নতুন একটা ম্যাগাজিন গত ক'মাস থেকেই পড়ছি। সব উঠতি খ্যাতনামা লোকদের লেখা। আমি নিজে লিখি না, কিন্তু আড্ডা মারি। তারপরেও হাজার দুয়ারীর লেখাগুলো দেখে আমার নিজেরও হাত নিশপিশ করতে লাগল। তাই হাজারদুয়ারীর অন্যতম ব্যবস্থাপক ব্লগার ধুসর গোধূলিকে ই-মেইল পাঠিয়ে জিগ্যেস করলাম লেখা পাঠাতে হলে কিভাবে পাঠাতে হবে। যথাসময়ে উততর আসল। সেই উততর আমার কস্ট ও বিড়ম্বনার কারণ। তাই নিয়ে এখনকার লেখা।
ধুসর গোধূলি বললেন, লেখা ছাপা হবে। কিন্তু নিজের নামে লিখতে হবে। মানে আড্ডাবাজ নামে লিখতে পারবেন না। নাম নিয়ে এ কি বিড়ম্বনা। বিদেশে থাকতে এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হয় যার নাম ছিল Mr. Dangerfield। নাম শুনেই হাসি পায়। আমার কলমের নামটাও বিদঘুটে। আমার কাল্পনিক শক্তি বড়োই দুর্বল। তাই মোহাম্মদ সুমি বা নুসরাত বাচ্চুর মতো আধো পুরুষ বা আধো মেয়েলী নাম খুঁজে বের করতে পারি না। তাই রাগ করে বললাম, "নাম নিয়ে বিড়ম্বনা, যাও ভাই যুদ্ধেই যাব না"। আমার আড্ডা নিয়ে আমি এখানেই সময় কাটাই। গাইতে থাকি:
"হলো না লো, হল না, সই হায়-
মরমে মরমে লুকানো রহিল, বলা হল না.."।
আমার আড্ডার বন্ধু নাম নিয়ে বিড়ম্বনার কথা শুনে বলল, "লেখো, নিজের নামে। অসুবিধে কি"? আমি চীতকার করে বললাম, অসুবিধা নাই মানে? প্রথমে বলবে, নাম দেন, তারপর বলবে, ফোন নাম্বার দেন, তারপর বলবে, থাকেন কোথায়? তারপর...। না, কিসসু না। দোস্তরে একটা গল্প বললাম, কি হতে পারে তার সম্ভাবনা নিয়ে। দোস্ত শুনে হাসে আর হাসে। খালি বলে, "দোস্ত তোর বয়স সত্যি বাড়বে না"।
তাহলে আমার দোস্তকে বলা গল্পটা শুনুন। মফস্বলের এক স্কুল শিক্ষক বিয়ে করেছে। বয়স কম। মনটা বড়ই রোমান্টিক। বিয়ে করেছে গ্রামের মেয়ে। সে শুনে রবীন্দ্র সঙ্গীত। ভাবে জোতসনা রাতে বনে যাবে। পুকুর ঘাঁটে পূর্ণিমা রাতে নববধুকে নিয়ে বসেছে। চারপাশ নির্জন। পুকুরের স্বচ্ছপানিতে চাঁদ হাসে। রূপালী আলোতে ভাসছে চারদিক। তাই লাজুক নতুন বউকে আকাশের দিকে হাত উঁচু করে বলে, "দেখো, কি সুন্দর চান্দ"।
নববধুর উততরে হতবাক হয়ে যায় রোমান্টিক স্কুল শিক্ষক। বউ খেমটি দিয়ে বলে উঠে, "বুঝছি, আপনি আমারে ....."।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১০:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


