somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একদিন স্বপ্নের দিন..........................

২৯ শে মে, ২০১১ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৯৯ বছর কেটে গেল।কেউ ভাঙ্গতে পারলো না।

কি ভাঙ্গতে পারলো না?একটা "রেকর্ড"।"রেকর্ড হয়ই সেটা ভাঙ্গার জন্য" এই আপ্তবাক্যে যারা অন্ধবিশ্বাসী তারা ইতিমধ্যেই চোখ কুঁচকে ভাবার চেষ্টা করছেন কোন রেকর্ডের কথা বলা হচ্ছে।কোন রেকর্ডের কথা বলা হচ্ছে যেটা ৯৯ বছর পরেও অটুট?

তার রেকর্ড একেবারেই সাধারণ। ৮ টেস্টে ২৬.১৮ গড়ে ১৮ উইকেট ১৭.০০ গড়ে ১৫৩ রান, ৭টি ক্যাচ।কিন্তু এই রেকর্ড যার তিনি কোনভাবেই সাধারণ নন।সেটিও শুধুমাত্র একটি দিনের কারণে।যে দিনটি নিয়ে এতো কথা সেই দিনের সূর্য যেন উঠেছিল শুধুমাত্র,শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র "টমাস জেমস ম্যাথুজ"এর জন্যই।

এরকম "সাধারণ" একজন বোলারের জন্য স্বপ্নের দিন কি হতে পারে?কি বললেন ?"হ্যাট্রিক"।হ্যাঁ, তিনি সেটি করেছিলেন।কিন্তু টেস্টের ১৩৪ বছরের ইতিহাসে তো হ্যাট্রিক কম দেখা জায়নি।এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ টি হ্যাট্রিক হয়েছে।তাহলে?কি সেই কীর্তি যার জন্য ম্যাথুজ অমর হয়ে আছেন?

আগেই বলেছি,টেস্টে এখন পর্যন্ত হ্যাট্রিক হয়েছে ৩৮ টি।এদের মধ্য থেকে ম্যাথুজ প্রথমেই একটু আলাদা হয়ে যান,কারন এই ৩৮টির দুটো তার।চমকে উঠলেন?মজার ব্যাপার হচ্ছে,এই কীর্তিতেও তিনি একা নন।এই তালিকায় আছেন ম্যাথুজের স্বদেশী হিউ ট্র্রাম্বল এবং পাকিস্তানি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম।তাহলে?
কোন রেকর্ডের কথা বলা হচ্ছে?


ম্যাথুজের মতো ডাবল হ্যাট্রিক করেছেন হিউ ট্র্রাম্বল আর ওয়াসিম আকরাম।ট্র্রাম্বলের রেকর্ডও যথেষ্ট ভাল।আর ওয়াসিম আকরাম তো সর্বকালের গ্রেটদের তালিকাতেই পড়েন।কিন্তু ম্যাথুজের যা আছে তা এদের কারো নেই।ওয়াসিম আকরামের দুটো হ্যাট্রিক পর পর দুই টেস্টে।কিন্তু "ম্যাথুজের দুটো হ্যাট্রিক একই টেস্টে।"
বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়, "ম্যাথুজের দুটো হ্যাট্রিক একই দিনে।"

কি?চমকে গেলেন?চলুন আমরা ফিরে যাই ১৯১২ সালের ২৮ মে যেদিন স্বপ্ন ধরা দিয়েছিল ম্যাথুজের হাতে।

২৮ মে,১৯১২।খেলা হচ্ছিল ওল্ড ট্রাফোর্ডে।প্রতিপক্ষ কে ছিল বলুন দেখি।কি বল্লেন?ইংল্যান্ড।হয়নি।ম্যাথুজের আগুনে পুড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

এখন যেমন ত্রি-দেশীয় সিরিজ হয়,সেবার ইংল্যান্ড,অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা মিলে খেলছিল ত্রি-দেশীয় টেস্ট সিরিজ।ম্যাথুজের ওই দুই হ্যাট্রিক টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই।অস্ট্রেলিয়ার ৪৪৮ রানের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ৭ উইকেটে ২৬৫,ঠিক তখনই ম্যাথুজ ম্যাজিক।প্রথমে বোল্ড করলেন "রোলাণ্ড বিউমণ্ড"কে,পরের বলে এলবিডব্লু হলেন প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়া "সিড পেগলার" এবং পরের বলে এলবিডব্লু উইকেটকিপার "টম ওয়ার্ড"।

প্রথম হ্যাট্রিকের ঘণ্টা দুয়েক পরে আবারও হ্যাট্রিক করলেন ম্যাথুজ।দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ৫ উইকেটে ৭০ তখন শুরু হল ম্যাথুজ ম্যাজিকের ২য় পর্ব।প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেট হিসেবে বিবেচিত "হারবি টেলর"কে বোল্ড,"রেগি শোয়ারজ"কে কট অ্যান্ড বোল্ড করার পর আবারও ম্যাথুজের হ্যাট্রিকের মুখে ব্যাট করতে নামলেন "টম ওয়ার্ড"।তাকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে হ্যাট্রিক পূর্ণ করলেন ম্যাথুজ।

ওই একটি দিন বাদ দিলে ম্যাথুজের ক্যারিয়ারে বলার মতো কিছুই থাকে না।তার খেলা বাকি ৭ টেস্টে উইকেট ১০টি।তার খেলা ৮ টেস্টের ৬ টিই এই সিরিজে,১৮ উইকেটের ১৫ টিই পান তাতে।ব্যাট হাতেও খারাপ ছিলেন না ম্যাথুজ।টেস্ট অভিষেকেই তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৫৩ রান।তবে এসব কিছু জানার প্রয়োজন নেই,তার গুরুত্বও নেই তেমন।হাফ সেঞ্চুরি,সেঞ্চুরি,ইনিংসে ৫ উইকেট,ম্যাচে ১০ উইকেট অনেক দেখেছে ক্রিকেট।হ্যাট্রিক অনেক না হলেও কম দেখা হয়নি।কিন্তু এক টেস্টে দুই হ্যাট্রিক।এক দিনে দুই হ্যাট্রিক।"টমাস জেমস ম্যাথুজ" মরবেন না কোনোদিন।


(বি.দ্র. গতকাল ছিল ২৮ মে। ম্যাথুজের কীর্তির ৯৯ বছর পূর্তিতে আমার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই পোস্ট।)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×