MRP - মেশিন রিডেবল্ পাসপোর্ট
আমার এবং আমার মেয়ের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছিল এ বছরের যথাক্রমে এপ্রিল ও মে মাসে। আগষ্ট মাসে ইন্টারনেট থেকে এমআরপি ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করলাম। আমার পাসপোর্টের জন্য লেগেছে পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিন ছবি (একটি), ন্যাশনাল আই ডি কার্ডের উভয় দিকের ফটোকপি (এক সেট), পুরাতন পাসপোর্টের প্রথম নয় পাতার ফটোকপি (এক সেট)। (ছবির উল্টাদিকে নাম লিখে দিতে হয়। ফটোকপিগুলো সত্যায়িত করার প্রয়োজন হয়নি।) ছবিটা আঠা দিয়ে ফরমের নির্দিষ্ট অংশে লাগিয়ে একজন গেজেটেড সরকারী কর্মকর্তাকে দিয়ে সত্যায়িত করিয়েছি। এছাড়া ফরমের আরেক অংশে ঐ সরকারী কর্মকর্তাকে ঘোষণা দিতে হয়েছে তিনি আমাকে কত বছর ধরে চেনেন। আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস সোনালী ব্যাংকের বুথে তিন হাজার টাকা (সাধারণ সেবার জন্য; জরুরী হলে ছয় হাজার টাকা লাগত) জমা দিয়ে পাওয়া রশিদ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিলাম ফরমের প্রথম পাতার উপরের দিকে। (রশিদটা এমনভাবে লাগাতে হবে যাতে এটা সহজে খুলে না যায় আবার ফরমের কোন লেখাও ঢাকা না পরে।) আমার জানা ছিল না যে পাসপোর্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে তিনশ টাকা বেশী ফি দিতে হয়। পরে আবার তিনশ টাকা সোনালী ব্যাংকের ঐ বুথে জমা দিয়ে একই কায়দায় ফরমের সাথে লাগিয়ে দিতে হয়েছে। পাসপোর্ট ফরমটা সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য কয়েকজন মহিলা কাজ করেন। তারা পরীক্ষা করে দেখলেন যে আমার স্থায়ী ঠিকানার অংশে পোস্ট কোড লেখা হয়নি। বেশ ঝামেলায় পরলাম কারণ এটা আমার গ্রামের পোস্ট অফিসের পোস্ট কোড। বিগত পনের বছরের মধ্যে গ্রামের ঠিকানায় কোন চিঠি পাঠাইনি। তাই পোস্ট কোড জানিনা। পাসপোর্ট অফিসের দেয়ালে কোন এক সময় বাংলাদেশের সব জেলার সমস্ত পোস্ট কোড এর তালিকা টাঙ্গানো ছিল। তবে সময়ের বিবর্তনে তার অধিকাংশই কারা যেন ছিড়ে ফেলেছে। যাহোক, দুই-তিনটা ফোন করে পোস্ট কোড জানা গেল। এবার নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিলাম। সামরিক বাহিনীর পোষাক পরিহিত এক ব্যক্তি ফরমটির উপরে বেশ কিছু দিন পরের একটা তারিখ দিয়ে আরেক কাউন্টারে দেখাতে বললেন। সেই কাউন্টার থেকেও বলা হল সব ঠিক আছে তবে ফরমটা তিনি জমা নিলেন না। আমাকে জানানো হল ফরমে লিখে দেয়া তারিখে এসে ফরম জমা দিতে হবে এবং ঐ দিনই আমার ছবি তোলা হবে, হাতের আঙুলের ছাপ নেয়া হবে এবং স্বাক্ষর নেয়া হবে। বাসায় এসে খেয়াল করলাম আমাকে যে তারিখে যেতে বলা হয়েছে সে দিন ১৫ই আগস্ট মানে সরকারী ছুটি। সুতরাং আবার একদিন গেলাম পাসপোর্ট অফিসে এবং জানতে চাইলাম ১৫ই আগস্ট তাদের অফিস খোলা কিনা। জানা গেল ১৫ই আগস্ট বন্ধ। তারা ভুল করে ঐ তারিখ দিয়েছেন। এবার সংশোধন করে তারিখ দেয়া হল ৮ই আগস্ট। নির্ধারিত তারিখে সকালে পাসপোর্ট অফিস খোলার সাথে সাথে ঢুকলাম। এবার ফরম জমা নেয়া হল। ছবি, স্বাক্ষর আর আঙুলের ছাপ নেয়া হল। ৭ই সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট দেয়ার তারিখ নির্ধারন করে একটা রসিদ দেয়া হল। জানানো হল পাসপোর্ট নেয়ার জন্য পাসপোর্ট আবেদনকারীকে স্বয়ং যেতে হবে। যার পুরাতন পাসপোর্ট আছে তাকে পুরাতন পাসপোর্টটাও সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। আরও জানলাম আমার ক্ষেত্রে ৩/৪ দিন আগেই পাসপোর্ট পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কারণ পুলিস ভেরিফিকেশন করাই আছে আগের পাসপোর্টের জন্য। দেখা যাক কি হয়। তবে কোথাও কেউ ঘুষ চায়নি।
৭ই সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে এসেছি। আর কোন ঝামেলা হয়নি।আমার রসিদ জমা দেয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই পেয়ে গেছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


