somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত ভাবনা

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল প্রায়ই আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হচ্ছি যেগুলোর জন্য আমরা প্রস্তুত নই। সিদ্ধান্তগুলো পূর্বে কোন আলোচনা বা মতামত বিশ্লেষণ ছাড়াই নেয়া হচ্ছে। তারপর শুরু হচ্ছে এগুলো নিয়ে তোলপাড়। এরকম কয়েকটা বিষয় আমি আলোকপাত করতে চাই।

ক্রমাণুসারে, প্রথমেই যেটা বলতে চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়।এ বছরভর্তি পরীক্ষায় পাশের হার খুবই কম। ইংরেজি বিষয়ে পড়ার যোগ্যতা আছে মাত্র দুইজন শিক্ষার্থীর। এর আগের কোন বছর ভর্তি পরীক্ষায় যেহেতু এরকম বিপর্যয় ঘটেনি, তাহলে বুঝতে হবে এর পিছনে নিশ্চয় কারণ আছে। এর জন্য দায়ী আমাদের শিক্ষহাব্যবস্থা এবং পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেয়ায় মাত্রারিক্ত উদারতা। আর উপরি হিসেবা এখন যুক্ত হয়েছে প্রশ্নফাঁস। আমাদের পাঠ্যবইয়ের সিলেবাস বছর বছর পরিবর্তিত হয়। এখন সহজেই জিপিএ ৫ পাওয়া যায় দেখে শিক্ষার্থীরা বেশি পড়াশোনায় আগ্রহী না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন পাওয়া। এতে করে শিকশার্থীরা কোন বিষয়ের গভীরে জানার অনুপ্রেরণা পায় না। এর প্রভাব পড়ছে ভর্তি পরীক্ষায়। ফলে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে খারাপ। এই অবস্থায় আভাস পাওয়া যায়, ভর্তি পরীক্ষাই বন্ধ করে দেয়া হবে পিছনের ত্রুটিগুলোর সংশোধন ছাড়াই।

এরপরই জনসমক্ষে আসে মাথায় রীতিমর বাজ পড়ার মত একটা বিষয়। মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ করা যায় কিনা – এই বিষয়ে মতামত। বাংলাদেশের মত একটা উন্নয়নশীল দেশে এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা মাথায় আসাই তো অবান্তর! অনেক উন্নত দেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ হলেও তাদের প্রেক্ষাপট আমাদের মত না। যে দেশে প্রতি ৫১ জনে একজন মা মাতৃত্বকালীন সময়ে অথবা সন্তান জন্মদেয়ার সময় মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকে (আয়ারল্যান্ডে ৪৭,৬০০ জনে একজন) এবং প্রতিবছর ১২০০ জন মহিলা গর্ভাবস্থা থেকে সন্তান জন্ম দেয়ার সময় মৃত্যুবরণ করে, সে দেশে বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার অর্থ কি তা আর বলার অবকাশ রাখে না।
(সূত্রঃ Click This Link)
তবে আশার কথা এই যে, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরই রাখা হবে। আমরা বিশ্বাস করতে ভালোবাসি যে, তারা তাদের কথা রাখবেন।

আরেকটা যে স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তের কথা আজকাল শুনছি, তা হলো – সামনের বছর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তিপরীক্ষা দেয়া যাবে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও একই পথ অনুসরণ করছে। হঠাতই এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তাদের বাস্তব প্রেক্ষাপট নিয়ে একটু ভাবা উচিত ছিল। প্রথমত, এবার এইচএসসি পরীক্ষার দুই মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। ফলে যারা প্রথমবার পরীক্ষা দিল তাদের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার সময় কম ছিল। দ্বিতীয়ত, আগে থেকে জানানো হয় নি। আগে থেকে জানা থাকলে শিক্ষার্থীরা আরো বেশি সচেতন থাকতে পারতো। তৃতীয়ত, এরাই ছিল প্রথম ব্যাচ যারা সৃজনশীল পদ্ধতিতে এইচএসসি পরীক্ষা দিল। আগে থেকে প্রশ্নের পদ্ধতি সম্পর্কে পরিচিত না থাকায় এক্ষেত্রেও তাদের নতুন অভিজ্ঞতা। চতুর্থত, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য শুধুমাত্র তাদের বছরের বইয়ের সিলেবাস ছিল অনেক বেশি যা পরবর্তী ব্যাচের জন্য পরিবর্তিত করে কিছুটা হলেও সংক্ষেপ করা হয়েছে। কাজেই একটা বছরের শিক্ষার্থীদের উপর এতোকরম গবেষণা না চালালেও হতো। আমার ব্যক্তিগত মতামত, ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত যেকোন সিদ্ধান্ত এমনভাবে নেয়া উচিত যাতে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অন্তত এক বছর আগে থেকে জানতে পারে।

আগের কোন পূর্বাভাস ছাড়াই এরকম সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কি বলা উচিত বুঝতে পারিনা। যারা এইসব সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক তারা আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের দলেই পড়েন। কোন রকম মতামত বিশ্লেষণ ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত আমাদের মত সাধারণ মানুষদেরকে সত্যিই ভাবায়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×