somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুষার দেশে আমার এক একটা দিন....২৩তম পর্ব।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বহু পরিচিত জায়গা, অনেক চেনা কোন মানুষ, কিংবা খুব সাধারন ঘটনা, যখন অন্বোভ্যাসে পরিনত হয়, তখন কোথায় যেন মেলে না হিসাব। মেলে না সেই তাল আর সুর এক সাথে। প্রায় আড়াই বছর পর আজ এ্যালেনের সাথে দেখা হওয়াটা যেন সে রকম একটা সুর তালের ছন্দ না মেলা একটা গান হয়ে বেজে উঠে ছিল কোলাহল মুখর এই শহরটাতে।

এরকম ব্যস্ত কোন রাস্তায়, কিংবা কোন রেস্তোরার সামনেই সবসময় দেখা করতাম আমরা। দুপুরের রোদে, কিংবা ঠান্ডায় জমে যাওয়া কোন বিকেলে, কখোনোবা সকালের নাস্তা না করা খালি পেটের কষ্ট সহ্য করা বিরক্তিকর অপেক্ষায়। দেখা হয়েছে লক্ষ বার। কিন্তু আজ এই সহজ, খুব সাধারন, বহু পরিচিত জায়গা, সময় কিংবা উপলক্ষ সব কিছুই যেন অচেনা, অনেক বেশি অন্য রকম। আমার গানের কথাগুলো যেন সুর পাচ্ছিল না, এ্যলেনের তাল যেন আমার সেই সুর আর কথার ছন্দে মিলছিল না এক হয়ে।

কিন্তু তবু যেন মনে হচ্ছিল, এই অনেক আপন সুরগুলোই যেন মুখ্য, না মেলা তাল, হারিয়ে যাওয়া কথাগুলো যেন কিছুই না। এই সুরের খেলাই যেন আমার জন্য সব। আমার না দেখা পৃথিবী, না পাওয়া সুখ, না জানা আনন্দ, না শেখা কোন খেলা। কেমন যেন এক ঘোরের মাঝে কেটে গেল সময়টুকু। বুঝে উঠবার আগেই যেন দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামলো আমাকে না বলেই। আর অনেক না বলা কথার ফাঁকে, সন্ধ্যের যেন বিদায়ের ঘন্টা বাজালো সময়ের কাছে কোন প্রশ্ন না করেই।

এই দেখা করাটা জানতাম বিশেষ কিছু। গত একটা সপ্তাহ হাজারটা কথা ভেবেছি এই অল্প সময়ের দেখা করাটা নিয়ে। জানি হয়তো এটাই আমাদের শেষ দেখা হওয়া, হয়তো আরো দেখা হবে, হয়তো পরিস্থিতি আর এরকম থাকবেনা। কিন্তু আজ যতক্ষন ওর সাথে ছিলাম একবারও মনে হয়নি, এটাই আমাদের শেষ দেখা, মনে হয়নি আমার অনেক চেনা-আপন এই মানুষটা আর আমার আপন থাকবেনা, থাকবেনা আমার হয়ে। আমি কি বদলে গেছি? না কি হাজারো ইট পাথরের তৌরী দেয়াল আমাকে আড়াল করে রেখেছে বাস্তবতা থেকে। আমি কি আমার মাঝে নেই?

কি জানি? কেবল বিদায় নেবার সময় যখন হাতটা বাড়িয়ে দিলাম, শেষবারের মতো বিদায়ের সম্ভাষন জানাবার জন্য, কেপে উঠেছিল গলাটা। ধরে এসেছিল কথাগুলো। বলবার আগেই যেন শেষ হয়ে গেল সব, হঠাৎ দেখলাম এ্যলেন পিছন ফিরে হেটে যাচ্ছে। পরক্ষনেই মনে হলো, আমার পৃথিবীটা যেন খালি হয়ে গেল, শুন্যতায় ভরে গেল এই কোলাহল মুখর ডাউনটাউনের হাইরাইজে ঘেরা বিশাল রাস্তাটা। ও যেন আমাকে বড্ড বেশি নিঃস করে দিয়ে অজানার পথে পা বাড়ালো, ফিরেও তাকালো না।
হয়তো ওর চোখে পানি ছিল, কিংবা বলবার কোন কথা ছিলনা। কিংবা আমার চেয়েও বেশি অসহায় সে নিজেই, তাই তো আমাকে আর তার পৃথিবীর আভাস বুঝতে দিলনা বরাবরের মতোই।
বিকাল ৬টা,
৯ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১২:২৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×