ডেনমার্কে প্রকাশিত কার্টুনে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (স

কে অবমাননা করার প্রতিবাদে সারা পৃথিবীতে মুসলমানরা সোচ্চার ও প্রতিবাদমূখর। অনেক জায়গায় মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পরিবর্তে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ শুরু করেছে। হঠাৎ করে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের খবরের মাধ্যমগুলো ফলাও করে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের খবর পরিবেশন করছে। আমি আজকের দৈনিক সংগ্রামের পাতা উল্টিয়ে দেখতে চাইলাম জামাতী রাজাকাররা কিভাবে প্রতিবাদ করছে। দু:খজনকভাবে দেখলাম, না তাদের পএিকায় এব্যাপারে তেমন কোন আওয়াজ নেই। বিশ্বের দেশে দেশে বিক্ষোভ হচ্ছে একথা জামাতী মুখপাএ দৈনিক সংগ্রামে বললেও বাংলাদেশে তারা কিভাবে প্রতিবাদ করছেন তার কোন খবর নেই। কি বিচিএ!!! অথচ আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাইতুল মোকাররমের উওর পার্শ্বের গেটে কি বিশাল প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল হতো, সরকারকে আল্টিমেটাম দেওয়া হতো, কথার তুবড়িতে ইসলামী বিপ্লব হয়ে যেত। মন্ত্রী নিজামী ছাএশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপল েক্ষ ছাএশিবিরের জাতি গঠনমূলক কাজে সবাইকে সহযোগিতা করার আবেদন জানালেন। কিন্তু ডেনমার্কে প্রকাশিত এই কার্টুন সম্পর্কে টুঁ শব্দ করলেন না। এটাকেই বলে সুবিধাবাদী ইসলামী আন্দোলন। এটাই হচ্ছে হঠকারী রাজাকার জামাতীদের স্বরূপ। এরা চিরকাল ইসলামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে গেল আর এদেশের সাধারণ মুসলমানদেরকে প্রতারিত করে গেল।
স্মরণ করে দেখুন, তায়েফে ইসলাম প্রচারের সময় নির্যাতিত ও রক্তাত্ম নবী (স

ধৈর্যের সাথে শত্রুর মোকাবেলা করেন। মক্কা বিজয়ের পর তিনি তায়েফ বা মক্কাবাসীদের উপর প্রতিশোধমূলক নিযর্াতনের আশ্রয় নেননি। এটা হচ্ছে আমাদের নবীর সুন্নাত। আর আমরা মুসলমানরা 1400 বছর পর তার প্রদর্শিত পথ থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। তাই রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ নয়, বরং মুসলমানদের প্রয়োজন কৌশলগত পদক্ষেপ নেয়া। পৃথিবীর প্রতি 6 জন মানুষের 1জন হচ্ছে মুসলমান। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নিতে পারি। লোক দেখানো দু:খ প্রকাশ নয়। বরং ডেনীশ মিডিয়া কিভাবে সংবেদনশীলতা ও সহনশীলতার সাথে মুসলমানদের ধমর্ীয় অনুভূতিকে মযর্াদা দিবে তার জন্যে তাদের গণমাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়নে তাদের সরকারকে বাধ্য করতে হবে। এধরণের ঘটনার পুনরাবৃওি রোধে সরকারী নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ডেনীশ দুধ, ক্রীম আর অন্যান্য উপাদেয় খাবার, ও খেলার লেগো মুসলমানরা সারা বিশ্বব্যাপী বর্জন অব্যাহত রাখবে। এধরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন প্রতিবাদলিপি আমাদের তথাকথিত ইসলামী দলগুলো কোন দূতাবাসে দিতে যাননি। তার কোন উদাহরণ থাকলে জাতির সামনে তা তুলে ধরা প্রয়োজন। যেখানে রাজনৈতিক ইসলামের উত্থান, সেখানে মুসলিম স্বার্থরক্ষায় এধরনের গঠনমূলক সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচী অনুপস্থিত। সংগত কারণেই এখন সযত্নে চলছে পদলেহন পর্ব। কারণ, কেউ নারাজ হয়ে গেলে সমূহ বিপদ। এই হঠকারী ইসলামী রাজনীতির অবসান হওয়া দরকার। ইসলাম শেখায় মহত্ব, ক্ষমা, সহনশীলতা, ও ধৈর্য। ইসলাম শেখায় কাঁটা আর আবর্জনা নিক্ষেপকারী অমুসলিম বৃদ্ধার কুশল নেয়ার মতো মহত্বের শিক্ষা। সেধরণের ইসলামী সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতা কেন হারিয়ে যাচ্ছে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০