউকে শেয়ার করছি না দেখে তিনজন আশা ছেড়ে দিলো!
.
শেষ একজন কয়েক টান বাকী থাকার আগেও আশা ছাড়েনি! আমি তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম! সে দুই আঙ্গুল বিজয় চিহ্নের মতো করে এগিয়ে দিলো! সেই আঙ্গুলের ফাঁকে সিগারেটটি রাখলাম! দীর্ঘশ্বাস নিয়ে সে টানতে লাগলো! আমি বাস্তবের হিমু দেখছি!
.
সেদিন কেটে গেলো তার জেলে আসার কাহিনী থেকে শুরু করে স্কুলে দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার সেই আনাড়ি গল্পও, তার একটা মেয়ে আছে, সামনে দুটা দাত নেই! হাসিটা নাকি খুব দেখতে ইচ্ছে করে অথচ এই মানুষটা যে লোকটাকে খুন করেছে তার তিন্ তিনটা মেয়ে!
.
সেদিকে যাবো না! আরো ঊনিশটা বেনসন আমার হাতে আছে! মনে হচ্ছে ঢাকা শহরের বুকে ঊনিশ কাঠা জমি আমার পকেটে!
.
জেলে ঢুকার আগে গল্প পড়তাম! এখন গল্প শুনি! বাবার সাথে যোগাযোগ হয়েছিলো! কন্নাকাটি করছে! কত কষ্ট আছি ভেবে! আমার মনে হলো, আমি ইনজয় করছি! প্রতিটা দিন! ফার্স্ট ডে এট জেল্ নিয়ে একটা গল্প লিখতে ইচ্ছে করছে খুব!
.
এবার মায়ের সাথে কথা হলো, বললাম দশ হাজার টাকা পাঠাতে! এখানে এক টুকরো মাছ পাঁচশ টাকা! বিশ রকম মশলা দিয়ে রান্না করা হয়! এই প্রথম মা হাসছে! তারপর একটু চুপ থেকে বললো, খোকা পদ্মার বড় ইলিশের টুকরো নাকি?
.
পদ্মার ইলিশ দিয়ে খেয়ে দিব্যি সুখে আছি ভেবে মা অনেকটা টেনশন মুক্ত....এদিকে কলিম ভাইয়ের খোঁজে আছি! আমার জেলখানার গুরু! একটা সিগারেট তাকে দিতে হবে! একজন কয়েদীকে জিজ্ঞেস করলাম, মুখ ভর্তি দাড়ির ঐ লোকটা এক চোখ ছোট, তাকে দেখছে কি না?
.
কয়েদি অদ্ভুত এক হাসি দিয়ে বলতেছিলো,' সে হয়তো নতুন কোন আসামীকে উপদেশ দিতে ব্যস্ত বিনিময়ে তারা এক দুটা সিগারেট তাকে খুশি হয়ে উপহার দেয়! লোকটা বড্ড ভালো! একটু সিগারেটের নেশা বেশী!'
.
বড্ড মায়া হচ্ছে! কলিম ভাইকে এক প্যাকেট সিগারট ই দিতে হচ্ছে হচ্ছে কিন্তু ঊনিশ কাঠা জমি এভাবে কাউকে দেওয়া ঠিক হবে না!
.
কারণ গতকাল এক টান দেওয়ার জন্য যে স্লোগান দিতে দিতে পাঁচ তলা উঠেছিলো সে আজ আমাকে চিনছেই না! এখানে ক্ষমতা যার পুলিশ তার তত্ত্ব চলে! অলিখিত সংবিধান!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×