somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টিভেজা সময়ের অন্তঃপ্রাণালাপন

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালের শুরুটা সেদিন অদ্ভুত রকমের! কাঠফাটা রোদ। হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই ঝুম বৃষ্টি! এমন বৃষ্টিতে ভেজার বা দু'চার লাইন কবিতা লিখবে- সেই ছেলে নয় বেঞ্জো। জানালার বাইরে বৃষ্টি দেখে আবার দিলো ঘুম। এ ঘুম যেন চির-নির্জনতার! একা একলা নিশ্চিন্ত এবং চুপচাপ একটি ঘুম, যেন এ পৃথিবীতে একটিই দায়িত্ব ঘুম, ঘুম.......। এদিকে তার মোবাইল নামক যন্ত্রটি কতোবার যে বেজে উঠছে টেরই পেল না। ঘুম ভাঙলো কলিংবেলের কর্কশ শব্দে। বাসায় কেউ নেইও যে গিয়ে খুলে দেবে। যাবে যাবে করছে বেঞ্জো এই সময় দেখলো মোবাইলটি আবার বেজে উঠছে। কে.. আরে? পার্ল? ইশ... ১১টি মিসকল?


বেঞ্জোঃ হ্যালো, পার্ল?
পার্লঃ তুমি দরজা খুলবা, নাকি আমি চিরতরে তোমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ
করে দেব?
বেঞ্জোঃ মানে কি?
পার্লঃ হ্যাঁ, এটাই মানে। আমি তোমার বাসার দরজার সামনে।

বেঞ্জোঃ (দরজা খুলে)... আসলে বুচ্ছ আমার মনেই ছিলো না। এই কানে ধরলাম,
আমি এমন ভুল জীবনেও করবো না। আসলে ঘুমের মধ্যে কোন কিছুই
মাথায় ছিল না।
পার্লঃ আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিবা, নাকি এই ভেজা শরীরে তোমার দরজার
সামনে দাড়িয়েই রাখবা?
বেঞ্জোঃ (হাসি দিয়ে)... আসো আসো। সরি কেমন?
পার্লঃ আংকেল-আন্টি কোথায়?
বেঞ্জোঃ আব্বু-আম্মু খালামনির বাসায় গেছে। তোমার জন্য টাওয়েল আনি?
পার্লঃ না, তুমি দাঁড়িয়েই থাকো। পাগল...


রুমটা তো বেশ গোছালো দেখছি। ভালোই, তা আপনার ঘুম কি শেষ
হয়েছে না আরো ঘুমাবেন?
বেঞ্জোঃ কি যে বলোনা। আসলে জানো তো সকালে এতো বৃষ্টি ছিল! আমাদের
আজ ছবির হাটে দেখা করার কথা। আর আমি ভুলেই গেলাম। আমি
অনেক সরি পার্ল, প্লিজ।
পার্লঃ আমি তোমাকে কিছু বলেছি? আমি রাগ করেছি কেউ দরজা কেন খুলছে
না- এই জন্যে।
বেঞ্জোঃ সেটার জন্যেও সরি।
পার্লঃ আর একবার সরি বলবা, মাটিতে পুঁতে ফেলবো!
বেঞ্জোঃ সরি, আর সরি বলবো না।
পার্লঃ আবার? ফাজলামি করবা আমার সাথে?
বেঞ্জোঃ না ঠিক আছে। চলো বারান্দায় গিয়ে একটু বসি।
পার্লঃ হুম, চলো..।

(অনেকক্ষণ চুপ থেকে)

পার্লঃ আকাশটা আবার মেঘ করেছে। বাতাস হবে মনে হয়..
বেঞ্জোঃ হুম, হতে পারে। হবেই মনে হয়। আচ্ছা, তুমি একটু বসো- আমি আসছি।
পার্লঃ কেনো, কই যাবা?
বেঞ্জোঃ বসোই না। আমি আসছি কিছুক্ষন পরে।



চুলোয় চা বসিয়ে বেঞ্জো আবার ফিরে আসলো বারান্দায়। না পার্লের কাছে না। তার থেকে একটু দূরে, পেছনে। পার্ল টের পাচ্ছে না যে, তার রূপে তার মধ্যে কি এক অভাবনীয় ব্যাপারে, বেঞ্জো অবাক হয়ে তাকিয়েই আছে। এলোমেলো বাতাস, পার্লের চুলগুলো উড়ছে। মেয়েটি মনে মনে কেন জানি হাসছে। কেন হাসছে? কে জানে! হাসুক না, ও হাসলেই তো পৃথিবী হাসে। ইজি চেয়ারটায় বসে খোলা বারান্দায় পার্ল দোল খাচ্ছে। অদ্ভুত সুন্দর একটি গন্ধ একটি আবেশ যেন বেঞ্জোকে গ্রাস করে নিয়ে যায়। এ মুহূর্তে বেঞ্জো প্রস্তুত নয় পার্লের চোখের দিকে তাকানোর। কারন পার্লের চোখের মাঝেই সবচেয়ে বেশি বিশেষত্ব খুজে নিয়েছে বেঞ্জো। তার ধূসর চোখ জোড়ায় এ মুহূর্তে হার মেনে নিতে রাজি নয় বেঞ্জো।

দেখতে দেখতেই আবার বৃষ্টি...।

পার্লঃ এই কি করো? চা বানাও? (দৌড়ে এসে)
বেঞ্জোঃ হ্যাঁ, বারান্দায় চলো। এখানে কেনো আসলা?
পার্লঃ বৃষ্টি হচ্ছে তো পাগল! ওখানে কিভাবে চা খাবা?
বেঞ্জোঃ আমার খুব ইচ্ছে বুঝলে, একদিন খুব আয়োজন করে বৃষ্টিতে ভিজবো;
সাথে এককাপ চা। বৃষ্টির পানি চায়ের কাপে এসে পড়বে। গরম চায়ে
টুপ টুপ করে আকাশ থেকে আসা ঠাণ্ডা পানি! গরম চা আর আকাশের
পানি একসাথে গিলবো। চলো প্লিজ।
পার্লঃ হুম, চলো...।

