somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা,তোমার নয়না/:)

২৪ শে অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মা,
এখন মাঝ রাত। কোথাও কোন শব্দ নেই।সব নিশ্চুপ।তাই লিখতে বসলাম।
আমি তোমায় কথাগুলো অনেক দিন থেকে বলতে চাচ্ছিলাম।বলতে পারি নি।তাই আজ চিঠিতে লিখে জানাচ্ছি।
আমি ছোটবেলা ভাবতাম জীবনটা রূপকথার মত। রূপকথায় রাজপুত্র যেমন পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় আসে রাজকন্যাকে নিয়ে যায় তেমন আমাকেও কেউ নিতে আসবে।আমার সব দুঃখ কষ্ট থেকে আমাকে অনেক দুরে নিয়ে যাবে।আমি ভুল ছিলাম।জীবন যে কত কোঠর,কঠিন,নিষ্ঠুর তা জানতাম না।মা আমি এখন বুঝি মানুষ কতটুকু পশু আর পাষন্ড হয়ে গেছে!!
একটা মেয়ে হয়ে বেচে থাকা কতটা যে কষ্টকর তা আমি জেনেছি মা।মেয়েদের প্রতিদিন কত যে কষ্ট করে থাকতে হয় তা বুঝেছি।
সে দিন চাকরীর একটা interview দিতে গিয়েছিলাম।সেখানে একজন লোকের কথা শুনে আমি আর চাকরী করার কথা চিন্তা করতে পারি নি।সে বলেছিল তাদের বস থাকেন ইতালিতে।সে যখন বাংলাদেশে আসেন তখ্ন তার সাথে আমায় থাকতে হবে।তার সুবিধা অসুবিধাগুলো আমায় দেখতে হবে তার সাথে টূরে যেতে হবে।সে যা বলবে তাই করতে হবে।এগুলো করতে পারলে আমার promotion হবে.আমি কোন উত্তর দিতে পারিনি।চলে আসতে হয়েছিল সেখান থেকে।
আমি তার জন্য স্কুলগুলোকে উপযুক্ত মনে করেছিলাম।সেখানে ও আমি ভালোই কাজ করেছিলাম।আমি স্কুলের ছ্যারের কোচিংয়ে কিছু শর্তের জন্য কাজটা করছিলাম।কিন্তু স্কুলের ছাত্রদের মুখের ভাষা শুনে আর শিক্ষকদের প্রতি খারাপ আচরণে আমি আর কাজটা করতে পারিনি।
আমার আর একদিনের কথা মনে পরে।তুমি তখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলে।আমি তোমার আর বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিলাম।আমি একটা বাসে উঠেছিলাম রাত তখন ১১ঃ৩০ টা।বাসে তখনও অনেক ভিড় ছিল।অনেক কষ্ট করেও নিজেকে বাচাতে পারিনি।উফ!! যখন বাস থেকে নামতে যাচ্ছিলাম।মনে হয়েছিল আমাকে হায়েনারা ছিড়ে ফেলছে দুটো হাত দিয়ে।বাস থেকে নেমে মনে হয়েছিল মরে যাই।তারপর মনে হয়েছে আমি এই দুজনের জন্য বেচে আছি এদের জন্য আমার লড়তে হবে।নিজেকে অনেক বুঝিয়েছি। ঠিক তেমনি কিছু আজও হচ্ছে তবু আমি কিছু বলতে পারছি না।অসহায় লাগে নিজেকে।একা হয়ে গেছি আমি।কাকে বন্ধু ভাববো বলো?সবাই স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত।বন্ধুরা যেন দিন দিন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে।আর কতবার মরব?কত আর চিৎকার করে কাদব?কেউ শুনে না আমার চিৎকার।বার বার হার মানতে আর পারছি না।প্রত্যেকবার নিজেকে তৈরী করি তবু যেন আবার হেরে যাই।টাকার জন্য লোকজন কত যে খারাপ হয়ে যাচ্ছে!!!
টাকা কথা বলে।আসলেই বলে।আমি তোমাদের মুখে দুটো ভাত তুলে দিতে পারছি না এই টাকার জন্য।আমি আর পারছি না এসব বইতে।
সবাই প্রতিদিন এসবের স্বীকার হচ্ছে কিন্তু কেউ মুখ খুলতে চায় না।
মা আমি কি করব বুঝতেছি না।নিজেকে এখন অপদার্থ মনে হয়।সবাই পারতেছে তাইলে আমি কেন একা এমন কষ্ট পাচ্ছি??
আমার এ পৃথিবীতে থাকার মত অবস্থা নেই।এ পৃথিবী আমার নয়।
আসবে না কোন রাজকুমার নিয়ে যাবে না আমাকে দূরে।তাই আমি নিজেই চলে যাচ্ছি।আমাকে মাফ করে দিও।
আমি হার মানতে চাই নি এই অদ্ভুত হৃদয়হীন পৃথিবীর কাছে।তোমাদের ছেলে হতে চেয়েছিলাম।ভুলে গেছিলাম যে এটা মুখের কথা।
ভালো থেকো।
তোমার আদরের,
নয়না
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বুনো মহিষের পাল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৯



ঘনিয়ে এসেছে প্রস্থানকাল; অনেককিছুর মতো আমিও
হারিয়ে যাবো কালের গর্ভে বা কৃষ্ণচুড়ার লালে লালে।
মূলত হারিয়ে যাওয়ার জন্যই আবির্ভূত হয়ে,
মাঝখানে সবার সাথে খেলে গেলাম বনভোজন বনভোজন।

অনেকদিন ধরেই মগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×