somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার সালতামামি

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালবাসা একটি সহজ-সরল শব্দ । এটি মানুষকে সুন্দর করে । মহান করে । শব্দটিতে আবেগের ছড়াছড়ি । আবেগ ছাড়া যেমন ভালবাসা হয়না তেমনি অতি আবেগ কখনো এর আবেদনকে ক্ষুণ্ন করে । তবে ভালবাসা আবেগ দিয়েই বিচার্য , যুক্তি দিয়ে নয় ।



ভালবাসা সর্বজনীন বলে হৃদয়বান মানুষের পক্ষেই এর সকল শাখায় বিচরণ করা সম্ভব। হৃদয়হীন মানুষ ও এর কোন কোন শাখায় হযতো আংশিক আথবা বিপজ্জনকভাবে বিচরণ করে । সেটা নগণ্য বটে । তবে হদয়বান মানুষ মাত্রই এর সকল শাখায় বিচরণ করবেন তা নয় । এর জন্য মেধা এবং যোগ্যতার চেয়ে যে জিনিষটি বেশি প্রয়োজন তা হচ্ছে সাধনা । কথায় বলে ভালবাসাই আযোগ্য কে যোগ্য করে তোলে । তাই ভালবাসা এবং ভালবাসার মানুষকে হৃদয় দিয়েই উপলব্দি করতে হবে, মেধা বা যোগ্যতা দিয়ে নয় । কারো যদি এক্সট্রা অর্ডিনারি কোন যোগ্যতা থাকে সেটির সদব্যবহার ভালবাসাকে অলংকৃত করতে পারে বৈকি ।

ভালোবাসার জন্য প্রয়োজন মৌনতা , বাকপটুতা নয় । আবেগের কারণে কখনও মৌনতার মাঝে ও বাকপটুতা আসতে পারে তবে ভালবাসাকে উপলব্দি করতে হবে মৌনতা দিয়েই ।

ভালবাসা শব্দটি সহজ হলেও এর চলার পথ সবসময় মসৃণ নয় ।
ভালবাসার জন্য একটি সভ্যতার পতন ঘটতে পারে । হতে পারে রক্তপাতও । ‘ভালবাসি’ একথা যেমন সহজে বলা যায়না তেমনি এর ভার বহন করা ও ঢের সহজ নয় ।

রবি ঠকুরের ভাষায় ,
‘ সহজ কথা বলতে আমায় কহ যে
সহজ কথা বলা যায়না সহজে ।’

ভালবাসা কখনও নীতি এবং সংস্কারকে মান্যজ্ঞান করে, কখনওবা এসবের উর্ধ্বে উঠে ঠিকানাহীন গন্তব্যে যাত্রা করে ।

কবির ভাষায়-----
‘ তুমি লিখোনা , লিখোনা আমায় বন্ধু !
সমাজ-সংস্কারের মাথা খেয়োনা
নেমো না কো মাঠে আদাজল খেয়ে
নিভৃতেই ফেলো নিঃশ্বাস
আমি ঘ্রাণ শুঁকে চিনে নিব
এ তোমারই দীর্ঘশ্বাস ! ’

ভালবাসা এখানে সংযমের ভূমিকায় - প্রেয়সিকে সংস্কারের খোলসমুক্ত হয়ে লোকালয়ে আসাকে নিষেধ করছে ।

অন্য দিকে-
‘ ভেঙ্গে দাও আজ সংযমের বাঁধ যত
আমি নিজের বুকেই বয়ে বেড়াব
নিজেরই নোংরামির ক্ষত ! ’

পরক্ষণেই ভালবাসা এখানে অপরিণামদর্শী গন্তব্যে প্রেয়সীকে আহ্বান করছ।

ভালবাসা তার অপজিট পার্সনকে দূরে ঠেলার চেয়ে কাছেই টানে বেশি । এটিই ভালবাসার সহজাত ধর্ম । প্রিয় কে দূরে ঠেলে দিয়ে বিরহের সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে যারা নিজেকে সুখি বলে , তার মিথ্যে বলে । এতদসত্তে ও দূরে ঠেলে দেয়ার সংস্কৃতিতেই আমরা অভ্যস্থ । ক্ষত থেকে যা সৃষ্টি করা সম্ভব তার চেয়ে প্রিয়তমকে কাছে পাওয়ার আনন্দ থেকে মহত কিছু সৃষ্টি সম্ভব । আমাদের সংস্কৃতিতে মিডল পয়েন্ট ইমোশন কাজ করে বলেই অকারন দুঃখ-দুঃখ ভাব ।

