somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে দিনগুলো ফেলে এলাম পথের বাঁকে: একটি দুর্ঘটনার স্মৃতি

২৭ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



করোনা অতিমারির সময়কার ঘটনা। ঢাকার কোথাও রেল লাইনের পাশে কিছু মানুষের ভিড় দেখে কৌতুহলী হয়ে দাঁড়ালাম। চব্বিশ পঁচিশ বছর বয়সী জনৈক যুবক চিৎ হয়ে পড়ে আছে। মাথা বেশ খানিকটা কেটে গেছে। অল্প করে রক্ত গড়াচ্ছে তখনও। ঠোঁটের কোণ থেকে গণ্ডদেশে লালা নিঃসরণের চিকন দাগ দৃশ্যমান। চারপাশে রক্ত শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে। যার পর নেই মুমূর্ষু অবস্থা। সেখানে জানলাম যে, চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে এ অবস্থা। এর বেশি জানাতে পারলো না কেউ। একজন জ্বলজ্যান্ত যুবক এভাবে দুর্ঘটনাবশত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যাবে, ব্যাপারটা হজম করা কঠিন। খুব সম্ভবত কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলো। নিছকই অনুমান অবশ্য। নিশ্চিত হবার সুযোগ ছিলো না। দুর্ঘটনাও হতে পারে। যাই হোক দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিলো, ঘটনা বেশ কিছুক্ষণ আগের। শুকনো ঘাশে রক্তের কালো দাগ। চোখ বন্ধ। কোনওরকমে শ্বাসটাই চলছিলো। মাথায় তীব্র আঘাত পেয়েছে। আশু চিকিৎসা দরকার, শুশ্রূষা দরকার। নাহলে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যু অনিবার্য। আমরা সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে তামাসা দেখছি। ঠাঠা রোদের দিন। ভীষণ গরম। খুব সম্ভবত এরকমই এপ্রিল মে’র গরম ছিলো। যাই হোক সময় গড়াতে লাগলো। মৃত্যুর কাছে চলে যাচ্ছে নিঃসাড় অসহায় যুবক। এ সময় আমি বললাম, ৯৯৯ এ কল দেয়া উচিত আমাদের। এখন এ মুহূর্তে চিকিৎসা না পেলে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হবে। আরও দুয়েকজন সুর মেলালো আমার সাথে। ৯৯৯ এ ফোন করা হলো। দুচার মিনিট পর কাছের মোর থেকে তিনটা পুলিশকে হেলেদুলে আসতে দেখলাম। ওদের একজন ঘটনাস্থলে এসে উল্টো জনতার উপরে ক্ষোভ ঝাড়তে লাগলো। এই সামান্য কারণে ৯৯৯ এ ফোন দেয়া লাগে? আপনারা নিজেরাই তো সিএনজি রিক্সায় তুলে হাসপাতালে নিতে পারেন। হেনতেন। মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। অনেক কষ্টে নিজেকে সংবরণ করলাম কড়া জবাব দেয়া থেকে। ভদ্রভাবে বুঝিয়ে বললাম যে, খুবই মুমূর্ষু অবস্থা। যে কোনও সময় মৃত্যু হতে পারে। পথে মরে গেলে লাশ নিয়ে বিপদে পড়তে হবে আমাদের। কে এসব ঝামেলায় জড়াতে চায় বলেন। আমি তো কিছুতেই রিস্ক নিবো না। তাই আরেকজনকেও উৎসাহ দিতে পারি না। সেজন্যেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশকে নক দেয়ার সিদ্ধান্ত সবার। এ পর্যায়ে ধরাধরি করে ছেলেটিকে সিএনজিতে তোলা হলো। আর ঘটনা ঠিক এ পর্যন্তই আমার জানা। তারপর ছেলেটির ভাগ্যে সেদিন কি হয়েছিলো জানি না। আমি সিএনজিতে উঠিনি। এ লেখা পড়ে হয়তো অনেকেরই আমাদেরকে ভীষণরকম নিষ্ঠুর বিবেকহীন অমানুষ মনে হচ্ছে। পশ্চিমের কোনও উন্নত সভ্য দেশের নাগরিক ুটা পড়লে, হতে পারে কুৎসিত গালি দিয়ে বসবে। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার বাস্তবতা আমরা কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারি না। পথে ছেলেটির মৃত্যু হলে আমাদের বিপদে পড়ার জোর সম্ভাবনা ছিলো। এই পুলিশ প্রশাসনই তখন বলতো, সময় মতো আনতে পারিনি বলে মৃত্যু। পাবলিকের গাফিলতি। তারপর এটার সাক্ষী দাও। সেটার সাক্ষী দাও। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াও। দস্তখত করো। টিপসই দাও। বাপের নাম গ্রামের নাম জিলার নাম বলো। এরকম বিভিন্ন হয়রানির মুখে পড়ার সম্ভাবনা শতকরার হিসেবে নব্বই ভাগ। এমনকি এরকম পরিস্থিতি থেকে এরচে’ও ঢেরবেশি বিপদে পড়ে টাকাপয়সা খোয়ানোও বিচিত্র কিছু নয় এ অসুস্থ রাষ্ট্রে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্বারাও বিভিন্ন হয়রানির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারি না। তাই আম জনতাকে সে নীরবতার জন্য চুল পরিমাণ দোষ দেবার সুযোগ নেই আমাদের সমাজব্যবস্থা বাস্তবতায়। ঘটনাটি ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয়ে আছে। আমি শুধু আশা করি যে, ছেলেটি সেদিন বেঁচে ফিরেছিলো। ভালোয় ভালোয় সব শেষ হয়েছিলো।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫০
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×