somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মতামত পোস্ট: বাহাদুর পাকিদের আসল চেহারা (রিপোস্ট)

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে ক্ষমা ভিক্ষা করতে যাচ্ছে। হিন্দুস্থানের সাথে মিলে গাদ্দার শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র চূড়ান্তভাবে নস্যাৎ হয়েছে। ইসলামপসন্দ বাঙালিরাই রুখে দিয়েছে। মুজিবুর রহমানের পাশে দাঁড়ায়নি বাঙালি জনতা। জঙ্গে মুসলমানদের জয়, পাক সার জমিনের জয় অবশ্যম্ভাবী। শীঘ্রই চূড়ান্ত সুখবর আসছে। পাকিস্তান জিন্দাবাদ।’ পিটিভির আর্কাইভে দেখেছিলাম। ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এর দুদিন আগের খবর এগুলো। জনৈকা সংবাদ পাঠিকা সুর করে পড়ছিলো। পড়ুক। অসুবিধা নেই। যুদ্ধ জয়ের দাবি করতেই পারে। যুদ্ধ মানেই যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ। আশা ছাড়লেই শেষ। পরাজয়। কিন্তু সমস্যা হলো, পুরো যুদ্ধটাকে ওরা সম্পূর্ণভাবে হিন্দু মুসলিম রঙ দিয়েছিলো। যুদ্ধ যেন দুটো ধর্মের মাঝে হচ্ছে। একদিকে পাকিস্তানের বীর মুসলিম সেনা, অপরদিকে ভারতের নাপাক কাফির সেনা। মুসলমানদের সাথে কিছুতেই পারবে না হিন্দুরা। পাকিস্তানি মুসলমানের একটা বীর সেনা হিন্দুস্তানের দশটা ডরপোক সেনার সমান। ফলাফল এসব খবর পাঠের দুদিন পরই পাজামা খুলে ৯৩০০০+ পাকিস্তানি সৈন্যের রেসকোর্স ময়দানে হিন্দুস্তানের সামনে আত্মসমর্পণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতিহাসে দ্বিতীয়বার এতো বড়ো আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটলো। একক দেশের জন্য ওই একবারই। আগের লেখায় মন্তব্যে একজন খুব মিডিয়া মিডিয়া করছিলো দেখে ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো। পিটিভির আর্কাইভে দেখা, খবর পাঠিকার সুর করে উর্দুতে পড়া; মুক্তিযুদ্ধ ৭১। বাস্তবতা থেকে বহুদূরে মিথ্যা কাল্পনিক এক ধর্মীয় ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে দুদ্দাড় উলম্ফন পিটিভির। একাত্তর সাতচল্লিশের হিন্দু মুসলিম সংকট ছিলো না। এখানে বাঙালিরাও মুসলিম। পিটিভির খবরে সবকিছু বাদ, শুধুই হিন্দু মুসলিম যুদ্ধ। এটা আসলে এক ধরনের ব্যবসায়িক পলিসি। যে খবর পাবলিক পছন্দ করে, আনন্দ পায়, প্রচার বেশি, সে খবরই প্রকাশ করো। বাংলাদেশই শুধু নয় সারা বিশ্বের মিডিয়ারই অল্পবিস্তর এ প্রবণতা আছে। একাত্তরে নির্লজ্জভাবে করেছিলো পিটিভি। পাকিস্তানের জনগণ যা শুনতে চায়, আনন্দ পায়, উল্লাস করে; সেটাই জনগণকে গেলানো। ১৪ই ডিসেম্বরের খবরেও পাকিস্তানের নিশ্চিত জয়ের কথা বলা হয়েছিলো। একের পর এক কাফির হিন্দু সেনার মৃত্যু হচ্ছে। মুসলিম পাকসেনারা বীরদর্পে এগিয়ে চলেছে। শীঘ্রই চূড়ান্ত সুখবর আসছে। হিন্দুস্তান হাঁটু গেড়ে বসে ক্ষমাভিক্ষা করতে যাচ্ছে। জয়ের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান। তারপর ১৬ই ডিসেম্বর ৯৩০০০+ সৈন্য নিয়ে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুধর্মের কর্মকর্তাদের সামনে রেসকোর্স ময়দানে অসহায় আত্মসমর্পণ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম। সপ্তাহান্তে বন্দী পাকসেনার বিবিদের সন্তান নিয়ে ভুট্টোর বাসভবনের সামনে হাহাকার, মাতম। দলে দলে বুক চাপড়ে, চুড়ি ভেঙে প্রদর্শন। ‘ভুট্টো, হায় হায়! ভুট্টো, আমাদের স্বামীদের ফিরিয়ে আনো হিন্দুস্তান থেকে।’ সে একই কাজ আজ বাংলাদেশের মিডিয়া করছে। কাল্পনিক ইহুদি মুসলিম যুদ্ধ ফেঁদে বসেছে ভিউ বাণিজ্যের জন্য। ইসরায়েলের ইহুদি সেনারা নাস্তানাবুদ হচ্ছে, হামাস হিজবুল্লা আনসারুল্লা’র বীর মুসলিম সেনাদের হাতে! ইসরায়েল শেষ! ইহুদিরা শেষ! হা হা হা। সত্য তথ্য বাস্তবতা থেকে বহুদূর। ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে উল্লু বানানো হচ্ছে আর কিছু নয়। কিন্তু এর পরিণাম ভয়ঙ্কর। ধর্মান্ধ অসভ্য, উগ্র, বর্বর সমাজ, জাতি হয়ে গড়ে উঠছি আমরা। যেমন হয়েছে পাকিস্তান। আমাদের অবস্থা আসলে পাকিদের থেকেও খারাপ হবে!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৬
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাস্ততম শহরে এক ছুটির দিন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

নিউ ইয়র্ক দুনিয়ার অন্যতম ব্যাস্ততম শহর। বলা হয় The City that never sleeps! এরই মাঝে এবার মিলে গেলো এক ছুটির দিনে পিকনিকে যাওয়ার সুযোগ। শহরের সীমানা ছেড়ে প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১৭



সিরাজ ভাই বললেন, টেংরা মাছের ডিম আপনার কাছে কেমন লাগে?
আমি বললাম, ভালোই লাগে। শুধু রুই মাছের ডিম আমার ভালো লাগে না। সিরাজ ভাই বললেন, রুই মাছের ডিম সঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর বক্তব্য। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×