জীবন হাজারো বক্তব্য শুনেছি কিন্তু আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের একটি বক্তব্য আমার কাছে মনে হয়েছে সেরা,
.
অনেক লেখা ই লিখি আপনাদের জন্য কিন্তু কিছু কিছু লেখা আমার জন্য, নিজের জন্য নোট করে রাখা!
.
তার আগে ছোট্ট একটি গল্প মনে করিয়ে দিই, শরৎচন্দ্রের উপন্যাস তখন হেব্বী জনপ্রিয় যেটাকে বলা হয় হট্ কেক্ তখন রবী ঠাকুরের দুর্বোধ্য লেখাগুলো তেমন কেউ পড়তো না তা নিয়ে একবার শরৎচন্দ্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি আপনাদের জন্য লিখি কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আমার জন্য লিখে /
.
তেমনি আবু সায়ীদের বক্তব্যটি গুটি কয়েক মানুষের জন্য, বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাত ৷
.
একবার ঢাকা কলেজে সায়ীদ স্যার ক্লাশ নিচ্ছিলেন তখন কিন্তু সেরা ছাত্রগুলো ই ঢাকা কলেজে পড়তো এমন সময় একদল ছাত্র কোন দাবী নিয়ে মিছিল করতে করতে ক্লাশের পিছনে ঢুকে গেলো আর বলতে লাগলো 'লড়াই! লড়াই! লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই' তা দেখে জনৈক মেধাবী ছাত্র স্যারের লেকচারে আরো মনোযোগী হয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ইঙ্গিত করে বললো, স্যার দেখছেন! ক্লাশের পিছনে স্লোগান দিয়ে পর্যন্ত ডিস্টার্ব করতেছে!
.
তখন সায়ীদ স্যার বললেন, 'সত্যি বললে ওরাই জাতির সেরা ছাত্র! ওরা অধিকার আদায় করতে শিখে গেছে! স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পেরেছে! জীবন উপভোগ করতে মরিয়া! একদিন তোমরা আবারো ওদের অধীনে চলে যাবে!'
.
চুড়ি পরে থাকা মেধাবী ছাত্রগুলো কখনো ভয়কে জয় করতে শিখতে পারে না ৷
.
একাত্তরে ওরাই মা বকলে বউয়ে আঁচলে নিচে মুখ লুকিয়ে ছিলো!
.
আরেকবার সায়ীদ স্যারের এক বন্ধু ইয়া দামী গাড়ি হাঁকিয়ে তার সামনে এসে ব্রেক কষে বললো, দোস্ত আর কত কবিতা লিখবি আর এভাবে মাইলের পর মাইল রাস্তায় ছেঁড়া স্যান্ডেল পরে হাঁটবি! উঠ্ গাড়িতে উঠ্! অনেক বছর পর সেই আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে একদিন তাদের কোন এক পোগ্রামের প্রধান অতিথি করার জন্য কোলে করে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো!
.
আজকে তোমরা যারা বিদ্যানন্দ বলে পাগল সেই ছেলেগুলো একদিন নোংরা আবর্জনায় হেঁটে গেছে মাইলের পর মাইল!
.
ভয় পেয়ো না বন্ধু, একজন মার্ক টোয়েন হও যেদিন তোমারি পাঞ্জাবীর কোণা স্পর্শ করার জন্য হাজার মানুষের লাইন তোমাকে নতুন করে চলতে শিখাবে,
.
প্রয়োজন বেয়াদব হও! কঠিন বেয়াদব! বেয়াদব দিয়ে যদি ভালো কিছু হয় তাহলে জ্বি হুজুরের মায়েরে বাপ!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

