মানুষ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তার এই সংগ্রাম করার পেছনে শুধু তার নিজের স্বার্থই নিহিত নয়। এর পেছনে জড়িয়ে আছে তার কাছের এবং ঘনিষ্টজনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারণ। তারে এই দিগ্বিদিক ছুটে চলা জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকে আরও অনেক জীবন; যে জীবনগুলোর দায়ভার তার উপরে বর্তায়। তার সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে কয়টি উপাদান অপরিহার্য, এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি। এগুলো অর্জনের জন্য সে অর্থের পেছনে দৌঁড়ায়। ন্যূনতমভাবে বেঁচে থাকার জন্য অর্থ তার কাছে থাকলেও, সে আরোও অর্থের জন্য আরোও জোরে দৌঁড়ায়। অর্থ উপার্জন করতে করতে একসময় সে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে। কিন্তু সে সম্পদ অর্জনের জন্য সে তার শ্রেষ্ঠ সম্পদ স্বাস্থ্যকে হারায়। আবার সে তার স্বাস্থ্যকে পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে তার অর্জিত সম্পদ ব্যয় করে। মানব চরিত্র এমনই অদ্ভুত। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সে তার বর্তমানকে ধ্বংস করে; আবার ভবিষ্যতে অতীতের কথা স্মরণ করে কাঁদে। মানুষ যদি তার অন্তরচক্ষু একটু খোলা রেখে তার নিজের জীবনের বৈচিত্রতাকে নিয়ে ভাবতো তাহলে হয়তোবা সে হয়ে উঠতো জীবন-বিনির্মাণে একজন অভিজ্ঞ কারিগর।এমনটা হলে ক্ষণস্থায়ী জীবনকে চিরস্থায়ী ভেবে সে তার জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিতো না। সে এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করে যে, সে কখনোই মরবে না; আবার এমনভাবেই সে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় যেন সে কখনোও জন্মায়ইনি। জীবনের সার্থকতা কীসে?

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১৫ রাত ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