রবি ঠাকুরের গান
‘ সখী, ভালোবাসা কারে কয় ! সে কি কেবলই
যাতনাময় ।
সে কি কেবলই চোখের জল ?
সে কি কেবলই দুখের
শ্বাস ?’
লোকে তবে করে কী সুখেরই তরে এমন
দুখের আশ ।'

কবির ভাষায়-
‘ তুমি দুঃখ হয়ে এসোনা বন্ধু
সুখ হয়ে এসো সুখের ভেতরে
কবিতা হয়ে এসো কাব্যের ভিতরে ।’



পৃথিবীতে মায়ের ভালবাসার সাথে কোন কিছুই তুল্য নয় । পৃথিবীর কোন ভাষাই এ ভালাবাসাকে অলংকৃত করতে যথার্থ নয় ।

স্রষ্ট্রার সাথে যাদের প্রেমের সম্পর্ক স্রষ্ট্রার ইচ্ছোকে তারা নিজের জীবনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করতে ব্রত থাকেন-

রবি ঠাকুরের ভাষায়-
‘ আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার
চরণধূলার তলে ।’ (গীতাঞ্জলী)

কবি এখানে কেবল স্রষ্ট্রার পায়ের নিচে নয় , পায়ের নিচে যে ধুলো থাকে সেখানে আশ্রয় চাচ্ছেন । এভাবে স্রষ্টার ইচ্ছের মাঝে কবি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন ।

কবি আরও বলছেন--
‘ তোমারি ইচ্ছা করো হে পূর্ণ
আমার জীবন-মাঝে ।’ (গীতাঞ্জলী)

ভালবাসা কখনও তার চার পাশে প্রতিহিংসার আবহ তৈরি করে । একদিকে ভালবাসার আগুন দগ্ধ করে প্রেমিক যুগল কে করে মহান । অন্য দিকে হিংসার আগুনে জ্বলে ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠী জ্বালিয়ে দেয় সভ্যত করে অকারন রক্তপাত !





হেলেন ও পেরিসের প্রেমের জন্য গ্রিক সৈন্যরা ট্রয়নগরীতে আগুন ধরিয়ে দেয় । প্রেমের আগুনে নয় প্রতি হিংসার আগুন ভস্ম হলো রূপবতি ট্রয়নগরি ।

এছাড়া দেশকে ভালবেসে জীবন দেয়োর সংস্কৃতির ইতিহাস প্রাচীন । ৭১ এ লাখো শহীদের খুনে সোনার বাংলাদেশ অর্জনের অভিজ্ঞতা আমাদের ঝুলিতে ।

আবুল হাসানের ভাষায়-

‍‌

ছোটো ভাইটিকে আমি
কোথাও দেখিনা,
নরোম নোলক পরা বোনটিকে
আজ আর কোথাও দেখিনা !
কেবল পতাকা দেখি,
কেল উৎসব দেখি ,
স্বাধীনতা দেখি,
তবে কি আমার ভাই আজ
ঐ স্বাধীন পাতাকা ?
তবে কি আমার বোন, তিমিরের বেদীতে উৎসব ?"

অবুল হাসানের স্বাধীনতার এ করুন চিত্রে নোনাজল ধরে রাখা দায় হয়ে যায়-সে একান্ত ভালবাসার জন্যই ।





পৃতিবীতে আমরাই একমাত্র জাতি মাতৃভাষার জন্য জীবন
দিয়েছি । এবিরল ভালবাসার গৌরবময় অভিজ্ঞান আমাদের ঝুলিতে এসেছে সেই ৫২ সালে ! এই বিরল অর্জনে এখনো বিশ্বের কোন জাতি ভাগ বসাতে পারে নি !

‘ আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি ।'


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×