এক্ষুণি দরজা নক করে জিজ্ঞেস করবে, "কে ফোন করেছে"? মামাদের এই এক সমস্যা। অতি নজরদারি। রাতের খবর মানেই ভাবেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আর অভুতথান। হয়তোবা তার দুই বোন নতুন ফন্দি আঁটছে তাকে বেমওকা বিপদে ফেলার জন্য। শরীকি সম্পততি একা খেলে এই এক সমস্যা। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। মনে হয়, মহল্লার বড়ো হুজুর আর মাতব্বর মেম্বররা এখনই সালিশী বসাবে। কাশলেও ভাবে তাকে নিয়ে কাশছে। হাসলেও ভাবে তাকে নিয়ে হাসছে। তাকান চশমার ভেতর দিয়ে আবার উপর দিয়ে। রক্তচোখ করলেই ভাবেন এবার কেঁদে কেটে সব মাটিতে মিশে যাবে। মামা আমার রগচটা মানুষ। ফুপা বলে, মানিকগঞ্জের ছোট মানিকও বলে, খবরদার "রগচটা মামারে ক্ষেপাবি না। ক্ষেপালে বিপদ। বন্য মোষের মতো তোদের তাড়িয়ে বেড়াবে"। আমরা আবার কচি খোকা সাজি। মামার ভয়ে কাঁপতে থাকি। ভয় না পাই, সমীহ সমীহ ভাব আনার চেস্টা করি। না কেশে, না হেসে গম্ভীর হবার ভান করি। সিরিয়াস হয়ে থাকি। মামা খুশী। বাসায় সবাই খুশী। ঘরে বাইরে শান্তি।
এই যে মামাভীতি তা মনে হয় আমাদের রক্তের মধ্যে গেঁথে গেছে। হয়তোবা আমাদের মামাদের জন্ম কাবুলিওয়ালাদের ঘরে। না হলে তাদের কাবুলি উর্দি পড়া ভীষণ মুর্তি দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ কি? খুব ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। মা ভয় দেখাতো মামার। মামা নিষ্ঠুর শাসক। দয়ামায়াহীন। না হলে যে দেশের ভাগ্নেরা দু'বেলা অন্নের অভাবে কাস্ঠখন্ড হয়ে যাচ্ছে সেখানে মামা নিজের পাতে মুড়িঘন্ট নিয়ে রক্তচক্ষু করার আগে একটু লজ্জা পেতেন। তাই খুব মনে পড়ছে সকালে-দুপুরে কোলাহল করে মামার দিবানিদ্রা যাতে নস্ট না করি তার জন্য মা সবসময়ই আমাদের ভাই-বোনদের শাসন করতেন। তারপরেও আমরা ক'ভাই বোন সমস্বরে কোরাস করে সকালবেলা নির্ভয়ে আওড়িয়ে যেতাম:
"..বলব আমি "আলসে মেয়ে! ঘুমিয়ে তুমি থাক,
হয়নি সকাল-তাই বলে কি সকাল হবে না ক'!
আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে"?
মোবাইল ফোনের কথা ভুলে, মিস্টির কথা ভুলে অপেক্ষায় থাকি নতুন সকালের। অপেক্ষার প্রহরগুলো দীর্ঘ মনে হলেও আমরা সবাই জাগলে খুব তাড়াতাড়ি সকাল হবে এই বিশ্বাস প্রবলভাবে বুকের মধ্যে ধারণ করে থাকি। আবারও রাতের ঘড়ির কাঁটাকে বিদ্রুপ করে ঘুমোবার চেস্টা করি ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




