somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন?

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজনীতির মাঠে শেষ কথা বলে কিছু নেই। গত ক'দিন থেকে যা ঘটল তা মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী প্রতিটি মননকে খুব জোরালভাবে নাড়া দিচ্ছে। বাংলাদেশে হঠকারী রাজনীতির ট্র্যাডিশন ভাঙ্গা অতো সহজ না তা আবারও প্রমানিত হলো। ক'দিন থেকে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে পোস্ট করছি না। তবে বেশ কিছু ই-মেইল পেয়েছি এনিয়ে সুস্পস্ট বক্তব্য দেওয়ার জন্য। বলুন তো নির্বাচনে এবার কাকে ভোট দেবেন? জামাত বিএনপি'র 4 দলীয় মোর্চাকে না আওয়ামী-খেলাফতী 14 দলীয় মোর্চাকে? ক্রাইটেরিয়া কিভাবে নির্ণয় করবেন?

আমাদের দেশের রাজনৈতিক চরিএের দেউলিয়াত্ব আবারও প্রমানিত হলো। ধর্মান্ধ শক্তিকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক উওরণ একেবারে অসম্ভব বলে যে ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো বিশ্বাসযোগ্য ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির অনুপস্থিতি সুস্থ রাজনীতির ধারাকে অবলীলায় গ্রাস করছে। তাই একাওরের খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিপরীতে ধমর্ীয় শক্তিকে বগলদাবা করে আওয়ামী জোট নির্বাচনে বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এখানে রাজনৈতিক এথিক্স বলে কোন কিছু কাজ করে না। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন যে একটা নতুন মাএা পেয়েছে তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে? ধর্মভিওিক দলগুলোর উপচে পড়া যোগান কি তাই প্রমান করে না? অবশ্য আমার মতে, খুনীর বিনিময়ে চোরকে পাশে টানলে অপরাধের মাএাটা খুব লঘু বলে স্বস্তি পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

তবে আওয়ামী লীগের এই বৈপ্ল্ল্লবিক অবস্থানে কিন্তু জামাতীরা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে না দেখে অনেকেই তাজ্জব বনছেন। আওয়ামীদের মনে ইসলামী ভাবনার উদয় হচ্ছে আর ইসলামী ফতোয়ার ঝান্ডার নীচে ইসলামীকরণ খুব সহজ হবে এধারণা কিন্তু জামাতীদের মনে হচ্ছে না। ধর্মভিওিক রাজনীতির ঘরানার মানুষগুলোর আচরণে যে সতীন সতীনের চিরায়ত দ্বন্দ্ববোধ কাজ করে তা আবারও প্রমানিত হলো।

ধর্মভিওিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ যে আগামী দিনগুলোতে সচেতন জনতার আন্দোলনের ভিওি হওয়া প্রয়োজন তা অনেকেই হাড়ে হাড়ে টের করতে পারছেন। ধর্মভিওিক রাজনীতির সুবিধা হচ্ছে যে এর রাজনৈতিক ব্যবহারটা বেশ আবেগপ্রসূত এবং সুলভে ব্যবহারযোগ্য। ধর্মের ঝান্ডা উড়িয়ে ঔপনিবেশীকরণ হয়েছে, রাজনীতির মাঠ দখল হয়েছে আবার সন্ত্রাসী কার্যক্রমও চলেছে। জেহাদী প্রেরণা পেতে খুব বেশী দূর যেতে হয়নি। হয়তো সেই কারণে আওয়ামী লীগও সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি।

বিশ্বের প্রথম ভাষাভিওিক ধর্মনিরপেক্ষ রাস্ট্রব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ধর্মভিওিক অপশক্তির কাছে হার মেনেছে তার উদাহরণ তো নতুন নয়। তাই বিসমিল্ল্লাহ যোগ করলে আর রেডিও টিভিতে আজানের ধ্বনি শুনলে আমরা আবেগাপ্লুত হয়ে যাই। এতে আমাদের ধর্মবোধের প্রকাশের চেয়ে ধর্মান্ধ ধর্মব্যবসায়ীদের সিম্বলিক বিজয় বলে লম্ফন শুরু হয়ে যায়। কিন্তু ধর্মভিওিক রাজনীতি যে ধর্মবোধ বিস্তার করে না বরং রাজনীতিতে ধর্মের ইন্ডেন্টিং ব্যবসা জারি রাখে তা বিশদ করে বলার কোন দরকার নেই। ধরুন আওয়ামী-খেলাফতী মোর্চার আড়ালে যদি ইসলামী রাস্ট্র বলে বাংলাদেশকে ঘোষণা দেয় তাতে আশ্চর্য হওয়ার কোন কারণ দেখি না। কিন্তু এর সুফল যে মৌলবাদী জামাতীদের জন্য সুখকর হবে না তা তারা ভাল করেই জানে। ইসলাম কিন্তু পরাজিত শক্তির রাজনৈতিক অধিকার দেয় না। একাওরের পরাজিত শক্তি হিসেবে জামাতীরা যদি তাদের রাজনৈতিক অধিকার হারায় আর লাখো শহীদের রক্তঋণ শোধ করতে বাধ্য হয় তাহলে জামাতের যুদ্ধাপরাধী অনেক নেতারাই ছালচামড়া হারাবে। তাই আপাতত ইসলামী রাস্ট্রের প্রেসকি্্রপশন জামাতীদের জন্য তেমন একটা মঙ্গল ডেকে আনবে না।

ধর্মান্ধ শক্তিকে বগলদাবা করে আওয়ামী মোর্চার নির্বাচনী উওরনের লিপ্সা ও যুদ্ধাপরাধী জামাতীদের ঘাড়ে চড়িয়ে জাতীয়তাবাদীদের অগ্রযাএার মধ্যে অবস্থানগত ব্যবধান অতি সামান্য। ধিক্কারের মাএায় পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ধিক্কার থেকে নিস্কৃতি পাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রশ্ন, এবারের নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন? আমার নিজের অবস্থান তুলে ধরবো জানুয়ারীর তিন তারিখের পর। তার আগ পর্যন্ত আপনারা ভাবতে থাকুন
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×