somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘একটি মুরগীর ঠ্যাং, একজন জাভেদ ও একটি শিমুল ফুল’

১৪ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্ত, গাড়িগুলোসব উদভ্রান্তের মত ছুটছে। এমনি একটি পাগলা গাড়িতে বসে ছুটছি আমিও। পাঁচ কি ছ’মিনিট বাকি ইফতারের, কানে রেডিও লাগিয়ে বসেছিলাম; হঠাৎ আজান পরে গেল। প্রায় সবার হাতেই ঠান্ডা পানির বোতল, কিন্তু কেউই খাচ্ছেনা! আমি পাশের ভদ্রলোককে বললাম, ভাই আযান হইছে পানি খান! উনি আমার দিকে খুব অবিশ্বাস নিয়ে তাঁকিয়ে থাকলেন। আমার সামনে বসা বোরকা পরা মেয়ে দুটি ইতি উতি তাঁকাচ্ছে! ভদ্রলোক ফোন বের করলেন, ‘এই আযান কি হইছে? খাব? আচ্ছা খাইলাম কিন্তু!’ মেয়ে দু’জনও এরপর পানি খেলো! ঠিক তখন শিমুলের ফোন, জসিমউদ্দীন নামিস। হেলপারও তখন চিৎকার করছিল জসিমউদ্দীন জসিমউদ্দীন! আমি টুপ করে নেমে গেলাম। সবাই সবার মত ইফতার করায় ব্যস্ত। ভাসমান মনে হচ্ছিল নিজেকে! ফুটপাথে বসা একটি ছেলে আমার নজর কাড়ল। ময়লা জামা পড়া গভীর বিষন্ন কালো চোখের একটা ছেলে। এত মনোযোগ দিয়ে এত তৃপ্তি করে কাউকে ঝালমুড়ি খেতে কখনো দেখিনি! ছেলেটার সামনে খুব সুন্দর করে গোছানো কিছু সিগারেটের প্যাকেট, একটা প্লাস্টিকের বাক্স যেটা খুব সাবধানে হাটু দিয়ে চেপে ধরা! আমি ওর পাশে বসে বেহায়ার মত তাঁকিয়ে তাঁকিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়া দেখছিলাম! ওর স্যান্ডেল জোড়া চেয়ে বললাম, তোমার জুতার উপর বসি! সে কিছু না বলে মাথা নাড়ল, অর্থাৎ বসেন! আমি হাত-পা ছড়িয়ে বসে বললাম, ‘আমাকে ঝালমুড়ি খাওয়াও আমার কাছে কোন টাকা নাই!’ সে প্রথমে অবাক হলেও সামলে নিয়ে ঝালমুড়িওয়ালাকে হাঁক দিয়ে বলল, আরেকটা! আমি জানতে চাইলাম, ‘তোমার নাম কি?’ সে বলল জাভেদ।
জাভেদের সাথে পরবর্তী কথোপকথন:
রোজা রাখছিলা?
জ্বী!
ইফতার করলা কি ঝালমুড়ি দিয়া?
হু!
কোন ক্লাসে পড়?
পড়িনা!
এই দোকান কার?
মালিকের!
তুমি কতক্ষণ এইখানে কাজ কর?
সকাল দশটা থেইকা রাইত দশটা!
কত টাকা পাও মাসে?
দুই হাজার!
বাবা-মা কি করে?
নাই!
ও আচ্ছা..
তুমি টাকা গুনতে পার?
জ্বী!
ক্যামনে শিখছ?
ভাই শিখাইছে!
আমার ফোন বেজে উঠল। শিমুল জানতে চাইল আমি কোথায়; সে আমার জন্যে বিএফসি তে অপেক্ষা করছে। বিএফসি টা জাভেদ এর খোলা দোকানটার ঠিক সামনেই, দোতলায়। জাভেদকে বিদায় জানিয়ে বিএফসি তে গেলাম! শিমুল ঈদে তার একটা পরিকল্পনার কথা বলছিল; অনেকক্ষণ সময় পেরিয়ে গেলেও মাথার ভেতর ঘুরছে জাভেদ ছেলেটা! বিএফসি থেকে বেরোনর সময় কি মনে করে একটা ফ্রাইড চিকেন পার্সেল দিতে বললাম! শিমুল বলল আরো খাবি! বললাম ‘না! শিমুল কাউন্টারে গলা উঁচিয়ে বলল ‘লেগপিস’! কিছুক্ষনের মধ্যেই একটা ধোঁয়া ওঠা হৃষ্ঠপুষ্ট ‘লেগপিস’ চলে আসল! আমরা ‘লেগপিস’ হাতে ঝুলিয়ে বিএফসি থেকে পথে নেমে এলাম। নেমেই সোজা জাভেদের দোকানে। বিএফসি’র লাল প্যাকেটটা ওর দিকে বাড়িয়ে ধরলে সে কি বুঝল কে জানে, উল্টো আমার দিকে একটা বেনসনের প্যাকেট বাড়িয়ে ধরল। আমি মাথা নেড়ে আবার বিএফসি’র প্যাকেটটা ওর দিকে বাড়িয়ে ধরলাম। এবার সে হেসে বলল, ও আইচ্ছা গোললিফ! আমিও হেসে বললাম, না এইটা তোমার জন্যে আনছি! সে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেও সামলে নিল! প্যাকেটটা ধীরে সুস্থে হাতে নিয়েই দ্রুত হাতে খুলে ফেলল! এরপর প্যাকেট থেকে যা বেরোল সেটা দেখে সে খুবই বিভ্রান্ত! ওর অবস্থা দেখে আমিও একটু কিংকর্তব্যবিমুঢ় অবস্থায়! শিমুল তখন এগিয়ে এসে বলল, এইটারে এক হাত দিয়া ধইরা কামড় দিয়া দিয়া খাইতে হয়!’ জাভেদ খুব আগ্রহ নিয়ে খেতে গিয়ে মুখ পুড়িয়ে ফেলল! ওপরের প্রলেপটা সরে যেতেই জাভেদের বিস্মিত কন্ঠ, ‘আরে এইটাতো একটা মুরগী’র ঠ্যাং!’
শিমুল ফুলের গল্পটা ‘হ্যাপিনেস ফর অল!’ শিরোনামের পরের লেখাটায় থাকছে....।

আরিফুর রহমান
১৪.০৮.২০১২
কাঁঠালবাগান
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×