somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অদ্ভুত রাত (রহস্যময়তার হাতছানী)

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের বাড়িওয়ালার মতন কৃপন ব্যক্তি আমি আমার লাইফে আরেকটা দেখিনি। খুলনা শহরে চারতলা বাড়ির মালিক কিন্তু দেখলে মনে হয় সংসার চালানোর জন্য প্রতি শুক্র আর শনিবার রুপসা ব্রিজের উপর কাসার প্লেট হাতে ভিক্ষা করেন। সংসার বলতে উনি, উনার স্ত্রী আর একমাত্র মেয়ে তুলি। তুলি মেয়েটা খুব নরম। নরম বলতে আমি ওর মন নরম বুঝাইনি। এরকম একটা খচ্চরের থেকে কিভাবে এতো কিউট আর তুলতুলে কারো জন্ম হতে পারে সেটা আমি তুলিকে না দেখলে কখনোই বিশ্বাস করতাম না। টাকার লোভে লোকটা মাত্র একটা রুম রেখে বাকি প্রতিটা রুম ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন। সেই রুমের খাটে ঘুমায় তুলি আর তুলির আম্মু, আর উনি ফ্লোরিং করেন। এজন্যই মেবি তুলির পরে উনার আর কোনো বাচ্চাকাচ্চা হয়নি! আমি কখনো মেহমান আসলে ঐ বাসায় রাতে থাকতে দেখিনি।
এইতো গেলো প্রস্তাবনা, এবার আসল গল্পে আসি। তার আগে আরেকটা কথা বলে রাখি, তুলিকে আমার খুব পছন্দ। পছন্দ মানে লাইক না। পছন্দ মানে লাভ। আর চারতলা বাড়ির একমাত্র উত্তরাধিকারীর বর হওয়ার চাইতে বেশি লাভজনক কিইবা হতে পারে!
.
খুলনায় একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ার সুবাদে এই বাসার নীচতলায় একটা রুম ভাড়া নিয়ে আমরা দুইজন থাকি। আমি আর আমার আরেকটা ফ্রেন্ড। বাসায় একটু ঝামেলার কারনে ঈদের একদিন পরই আমি খুলনা চলে এসেছি। শুধু আমার ফ্রেন্ড না, পুরো বাসাতে আর কেউ'ই আসেনি। এমনকি দারোয়ানও ছুটিতে। পুরো বাড়িতে মানুষ বলতে চারতলায় বাড়িওয়ালারা তিনজন আর নীচতলায় আমি একা। এই বাড়ির আশেপাশে কোনো বাড়িঘর নেই তেমন। বেশ ফাকা। কেমন গা ছমছমে একটা পরিবেশ। সেটাকে আরো একটু বাড়াতেই যেন সন্ধ্যা থেকে থেমে থেমে টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হলো। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে লাগলো বৃষ্টির বেগ। রাত সাড়ে নয়টার দিকে শুরু হলো তুমুল ঝড়। হুট করে কারেন্ট চলে গেলো। আমি খুজে টুজেও কোনো মোমবাতি পেলাম না ঘরে। রীতিমতো হরর সিনেমার দৃশ্যপট। সেই মুহুর্তে আমার দরজায় থেমে থেমে তিনবার নক হলো। ঠক..ঠক..ঠক...!
.
আমার বুকের মধ্যে ধুকপুক শুরু হলো। তারপর কী- হোলে চোখ রেখে যা দেখলাম তাতে হৃদয়ের ধুকপুকানি আরো বাড়লো। তবে এবারে আর ভয়ের কারনে না, অন্য কারনে। দরজার সামনে মোমবাতি হাতে তুলি দাঁড়িয়ে আছে। আমি চুল টুল ঠিক করে, মুখে ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম মেখে, টিশার্টটা খুলে ঈদের একটা নতুন শার্ট পরে দরজা খুললাম। দরজা খুলেই আশাভঙ্গ হলো। তুলির পেছনে ওর বাবা দাঁড়িয়ে আছেন। তুলি একটু পাশে সরে গেলে তার বাবা আই মিন আমাদের বাড়িওয়ালা সামনে এগিয়ে আসলেন। তারপর আমাকে লক্ষ্য করে যা বললেন, সে কথাটা আমি অনেক চেষ্টা করেও আমার কানকে বিশ্বাস করাতে পারলাম না। তিনি বললেন, 'বাবা ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে, এদিকের পরিবেশটা আবার ভালো না। তাই রাতে একা একা খালি বাসায় থাকা ঠিক হবে না তোমার। আমি তুলিকে তোমার কাছে রেখে যাচ্ছি, রাতে থাকবে। আমিই থাকতাম কিন্তু ওদিকে আবার তোমার আন্টি ভয় পাবে। আর বুঝোই তো বৃষ্টির রাতে বউ এর কাছে থাকটা..., এটুকু বলে উনি আমার দিকে চেয়ে চোখ টিপে দিলেন। আমি যাই কেমন? রাতে বেশি প্রবলেম হলে আমাকে ডাক দিও। আজ রাতে আর ঘুমানো হবে না মেবি। বলে, উনি আবার চোখে টিপলেন।'
