somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশু রাজন: আমাদের বিবেক ও কিছু দায়বদ্ধতা-

১৪ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলি থেকে ফুল হয়ে ফোটার আগেই জীবনের বৃন্ত থেকে অকালে ছিঁড়ে ফেলা হলো শিশু রাজনের জীবনকে। কী দোষ করেছিল সেই শিশুটি? কী দোষ করেছিল তার হতভাগী মা; যে মা জন্মদানের পর থেকেই খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে শিশু রাজনকে একটু একটু করে বড় করে তুলছিল। ছেলে বড় হবে, মা-বাবার দুঃখ দূর করবে- এইটুকুই সামান্য আশাই তো ছিল। বাবা গাড়িচালক, তাই সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা। এঅবস্থায় বাবাকে সাহায্য করতে সেও সবজি বিক্রি করে যা দু-চার টাকা আয় করতো, তা তুলে দিত তার মায়ের হাতে।এমনি করেই চলছিল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাজন এবং তার পরিবারের দিনকাল।
শিশু রাজন- যে বয়সে ব্যাগ কাঁধে করে স্কুলে যাওয়ার কথা, খেলা-ধূলা আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হৈ-হুল্লোর করে দিন কাটানোর কথা- সেই বয়সেই ছোট প্রাণের কাঁধে বড় বোঝা সংসারের। এটুকু বয়সেই জীবন যুদ্ধের সৈনিক সে। কারণ তার ভেতরে বিবেকবোধ ছিল যে- মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে হবে, তার বিবেক জাগ্রত ছিল এই কারণে যে- বাবাকে তার সাহায্য করতে হবে। কিন্তু ছোট্ট সেই শিশুটির বিবেকবোধের কাছে আজ আমরা যারা ছিলাম বা আছি তাদের বিবেকবোধ পরাজিত।
আজ রাগে- ক্ষোভে- দুঃখে বোবা কষ্টে আর অমার্জনীয় অপরাধবোধ থেকে ভেতর থেকে একটি কথাই শুধু বারবার উচ্চারিত হচ্ছে- তখন কোথায় ছিলাম আমরা? কোথায় ছিল তথাকথিত জাগ্রত বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষগুলো? যখন শিশু রাজনকে প্রকাশ্যে দিবালোকে জনসমক্ষে দুস্কৃতিকারী এই খুনিরা নির্মমভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করছিল- তখন কোথায় ছিল আমাদের তথাকথিত বিবেক আর মনুষ্যত্ববোধ।
আশেপাশে কী একজন বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন না?- যে মানুষটি এই বীভৎস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করতে পারতেন।
সমাজে আমার নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাই সবসময়। কিন্তু তথাকথিত ভালোমানুষগুলো কোনোদিনও এক হতে পারি না। আর এ সুযোগেই সমাজের খারাপ মানুষগুলোর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা। আমরা নামকাওয়াস্তে ভালোমানুষগুলো একতাবদ্ধ হতে পারি না বলেই অপরাধীদের হাত দিন দিন আরোও লম্বা হচ্ছে, ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। এ দোষ কার? এ দোষ আমাদের, এ দায়বদ্ধতা আমাদেরই।
আমাদের এই ঘুমন্ত বিবেকবোধ সমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে না। প্রতিদিন এরকম শতশত শিশু রাজন নির্যাতিত হবে, খুনিদের ধারালো থাবায় অকালে জীবনপ্রদীপ নিভে যাবে- তবুও আমরা কিছু করতে পারবো না। যতদিন না আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে না পারবো, ততদিন মার খেয়ে যাবো সু-বিবেচকের দল।
আসুন আমরা আমাদের বিবেকবোধকে জাগ্রত করি। ভবিষ্যতে যেন এধরনের ঘটনার দাঁতভাঙ্গা জবাব যেন আমরা দিতে পারি, যেন তীব্র প্রতিবাদ করতে পারি। খুনি কামরুল মুষ্টিমেয় কয়েকজন, আমরা শত শত জন।
রাজন- আমরা তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না। এ লজ্জা আমাদের, এ লজ্জা আমাদের পুরো জাতির। পারলে তুই আমাদের ক্ষমা করে দিস....ক্ষমা করে দিস।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ২:০১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×