আজকের আকাশটা কি ইচ্ছে মতো কাঁদছে? এতো বৃষ্টি কেন? যেন সব ধুয়ে ফেলতে চায়। পার্ল এক মনে কোথায় যেন তাকিয়ে আছে, হাতে চায়ের কাপ। বেঞ্জো শুধু উপভোগই করছিল। এমন সুন্দর হবার কথা কি ছিল আজ? আজ তো বরং পার্ল তার সাথে রাগ করার কথা ছিল। সকালে ঘুমটা ভাঙেনি, এতে কি প্রকৃতির খেয়াল ছিল? কে জানে? পার্লের ডান হাতটা ধরলো বেঞ্জো, তার হাতটি সহ বাড়িয়ে দিলো বারান্দা থেকে একটু বাইরের দিকে। চায়ের কাপে বৃষ্টির ফোঁটা। এতো সুন্দর লাগছিল দৃশ্যটি, এতো সুন্দর! চা মুখে নিয়ে মনে হচ্ছিল জীবনটা কতোই না সুন্দর, কতোই না!



পার্লঃ তুমি আমাকে কতটুকু ভালোবাসো? জানতে ইচ্ছে করছে, বলবা?
বেঞ্জোঃ এত্তগুলা।
পার্লঃ মানে?
বেঞ্জোঃ যতোগুলো বৃষ্টির ফোঁটা দেখছো, তত্তগুলা!
পার্লঃ বাড়িয়ে বলতেছো, না?
বেঞ্জোঃ না, কমিয়েই বললাম। কারন তোমার জন্য আমার আবেগ আর
ভালোবাসা যাই বলো- তার পরিমান আমি ঠিক বলতে পারবো না
এটুক বলবো অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। অনেক বেশি হারিয়ে
যাই তোমার চোখে। সেই কতদিন হয়ে গেলো! তোমার চোখ আমাকে
কোথায় যেন নিয়ে যায়, আমার আর কিছুই তো করার থাকে না।
তখন আমি বাধ্য হয়ে যাই তোমাকে ভালোবাসতে।

পার্লঃ আচ্ছা, জীবন কি গল্পের মতো না গল্প থেকেই জীবন? ভালোবাসা কি
গল্পে থাকে নাকি জীবন থেকে চুরি হয়, বলবে?
বেঞ্জোঃ তোমার সিরিয়াস প্রশ্ন! ব্যাপার কি? এটা বল যে গল্প মানুষের সৃষ্টি
আর জীবন জীবনের মতো। হয়তো সুন্দর, না হয় তৃষ্ণার্ত কাক! আর
ভালোবাসা তো এ জগতের ব্যাপার না। এটি সাধনার বিষয়, পবিত্র
অনুভুতি আর অনুভবের বিষয়।
পার্লঃ আজকের বৃষ্টিটা একটু অন্যরকম লাগছে, যদিও আমার মনে হয় আজ
রাগ করার কথা ছিল, কি বল?
বেঞ্জোঃ এখন আমাকে কি সরি বলাতেই চাচ্ছো? না, আমি এখন সরি বলবো
না, শুধুই উপভোগ করবো। জীবনটা যদি এই মুহূর্ততেই পার করে দেয়া
যেত! যদি আর কখনো ভালোবাসায় ক্লান্তি না আসতো।
পার্লঃ তোমার কি অনেক ভালো লাগছে, বেঞ্জো?
বেঞ্জোঃ হুম...অনেক বেশি। আমার একটি স্বপ্নের দিন কাটছে। আজ আকাশের
মন ভালো। মনে হয় শুধু তোমার আর আমার জন্যে এতো ঘটা
করে বৃষ্টি আসলো জীবন যে এতোই সুন্দর, ভাবিনি, সত্যিই ভাবিনি।
পার্লঃ আমাকে তো জিজ্ঞেস করলে না, আমার কেমন লাগছে?
বেঞ্জোঃ (হাসি দিয়ে)...দুঃখিত! সরি তো বলতে পারছি না।
পার্লঃ এ সময়টা আসলেই ভালো লাগার মতো, অনেক ভালো লাগার। তবে
একটু পাগলামিও হয়তো।
বেঞ্জোঃ কিছু কিছু পাগলামি জীবনটার মানে বোঝায়, জীবনের মানে দাঁড়
করায়। তা হতে পারে বেঁচে থাকো আনন্দে, সজীব চোখে। বেঁচে থাকো
বৃষ্টিতে আর এই চায়ের কাপে। কবিতার মতো বলতে চেয়েও পারলাম
না। সামনে যে তুমি দাঁড়িয়ে!
পার্লঃ মানে কি? বলো, আমি কি করলাম তোমাকে?
বেঞ্জোঃ তোমাকে দেখে আমার কবিতার দৌড় বড় জোর দু'লাইন, তারপর আমার কাছে
তুমি শুধুই গল্প, শুধুই গান। তুমি শুধুই তুমিময়......


"You fill up my senses like a night in the forest,
like the mountains in springtime, like a walk in the rain,
like a storm in the desert, like a sleepy blue ocean.
You fill up my senses, come fill me again"



-অনিক হোসাইন
................................................

(একদা লিখেছিলাম, সময় মনে নেই)
বনশ্রী, ঢাকা
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×