পিংলি নদীর তীর ঘেষে গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার এর বাড়ি । বাড়ি বলতে ছোট্ট একটি দোচালা ঘর । ঘরের ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁকগুলো পলিথিন দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে । ঘরের ভিটে ছিল তাঁর একমাত্র সম্বল । স্ত্রী আর চৌদ্দ বছর বয়সের একমাত্র কন্যাকে নিয়ে তাঁর সংসার । হাড্ডিসার শরীর নিয়ে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালান । মাঝে মাঝে অসুস্থ থাকলে বাড়িতে চুলা জ্বলতো না । অভুক্ত মানুষটি ঘরের ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁক দিয়ে পিংলি নদীর বহমান স্রোতের দিকে তাকিয়ে নিজের ব্যর্থতায় দীর্ঘ:শ্বাস ফেলতেন । হয়তো নদীর স্রোতে তাঁর যৌবনে দেখা স্বপ্নগুলো ভেসে যেতে দেখতেন, হয়তো ভাবতেন যৌবনের সে উত্তাল দিনগুলোর কথা । আর কি কি ভাবতেন যদি জানা যেত । হঠাৎ একদিন তাঁর ভাঙ্গা ঘরের সামনে প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ গিয়ে হাজির । ওঠোনে ঔৎসুক জনতার ভীড় । নামীদামী অনেক মানুষ । লাল সবুজের পতাকায় আচ্ছাদিত গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার এর নিথর দেহ । তাঁর শেষকৃত্য সমাগত তাই তাঁকে রাষ্ট্রের পক্ষে গার্ড অব অনার দিতে পুলিশ ফোর্সসহ গণেন্দ্র সরকারের বাড়ি গেলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবিদ । এই নিভৃতচারী দিনমজুর মানুষটি যেন রাতারাতি তারকায় পরিণত হলেন । গ্রামের মানুষজন জীবদ্দশায় মূল্যহীন গণেন্দ্র'র শেষ যাত্রার মহামুল্যবান আয়োজনে হতবাক । একদিন বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে শ্যামল বাংলার মুক্তির মিছিলে শামিল হয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি আর স্বাধিকারের নেশায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে । অনেক রক্তে স্বাধীনতার স্বাদ হয়তো পেয়েছেন কিন্তু আমৃত্যু সীমাহীন কষ্ট আর না পাওয়ার যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে হয়েছে তাঁকে । বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টিতে অবদান রাখা গণেন্দ্র জীবনকালে কি পেয়েছেন আর কি পাননি সে হিসেব হয়তো কখনো তিনি করেননি বা করতে চাননি । কিন্তু রাষ্ট্রের দায় তাতে শেষ হয়ে যায়না । দেশের একজন বীর সন্তান ও তাঁর পরিবারের দুর্দশা সদ্য চাকুরিতে প্রবেশ করা আবিদকে প্রচন্ডভাবে নাড়া দেয় । পতাকা শোভিত গণেন্দ্র সরকার এর নিথর দেহ সামনে রেখে আবিদ সেদিন পণ করেছিলেন এই বলে "জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধা গণেন্দ্র যথাযথ সম্মান না পেলেও তাঁর অসহায় মেয়ে আর স্ত্রীর জন্য কোন অবদান রাখা যায় কিনা তিনি সেটা দেখবেন " । আবিদ তাঁর কথা রেখেছিলেন । ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা গণেন্দ্র সরকার এর স্ত্রী-কন্যার নামে ৫০ শতক জমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করেছিলেন । একজন আবিদকে মুক্তিযোদ্ধা গণেন্দ্র সরকার ও তাঁর পরিবারের হতদরিদ্র অবস্থা স্পর্শ করেছিল বলে তিনি তাদের পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন । কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য দেশপ্রেমিক অসহায় গণেন্দ্রদের যথাযথ পূনর্বাসনের কী হবে ? আজ হয়তো মুক্তিযোদ্ধারা মাসে পাঁচ হাজার টাকা সম্মানী পান , সেটাও বেশিদিন আগের কথা নয়, বছরের পর বছর এসব বীরসেনানীদের অনেকের সীমাহীন দু:খ-কষ্ট, দুর্ভোগে কাটানোর ইতিহাস তাতে মুছে যাবার নয় ।
আলোচিত ব্লগ
জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন
[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]
“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"
২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন
পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।
কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি

আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।
ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন
ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।