somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোহাম্মদ আব্দুর রব, বীর-উত্তম

২২ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুর রব, এমএনএ

আনোয়ার শাহজাহান: মো. আব্দুর রব, এমএনএ হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে ১৯১৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মনোয়ার আলী এবং মাতা রশিদা বেগম।

আব্দুর রব হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর সিলেটের এমই কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন এবং ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করে ১৯৪৪ সালে কমিশন লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চলে আসেন। সাফল্যের সাথে সেনাবাহিনীতে কর্মরত থেকে ১৯৭০ সালের ২৪ আগস্ট অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ১৬০টি আসন ও প্রাদেশিক পরিষদের ২৮৮টি আসন লাভ করা সত্ত্বেও পাকিস্তানের জান্তা সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা শুরু করে। ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সামরিক আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুর রব, এমএনএ মানিক চৌধুরীকে সাথে নিয়ে আনসার, ইপিআর, পুলিশ ও স্থানীয় ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে বিশাল বাহিনী গঠন করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত সে সময় ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আব্দুর রবের আহ্বানে তিনি সে সময়ই সশস্ত্র আন্দোলনের দিকনির্দেশনা প্রদানসহ প্রাথমিক প্রতিরোধের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে এই সশস্ত্র দলই ৪ নম্বর সেক্টরের মূল বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হয়। ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশের এক সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো হলে আব্দুর রবকে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে মনোনীত করা হয়। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে অন্য দায়িত্বশীলদের মতো তিনিও শপথ গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন আব্দুর রব।

১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর হেলিকপ্টারযোগে প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীর সাথে ফেঞ্চুগঞ্জে যাওয়ার পথে তাঁদের হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তিনি আহত হন। তাঁর পায়ে গুলি লাগে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের আগরতলায় প্রেরণ করা হয়।

সুনিপুণভাবে যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুদ্ধরত সেনাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে চূড়ান্ত বিজয়কে তরান্বিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর-উত্তম খেতাবে ভূষিত করে। তাঁর খেতাব নম্বর ১।

আব্দুর রব চিরকুমার ছিলেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।


তথ্যসূত্র ■■■
স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা - আনোয়ার শাহজাহান

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৮ ভোর ৫:২৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কল্প-গল্প : প্রমিথিউসের শেষ রাত

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১১



“স্যার, কিছু কয়েন দেন!” মোলায়েম স্বরে বলেই হাত কচলায়।

কয়েনটি যিনি চাইলেন, তিনি একজন ভিক্ষুক। ব্যস্ত শহরের এই চৌরাস্তায় বসে নিয়মিত কয়েন আবদার করাই তার একমাত্র কাজ। মালদার পার্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একালের আওয়ামী লীগের সাথে সে কালের বিএনপির পার্থক্য কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



সে কালের বিএনপি বিভিন্ন সময় আন্দোলনের গল্প শুনাতো। একালের আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় আপা আসার গল্প শুনায়। এর মধ্যে দু’বছর পার হয়েছে আপা আসেননি। সামনে ডিসেম্বরের মহাক্ষণে আপা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামারুহ মির্জারাও সত্য মেনে নেয় যখন/ যদিও এর কোনো প্রয়োজনিয়তা আমাদের নেই॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


বিএনপি ঘরানার মুখ থেকেও যখন সত্য বেরিয়ে আসে, তখন তা ইতিহাস হয়ে থাকে!

বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ড. শামারুহ মির্জার একটি সত্য স্বীকারোক্তি......
“বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ছাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা দিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। আমাদের রেমিট্যান্স অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কান্নার প্রতিধ্বনি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


এই গল্পটি একটি ফিকশন ক্রাইম স্টোরী, বাস্তবের একটি ঘটনার ছায়াবলম্বনে লেখা হয়েছে।

১০ মে, ২০১৮। টেকনাফ।

কাউন্সিলর শামসুল আলমের (৪৮) দোতলা বাড়িটি আজ বেশ আলো ঝলমলে।

বসার ঘরে ছোট মেয়ে সুমাইয়া (১২) গণিতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×