কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোতে টিয়ুবিং করছিলাম, হঠাৎ জ্যাকব লুকাইটিসের ভ্রমণ ভিডিও ব্লগে চোখ আটকে গেলো!
.
সে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে ভালো রিভিউ করে কারণ অন্যান্য ভিডিও ব্লগাররা সাধারণত একটি দেশের সমু্দ্র সৈকত কিংবা দর্শনীয় স্থানগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করে,
.
জ্যাকবকে দেখলাম সে বস্তি কিংবা মানবেতর যারা জীবন যাপন করে তাদেরকে বিশ্বের সম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করে ৷
.
শেষ যখন সিরিয়ার মানবেতর জীবন তুলে ধরেছিলো তা আমাকে আকৃষ্ট করেছে, আরেকটি বিষয় ভালো লেগেছে যখন মুম্বাইয়ের একটি বস্তিতে সে পাঁচ দিন থেকে ভিডিও ব্লগ শেয়ার করেছে,
.
বস্তিতে থাকা পাঁচ দিনকে সে তার জীবনের লাইফ চেঞ্জিং হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি হাজার মানুষের জন্য নির্ধারিত টয়লেটে পট্টি সেরেছে!
.
ওখানে গোসল করেছে, থেকেছে, খেয়েছে কিংবা বস্তিতে নাচানাচিও করেছে,
.
খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে ছোট ছোট টিনের খুপরিতে মানুষ কতটা মানবেতর জীবন লীড্ করে!
.
চারদিকে ময়লার স্তুপ! ভাগারের গন্ধ! মশা মাছি কীট পতঙ্গ কিংবা ধোয়ায় ঢেকে যাওয়া এই যেনো আমার ঢাকা শহর,
.
জমে থাকা নোংরা পানিতে দলছুট ছেলে দলের লাফালাফি কিংবা জীবনের প্রথম উল্টো হাতে ব্যাট ধরে ছক্কা মারার অভিপ্রায়!
.
এসব গল্প লিখতে আমি আসিনি কারণ বাংলাদেশে এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত, ইন্ডিয়ার সাথে বাংলাদেশে সবচেয়ে মিলে দুই দেশের বস্তিগুলো,
.
আমরা মোটিভেশনের জন্য ওদের কাছে যায়, ভাবি ওদের মতো জীবন হলে কতটা সুন্দর হতো, আমাদের পকেটে বটতলী গাবতলী যাওয়ার থাকে না আর আমাদের বয়সের তরুণ ছেলেগুলো পৃথিবী চষে বেড়াচ্ছে!
.
করোনার দিনগুলোতে আমাদের বাবা মায়েরা বলে ঘর থেকে বের হয়ে দোকানে যাস্ না আর ওদের মাম্মী ড্যাডিরা বলে আপাতত দেশের বাহিরে যাওয়ার দরকার নেই,
.
সেটা ভিন্ন ইস্যু, যে বেপারটি বলতে এসেছি সেটা হলো, জ্যাকব যখন তার ভিডিও টিয়ুবে আপলোড করেছিলো তখন অনেক বলেছে তুমি তো ভালোই ওদের মানবেতর জীবন তুলে ধরেছে কিন্তু ভিডিও করা ছাড়া ওদের জন্য ভালো আর কি কাজ করেছো?
.
সে চিন্তায় পরে গেলো, আসলেই তো, কিছুই তো করেনি!
.
তারপর সে আবার ভারতের মুম্বাই এলো, ভারতীয় বন্ধু সাথে আরো ২৫ জনকে নিয়ে সে যে জায়গায় পাঁচ দিন ছিলো তার আশ পাশ পরিষ্কার করতে নেমে গেলো....!
.
সে তো পাল্টা বলতে পারতো, ওদের সরকার কি করেছে?
.
আজকে একটু আগে বাবা বললো, আমরা যদি এক কোটি মানুষও করোনায় মরে যায় তাতে সরকারের কি ই বা আসে যাবে! ক্ষতি তো যা হবার আমাদের হবে!
.
তারপর নির্দেশ জারি করলো, কাল থেকে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না ৷
.
সবার ঘরে ঘরে এমন নির্দেশ আদেশ হয়ে গেলে হয়তো আমরা সবাই বেঁচে যাবো!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