তুলি রাগ দেখালো, 'উফ বাবা, এতো কথা বইলো না তো। এখন যাও।'
তুলির বাবা বললেন, 'আচ্ছা যাচ্ছি। কিন্তু তোরা আবার একরাতে খুব বেশি কিছু করিস না। আর সাবধানে থাকিস।'
তুলি রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললো, 'বাবা আমি এখন যথেষ্ট এডাল্ট। তোমার এতো টেনশন করা লাগবে না। যাও তুমি'। বলে দরজা বন্ধ করে দিলো।
.
মেয়ে এইসব কি বলে! আমার কানটান পুরা গরম হয়ে গেছে লজ্জায়। আচ্ছা এমন কি হতে পারে এটা স্বপ্ন? আমি আশেপাশে তাকালাম। নাহ, ঐতো তুলির ঠোটে গাড় লাল লিপস্টিক দেখা যাচ্ছে। আমি যতোদূর জানতাম স্বপ্ন সাদাকালো হয়।
খুশিতে কয়েকটা চিৎকার দিলাম, কিন্তু মনে মনে। তুলি টেবিলে মোমবাতিটা রাখলো। সেই আলোয় আমি ভালোভাবে ওকে দেখতে পেলাম। অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে। পরনে পাতলা গোলাপি টিশার্ট। গলার ওড়নাটা খুলে চেয়ারে রাখলো। তুলি এমনিতেই খুব তুলতুলে। আজ যেন সবকিছু একদম গলে গলে পড়ছে। সেদিকে তাকিয়ে আমি খচ্চর বাড়িওয়ালার ভাড়া বাড়ানো, পানি না দেয়া, ঝাড়ি দেয়া; টাইপ এখন অব্দি করা যাবতীয় দোষ মাফ করে দিলাম। খুব কম ভাগ্যবান ব্যাচেলরের বাড়িতে এরকম বাড়িওয়ালা জন্মায়!
তুলি ওয়াশরুমে ঢুকতে ঢুকতে আমাকে বললো, 'তুমি বিছানা রেডি করো, আমি একটু ফ্রেস হয়ে আসছি।'
.
আমি আয়েশ করে বিছানায় উঠে হাতপা ছড়িয়ে বসলাম। বাইরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। এমন বৃষ্টি যে বৃষ্টির রাতে পৃথিবীর প্রতিটা ব্যাচেলর তার বুকের মধ্যে একটা বউএর অভাব নিয়ে ঘুমাতে যায়। তাদের এছাড়া অবশ্য কোনো উপায়ও থাকে না। সবার বাড়িওয়ালা তো আর আমার বাড়িওয়ালার মতো হয় না। বাইরে কোথাও প্রচন্ড শব্দে বাজ পড়লো। হাওয়ার ঝাপটা এসে মোমবাতির আলোকে কাপিয়ে দিয়ে গেলো। কিন্তু আমার এসবে কোনো খেয়াল নেই। আমি ভাবছি আজকে দুজন মিলে খেলা হবে। ইয়ে মানে প্লে স্টেশনে ফিফা'১৭ গেম আরকি!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:০৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী কারা

লিখেছেন কিরকুট, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা হলেই আমাদের সামনে সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা আসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সুখ

লিখেছেন সামিয়া, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে সুমনের, জিপিএ ৫ পেয়েছে জানার পর পুরো দিনটিই বদলে গিয়েছে ওর আনন্দে।যেন পৃথিবীর সব খুশির দরজা একসঙ্গে খুলে গেছে ওর জীবনে।
ছেলেটা ওর বাবা মায়ের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×