ড: তাহের হত্যার অন্যতম প্রধান আসামী সালেহীকে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়ার পর তিনি মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু বেচারী সালেহীর শেষ রক্ষা হয় কি-না এটা হচ্ছে বড়ো প্রশ্ন। ক্লাশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপস্থিতি না থাকায় তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জুলাই মাসের 17 তারিখে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক ড. এস তাহের হত্যা মামলায় অভিযুক্ত শিবির নেতা মাহবুব আলম সালেহীর ক্লাসে উপস্থিতি মাত্র 16 শতাংশ। সালেহীকে আদৌ মাস্টার্স পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেয়া হবে কিনা সেটি গতকাল পর্যন্ত জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে আজ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এদিকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ আজ থেকে অনুষ্ঠেয় মাস্টার্সের পরীক্ষা পিছিয়ে 12 আগস্ট তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, সালেহীর পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চত করতেই পরীক্ষার তারিখ পেছানো হয়েছে।
রাবি উপাচার্যের লিখিত সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিতির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে 25 জুন ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ সালেহীর আবেদন ফরম গ্রহণ করে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিভাগে জমা হওয়া ফরমের যে স্থানে 'ক্লাসে উপস্থিতির সংখ্যা' উল্লেখ করা প্রয়োজন, সে স্থানটি ফাঁকা রেখে বিভাগ তার আবেদনটি 27 জুন অনুমোদনের জন্য প্রশাসনে প্রেরণ করে।
কিন্তু সালেহীর আবেদন যাচাইকালে তার উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আনোয়ার হোসেনের নজরে এলে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে তিনি 29 জুন বিভাগের সভাপতির কাছে চিঠি পাঠান। গতকাল দুপুরে বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় সালেহীর উপস্থিতির সংখ্যা নিশ্চিত হয়ে 16 শতাংশ উপস্থিতি দেখিয়ে বিভাগ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর ফিরতি চিঠি পাঠায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের পরীক্ষাদানের বিষয়ে রাবির বিধিমতে [ভলিউম 1, পৃষ্ঠা 135, 7(এ), 270তম সিন্ডিকেট অনুমোদন 18.05.2002] মাস্টার্সের আবেদন করতে 75 শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে [নূ্যনতম 60 শতাংশ উপস্থিতি] প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি, একাডেমিক কমিটির অনুমোদন এবং নন-কলেজিয়েট ফি প্রদান সাপেক্ষে কেউ বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। 60 শতাংশ উপস্থিতির নিচে কোনক্রমেই কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু সালেহীর ক্ষেত্রে সে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েই তার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। সালেহীর ফরম পূরণ প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে জানান, একেবারে পড়ন্ত বেলায় সে চিঠি পেয়েছি। আগামীকাল (আজ) তা উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন করা হবে"।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৯:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




