কখনো কেউ পড়বে না জানি, তবু কেন যেন মনে হয় কারো হাতে গিয়ে পড়বে। হয়তো দুআঙুলে তুলে নেবে একজন, ঢেউ দিয়ে খুলে ফেলবে একপাতা: 'তোমাকে দিলাম, তুমি আমার কবিতা'। 'দ্যাখো তো, কবেকার কোন কথা, কোন মানে হয় এইভাবে মনে করানোর'। করুণায় হেসে উঠবে সে, ভুরু কুঁচকে ফেলবে ভুল করে: 'কতো ধরনের মানুষ আছে, কিরকম যে তাদের ধারণা। আর লিখবেই বা কি দিয়ে, সোনার দোয়াতকলম তো নেই, সেসব জানে সমালোচকরা'।
প্রথম অনুচ্ছেদটা তুলে দিলাম বীতশোক ভট্রাচার্যের লেখা 'কোনো কবিতার বইয়ের ভূমিকার বদলে' থেকে। প্রেমে পড়া খারাপ না। ভাল লাগাটা কি আর কবিতার বইয়ের মতো, সাজানো গুছানো আর ছন্দময় হয়? অবশ্যই হয় না। বারবার ভুলে যায় প্রেমিক মন। মনকে কি আর পাথর চেপে রাখা যায়? তাই প্রেমে পড়ে মন। কিন্তু প্রেমের গল্পের চেয়ে বিচ্ছেদের গল্পগুলো অনেক বেশী গভীর। কস্টগুলো সবসময়ই মনকে সবচেয়ে বেশী নাড়া দেয়। মনে হয়, নিজের হাতে বিরহের গল্পগুলো সাজিয়ে তুলি মিলনের আনন্দে। বিরহের কান্না কেউ দেখতে চায় না? কস্টগুলো কখনও ফুল হয় না। শুধু অশ্রুই হয়। প্রেমে পড়ার কস্ট জানে ভুক্তভোগী। অন্যরা তামাশা দেখে। মুখ টিপে হাসে। তারপরও পাগল মন প্রেমে পড়ে।
পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু না থাকলে সবচেয়ে বিপাকে পড়তো কবি আর শিল্পীরা। কি দিয়ে সাজাতো কবিতার শরীর আর সুরের মুর্চ্ছনা? ধন্যবাদ প্রেম। প্রেমের বাঁধন যেমন শক্ত তার মরা তেমনই হালকা। তাই সহজে জলে ডুবে না। ভেসেই থাকে। পত্রিকায় গতকালই পড়লাম, কপোত কপোতীর মতো পুরোটা দুপোর গড়িয়ে আড্ডা মারল। তারপর হাত ধরে চলন্ত ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহনন করল। কি ছিল তাদের মনে? জানি না। একবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গরমের ছুটি থেকে ফিরে এসে দেখি দ্বিতীয় বর্ষে পড়া আমাদের একেবারে শান্ত মেয়েটি ফিরে আসেনি। খবর পেলাম, সে আর কখনও আসবে না। প্রত্যাখ্যানের কস্ট ছিল অনেক বেশী। সেই ভার সহ্য করতে পারেনি। তাই বাঁচার স্বপ্ন উতসর্গ করলো। নির্বোধ প্রেম, শুধু কি মন চুরি করে, পুরো জীবনটাও।
আমি আড্ডাবাজ একবার প্রেমে পড়লাম। মনটা বড়োই উড়ুউড়ু। বাসায় বোন জানে। আর আমার মামা জানে। সেদিন দুপুর বেলা মামার অফিসে গেছি। সকালটা অন্যখানে ছিলাম! তাই দুপুরটা মামার কাছে গিয়ে সময় কাটাচ্ছি। একটা ছুতোও তৈরী হলো। ফিরলে কাজে লাগানো যাবে সারাদিনের বাইরে থাকার অজুহাত তৈরীতে। তাই সেখানে থামা। হঠাত মামার অফিসে এক বয়োবৃদ্ধ মানুষ। লোকটা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে বলল, "জীবনে যদি সুখী হতে চান তাহলে আপনি যাকে পছন্দ করেন তাকে বিয়ে না করে যে আপনাকে পছন্দ করবে তাকে বিয়ে করবেন"। আমি হতবাক ভদ্রলোকের এই অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যে। তাই, আজকের ছুটির দিনে আমাকে কেউ যদি জিগ্যেস করে বসে: আপনি কি সুখী?
আমি কি উততর দেব? বলব, "অসম্ভব সুখী মানুষ আমি। এখনও অনেকের ঈর্ষার কারণ"। জীবনে সুখ খুঁজে নেওয়ার বড্ডো দরকার। প্রেম করে অসুখী হওয়ার কি কোন যুক্তি আছে? কে শোনে কার কথা? ইদানীং শুনছি, আমার উততরসূরীরাও কঠিন প্রেমে আক্রান্ত (আম্মাআআ) ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


