
(নিজের দোকানে সুলতান ভাই। ২০১৬ সালে তুলেছিলাম ছবিটি। সব আজ নিছকই সাদাকালো স্মৃতি।)
ঠিক কতো দিন আগের কথা পরিষ্কার বলতে পারবো না। এক যুগের কম হবে না। মুক্তদেশ প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী জাবেদ ইমন মজুমদারের মাধ্যমে প্রথম চা পান সেখানে। তখন তিন টাকা ছিলো প্রতি কাপ। পরবর্তীতে দুয়েক টাকা করে বাড়তে বাড়তে শেষ খেয়েছিলাম দশ টাকা। লেবু বিটলবণ চা, গুড়ের চা, তেতুলের চা। সড়কের পাশে ওরকম ছোটো দোকানে কাঁচের ছোটো কাপে সম্ভবত সুলতান ভাইয়ের রং চা-ই বাংলাদেশের প্রথম দশ টাকা মূল্যর চা। এর আগেও এখানে একটি লেখা লিখেছিলাম সুলতান ভাইয়ের চা নিয়ে। ওটার লিংক যুক্ত করবো।
আমার জীবনের প্রিয় একটি ব্যাপার ছিলো, পুরান ঢাকায় সুলতান ভাইয়ের দোকানে চা পান করা। চা খেতে খেতে যেন হারিয়ে যেতাম কোথাও। পৃথিবী নামের এ গ্রহের বাইরে! দারুণ সুস্বাদু উপভোগ্য লেবু বিটলবণ দিয়ে বানানো সে চা, আহা! সত্যি, যারা পান করেনি, তারা কখনও জানবে না, আসলে কতোটা সুস্বাদু আনন্দদায়ক হতে পারে এক কাপ চা। অনেকদিন পর সদরঘাটে বিশেষ একটি দরকারে গিয়েছিলাম। বেশ রাত। যাচ্ছিলাম সুলতান ভাইয়ের দোকানে। কেমন যেন একরকম দ্বিধা ছিলো মনে, হয়তো দোকানটা আর নেই সেখানে! এর আগেও একবার এরকম হয়েছিলো। পেট্রোল পাম্প থেকে পাশের পানির ট্যাংকির নিচে স্থানান্তরিত হয়েছিলো। অমঙ্গল আশংকায় বুকের ভেতরটা কেমন হাহাকারে ভরে উঠছিলো বারবার। বেশ দীর্ঘদিন পর এসেছি। আছে তো সুলতান ভাইয়ের দোকানটা!
এভাবে একসময় পানির ট্যাংকির নিচে পৌঁছে গেলাম। যা আশঙ্কা করেছিলাম তাই। খা খা করছে জায়গাটা। নেই। ওমনি তীব্র হতাশা গ্রাস করলো আমাকে। নেই! এভাবে কিছু মুহূর্ত কেটে গেলো। দুজন যুবক গল্প করছিলো পাশে। ওদের জিজ্ঞেস করলাম এ ব্যাপারে। বিস্মিত হতে দেখলাম উভয়কে। একজন জানালো যে, সুলতান ভাই মারা গেছে দেড় দু’ বছর হতে চললো। শুনে স্থবির হয়ে পড়লাম। তখনকার সে অনুভূতি আসলে শব্দ বাক্যে ব্যাক্ত করা যায় না। একজন প্রকৃত বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলো সুলতান ভাই। এক যুগেরও অধিককাল সম্পর্ক। হাজারো স্মৃতি ভিড় জমালো করোটিতে। কতো কথা কতো গল্প! সব মুহূর্তেই বড্ড অর্থহীন মনে হতে লাগলো। যেন সেসব আদৌ কখনও ঘটেনি। সব মিথ্যে।
তারপর শ্লথ পা’য়ে হাঁটতে লাগলাম গন্তব্যের দিকে। পিছনে পরে থাকলো, সাদা রঙের অতিকায় পানির টাংকিটা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



