তটিনী যেটা ভেবে ছিল ঠিক তেমন টা ঘটলো। দরজা খুলে দেখে কেউ নেই। এতক্ষণ ধরে বেল বাজাতে পারলো আর ২ টা মিনিট দাঁড়ালে কি এমন ক্ষতি হতো। এখন মনে হচ্ছে, যে বেল বাজাচ্ছিল তাকে পেলে লবণ ছাড়া আস্ত গিলে খেয়ে ফেলতে পারতো তটিনী।
খাবারের কথা মনে করতেই ভাবলো আর দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই যাই কিছু খাবা্রের আয়োজন করি গিয়ে।যা খিদে পেয়েছে। দরজা বন্ধ করবে এই সময় পাশের ফ্ল্যাটের মায়া ভাই (মায়া ভাই নামের পিছনে একটা বিশদ গল্প আছে) তটিনী কে ডাক দিলো।
মামনি নাকি ?
আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল।
ওয়ালাইকুমুস সালাম মামনি।
দরজায় দাঁড়িয়ে যে মামনি?
না আঙ্কেল তেমন কিছু না… (তটিনীর মুখের কথা কেঁড়ে নিয়ে বলে উঠলেন মায়া ভাই)
তোমাদের বাসায় সকাল থেকে কে আসছে বার-বার ?
আপনার কথা আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না অংকেল, আমরা সারা দিনই কেউ বাসায় নেই !!!
হ্যাঁ রে বাবা তাই তো বলছি “সকাল থেকে বার-বার একটা ছেলে আসছে। সকালেই আমি বলেছিলাম তাকে দুপুরের পর ছাড়া পাবেন না বাসার কাওকে। একটু আগে দেখলাম সিঁড়ি দিয়ে নামতে। আমি বললাম লিফট দিয়ে যান, অযথা সিঁড়ি ভাঙ্গছেন কোন?ডায়বেটিস আছে নাকি যে ক্যালরি Burn করছেন। শুধু বলল – না, It’s ok “ ব্যাস… এত কম কথা মানুষ বলে কেমন করে আমি তো বুঝতে পারিনা বাপু !!!
তা কে হয় তোমাদের মামনি ছেলে টা ??
আপনি কার কথা বলছেন আমি ঠিক বুঝতে পারছি না ? আর আমি দরজা খুলে একজন কে ও পায়নি।
ও তাই বলো।
আঙ্কেল যাকে আপনি দেখেছেন সে দেখতে কেমন ??
মায়া ভাই এই বার চোখ বন্ধ করে ভাবতে শুরু করলো। নিখুঁত বর্ণনা দেবার প্রাণপণ চেষ্টা আর কি। তাছাড়া অপরের উপকার করবার ব্যাপারে তাঁর খুব নাম ডাক আছে। প্রতিবেশীর মেহমান নিজের বাসায় রাখা, প্রতিবেশীর বাচ্চা কে স্কুল থেকে এনে দেওয়া এই সব ব্যাপারে তাঁর সুনাম অনেক। অনেকটা সেই জন্যই তাঁর নাম মায়া ভাই হয়েছে বলা যায়।
এবার মায়া ভাই লম্বা সুর করে বলতে লাগলেন “দে-খ-তে কে-ম-ন ছিল…”
এই তো মামনি তুমি তো আমাকে বিপদে ফেললে (চোখ বন্ধ করে বলতে লাগলেন মায়া ভাই)
আচ্ছা যা মনে পড়ছে তাই বলি “চোখ বন্ধ করে এক গাল হেসে বললেন- ছেলে টা দেখতে মাশাআল্লাহ্ খুব সুন্দর, লম্বা নাক, আর লম্বা ও বেশ, একটু লাজু্ক মনে হল, তবে দেখে মনে হল বেশ শান্ত। আর হ্যাঁ, নাকে ঠি-ক মাঝে একটা তিল আছে”
শেষের লাইন টা শোনার পর তটিনী শরীরে একটা শিহরন জেগে উঠলো, সেই আগের মত, সেই আদি স্মৃতির মত শিহরন। যে শিহরনের নাগাল সে কখনও পায়নি।
মায়া ভাই বলে উঠলেন – মামনি এখন আর কথা বলতে পারছি না পাখি গুলার খাবার দেওয়ার সময় হয়েছে। পরে এসে তোমার সাথে গল্প করবো আর সাথে কিন্তু এক কাপ কফি ও খাবো।
তটিনী ও আর কোন কথা না বলে আস্তে করে দরজা লাগিয়ে দিলো।
তটিনী চায়ছে না আদি স্মৃতিতে ফিরে যেতে, কিন্তু আদি স্মৃতিতে তাকে বার বার চেপে ধরছে আদিতে ফিরে যাবা জন্য। আদি স্মৃতি চায়ছে তাকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাবার জন্য তাঁর কাছে।
তটিনীর কানের প্রতিধ্বনি হচ্ছে শুধু একটা লাইন “আর হ্যাঁ নাকে ঠি-ক মাঝে একটা তিল আছে”
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৫ দুপুর ২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





