তিন মাসের ছুটিতে কদম আলী বিয়ে করতে এসেছে, জন্মের পর থেকে কানাডায় বেড়ে উঠা তার, দেশী মেয়ে বিয়ে করবে বলে পণ করেছে!
.
কয়েকটা মেয়ে দেখার পর একটা মেয়েকে পছন্দ হলো! পাত্রী পার্লার থেকে সেজে এসেছে! অপরূপ লাগছে! মিয়া বিবি রাজী!
.
আরেকবার যখন একান্ত কথা বলার জন্য তারা দুই জন রেস্টুরেন্টে এলো সেদিনও মেয়েটি মেকাপ করে এসেছিলো! জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো তারা,
.
তারপর তাদের ফোনে কথাবার্তা হতো! এভাবে কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে একদিন বিয়ের সময় ঘনিয়ে এলো! ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেলো!
.
মেয়ে উঠিয়ে আনা হলো! সবাই মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ বলতে লাগলো! রাত ঘনিয়ে এলো! জামাই বাবু মুখ হাত ধুয়ে লুঙ্গী পড়ে আসলো!
.
খাটে বসে ঘোমটা তুলে লক্ষী বউয়ের মুখখানি দেখলো! তারপর কি মনে করে উঠে দরজা বন্ধ করে দিলো! আস্তে আস্তে নতুন বউয়ের কানে কানে বললো, ফ্রেশ হয়ে আসতে!
.
নতুন বউ কানের দুল খুললো, হাতের বালা সাথে মাথার টিকলি থেকে শুরু করে গলার চেইন!
.
জামাই বাবু তা দেখে কি ভাবছে জানিনা....!
.
মেকআপ রেমুভার নিয়ে বউ ওয়াশ রুমে গেলো! ভালো করে ফ্রেশ হয়ে বাসর ঘরে আসলো! জমাই বাবাজি আকাশ থেকে পরলো! ওরে মা রে, বলে দৌড়ে রুম থেকে বাহির হয়ে গেলো!
.
হঠাৎ ঘরের পরিবেশ পাল্টে গেলো! চারদিকে যেনো কান্নার রোল! সেদিন বাসর হয়নি তাদের! নতুন বউ সবকিছু বুঝতে পারলো!
.
মেয়েটি একটি সকালের প্রতীক্ষা করতে থাকলো! সূর্য উঠলে সে ও সবকিছু রেখে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাপের বাড়ি চলে গেলো!
.
ঘটনাটি নিয়ে দুটি পক্ষ হয়ে গেলো, বরপক্ষ বলতে লাগলো তাদের সাধের ছেলের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে! আধ ইঞ্চি মেকাপ করে মেয়ের রূপ গোপন করা হয়েছে!
.
কনেপক্ষ বললো, একটা মেয়ের রূপ না গুন ই সব!
.
তাই বলে মেকাপ করে যাওয়ার কি দরকার ছিলো! প্রকৃত রূপ দেখানো উচিত ছিলো আগে থেকেই! পছন্দ হলে হবে না হলে নাই!
.
ঘটনাটি থেকে একটি বিষয় শিখলাম, কখনো নিজেকে গোপন করতে নেই! আপনি কালো হতে পারেন, চিরদিন যখন সেটা গোপন করতে পারবেন না সুতরাং বিয়ের মতো একটা বিষয়ে সেটা মেকআপ করে হাইড করে রাখাও একটা অদক্ষতা!
.
অনেকক্ষণ কার দোষ দিবো সেটা ভাবতেছি! তবে প্লাস্টিক কেবলি প্রকৃতিতে ৪০০ বছর টিকে থাকে বাস্তবে না!
.
গর্ব করে নিজের আসল রূপকে সামনে নিয়ে আসা উচিত! মেকাপ করে যদি ভালো লাগাতে হয় সেটা আকাশ বাতাস স্বাক্ষী রেখে বিয়ে করার মতো, বাস্তবতা ভিন্ন!
.
অনেক ছেলেদেরও দেখছি যারা মেয়েদের পঠানোর জন্য গাল গপ্প করে, দিনশেষে সবকিছু পানির মতো পরিষ্কার হলে তারা সেই মেয়ের লাথিও খায়!
.
আমরা যেমন তেমন! জ্বি! ইটজ মি! পোষাবে? ইটজ্ আমরা! না পোষালে টুংটাং!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


