somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনসংখ্যা দিয়ে একদিন পৃথিবী দখলে নিবো

১০ ই জুন, ২০২৩ রাত ৯:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমে বলে রাখি, সুইডেনে যৌনতাকে খেলা হিসেবে উপাধি দিয়েছে । দেশটিতে প্রথমবারের মত আয়োজন করা হচ্ছে ইউরোপিয়ান সেক্স চ্যাম্পিয়নশিপ।
.
খেলায় যেমন জিতলে ট্রফি পাওয়া যায় তেমনি এই খেলা যদি বৈধ হয় তার পুরস্কার সন্তান । এটা স্বাভাবিক । কিন্তু তসলিমা নাসরিন একদা বলেছিলেন মূর্খরাই আজকাল বাচ্চা পয়দা করছে বেশী । তসলি’মা নামটা তাকে যে দিয়েছে সেটা আসলে মা নামকে অপমান করেছে তার কথাবার্তায় তা স্পষ্ট ।
.
তিনি জানেন না, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঠেকাতে ১৯৭৯ সালে এক সন্তান নীতি চালু করা চীন কিন্তু পরে ভুল বুঝতে পেরে ২০১৬ সালে এসে অনুমতি দেয়া হয় দুই সন্তান নেয়ার ।
.
এক সন্তান নীতিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকানো গেলেও চীনের জনশক্তিতে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে বয়স্কদের সংখ্যা । তার সাথে পাল্লা দিয়ে কমে গেছে তরুণ সম্প্রদায় ।
.
ফলস্বরূপ, অর্থনীতির মাথায় হাত ।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. ফ্যাং ওয়াং ডয়চে ভেলেকে বলেছিলেন, 'এক সন্তান নীতির ফলে চীন স্বল্পমেয়াদি লাভ পেয়েছে, কিন্তু এটা অনেকটা পুকুর সেচে মাছ সংগ্রহের মতো৷ পানি না থাকলে এক সময় মাছই মিলবে না৷'
.
সেইম অবস্থা জাপানেও । সম্প্রতি ওরা রাস্তার মাইকিং শুরু করেছে, বোনাস! বোনাস! বোনাস!
.
জাপানের শহর নাগিতে পঞ্চম সন্তান জন্ম দিতে পারলেই দেওয়া হবে তিন লাখ টাকা ইনস্ট্যান্ট ক্যাশ ব্যাক।
.
ওদিকে, তাইওয়ানের সরকার জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় এতো বেশী উদ্বিগ্ন ২০১০ সালে তারা প্রায় ২৭ লাখ টাকা ঘোষণা করে শুধু মাত্র একটি চমৎকার স্লোগানের জন্য যা জনগনকে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করবে ।
.
আচ্ছা আমাদের ‘দুটি সন্তানের বেশী নয় । একটি হলে ভালো হয় ।’ এই স্লোগানের জন্য ওরা দুটো চটকনা পুরস্কার দিলে কেমন হয়?
.
হাঙ্গেরীতে বেশী সন্তানের রেকর্ড করলে পুরষ্কার স্বরূপ দেওয়া হয় প্রায় একশ কোটি টাকা সাথে বাড়ি, গাড়ি, ভুর্তুকি ।
.
অথচ কোটি টাকার পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েও জাপান, রাশিয়া, সিঙ্গাপুরে জন্মহার কোন মতেই বৃদ্ধি পাচ্ছে না,
.
দক্ষিণ কোরিয়ায় শিশু জন্মহার বাড়াতে ২০০৫ সাল থেকে দেশটির সরকার এখন পর্যন্ত ১২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে!
.
যেখানে শিশু সন্তানের মাসিক ভুর্তুকি ২৭০ মার্কিন ডলার সাথে পিতৃত্বকালীন ছুটিও আছে প্রায় দশ দিন!
.
হালের চীন বিশেষজ্ঞদের মতে জন্মহার হ্রাসের প্রভাব ২০১৮ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গেল ত্রিশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে!
.
ইতালীতে জন্মহার বাড়ানোর জন্য বিনামূল্যে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে,
.
সার্বিয়াতে শহরে শহরে বিনামূল্যে ভালবাসার ভোজ আয়োজন করা হচ্ছে ।
.
জার্মানিতে শিশুদের জন্য স্বর্গরাজ্য করে দেওয়া হয়েছে
.
কানাডা শিশু জন্মহার বাড়ানোর জন্য বিনামূল্যে জমি দিয়ে দিচ্ছে ।
.
সিঙ্গাপুরে নতুন জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়, পোল্যান্ড, আমেরিকা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ডসহ সবার ঘুম হারাম,
.
চার সন্তান 'মেইড ইন হাঙ্গেরী' হলে করশুদ্ধ মাফ!
.
ডেনমার্কের একটি স্লোগান 'ডু ইট ফর মম' যে প্রচারণার মাধ্যে এক প্রকার আড়কোলা করে ছেলে মেয়েদের সমুদ্রের বীচে যেতে বাধ্য করা হয় যাতে পানির সংস্পর্শে এসে ওদের ঐ টা করার ভাব জাগবে,
.
দেশগুলো আজ এই পরিণতি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের অত্যাধিক উৎসাহের ফল!
.
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রফেসর ড. মঈনুল ইসলাম স্যার বলতেন, দেশের মানুষ সরকারী হিসেবে আশি লক্ষ, বেসরকারী হিসেবে প্রায় এক কোটি বিশ লক্ষ বাহিরে থাকে তারাই আজ দেশের মেরুদন্ড! রেমিট্যান্সের কান্ডারি! তাদের হাতে রিজার্ভ ।
.
আমাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বেশী ফোকাস দিতে হবে কিভাবে তাদের দক্ষ যোগ্য স্বাবলম্বী করে শূন্য দেশের জনসংখ্যার দেশে পাঠানো যাবে,
.
প্রচুর কূটনীতিক প্রচরণা দরকার! এই একটা সেক্টর বাংলাদেশ বদলে দিবে! পৃথিবী হয়ে উঠবে টুকরো টুকরো বাংলাদেশ । আশা করি, জনসংখ্যা শূন্য দেশগুলো দখল করে পৃথিবী একদিন আমাদের হবে ।
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×